নিজস্ব প্রতিবেদক: বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি স্যাবোটাজ কি-না সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আমাদের কিছু সংকট আছে। গ্যাস সংকট আছে। এ জন্য কে দায়ী মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দায়ী। যতগুলো জাহাজ আসতে পারত এখন সেগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে আসতে পারছে না।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
১২ দলীয় জোট এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সভায় রিজভী বলেন, দেশে গ্যাস সংকট রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে। মহেশখালীতে রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রমেও কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তবে সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে এবং শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘আজকে একটার পর একটা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি হচ্ছে। এগুলো স্যাবোটাজ কি না, সে বিষয়ে মানুষের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে বলেই সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে।’
রংপুরে একটি হিন্দু পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, সরকার দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছে। অতীতেও দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।
ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আবারও খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ছয় মাসে এক হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে।
রিজভী বলেন, ‘আজকে এসব কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।’
১২ দলীয় জোটের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জোটটি সবসময় দেশ ও গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে এবং কঠিন পরিস্থিতিতে দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। বিরোধী দল সংসদে ও সংসদের বাইরে সরকারের সমালোচনা করবে, তবে তা যেন দায়িত্বশীলতার সীমা অতিক্রম না করে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সমালোচনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, তবে তা যেন সীমালঙ্ঘন না করে। ইসলামী উত্তরাধিকার আইন নিয়ে চলমান আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানরা বাবা-মায়ের যথাযথ খোঁজখবর রাখে না। এ বিষয়ে যে আইন করা হয়েছে, তা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই হয়েছে।
জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবু হানিফ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি জাকির হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ড. মাওলানা মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মো. শামসুদ্দিন পারভেজ, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান আহসান হাবিব লিংকন, ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিম, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরী, ইউনাইটেড লিবারেল পার্টির চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান এম এ বাশার, পিএনপির চেয়ারম্যান ফিরোজ মোহাম্মদ লিটন, নয়া গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান মাস্টার আবদুল মান্নান এবং ইসলামী ঐক্য জোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আমীনসহ অন্য নেতারা।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 

















