ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে নৌযান শ্রমিক ও ব্যবসায়িদের ন্যায্য দাবী আদায়ে নির্বাহী অফিসারের সাথে সমস্যা সমাধানে মতবিনিময় সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত, সরবরাহ বন্ধ অক্টোবরে ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি করবে বিমান : মিল্লাত নিয়মিত রেড মিট খান!জেনে নিন কী হতে পারে? ফ্রান্সের জয়রথ চলছেই, তুরস্ককে হারিয়ে ইতালির স্বস্তি প্রাক্তনকে ভুলতে কত বছর লাগে? গবেষণার উত্তর চমকে দেবে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যেই মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন শুরু করলো মালয়েশিয়া রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণা-উদ্ভাবনে গুরুত্বারোপ রাষ্ট্রপতির

তুবার চোখের জল ছুঁয়ে গেল প্রশাসনের হৃদয়

দুই হাত বাঁধা অবস্থায় বাজারে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে বাবাকে। এ দৃশ্য দেখতে চারপাশে মানুষের ভিড় লেগে যায়। আর সেই ভিড় ঠেলে ছোট্ট তুবা ছুটে গিয়ে নিজের হাতে বাবাকে খাইয়ে দিচ্ছে চা ও রুটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বাবা-মেয়ের এ হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য নাড়া দিয়েছে মানুষের বিবেককে। এবার সেই তুবার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে তিন মাসের জন্য রিহ্যাবে পাঠানো হয়েছে তুবার বাবা রায়হানুল হক অনিককে। একই সঙ্গে এ সময়ে পুরো পরিবারের দেখভালের দায়িত্ব নেয়ার কথা জানিয়েছেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সহায়তায় গতকাল সোমবার একটি গাড়িতে করে অনিককে পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) পাঠানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বাসস’কে বলেন, অনিককে তিন মাসের জন্য রিহ্যাবে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তিনি যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অনিক রিহ্যাবে থাকাকালে তার পরিবারের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো উপজেলা প্রশাসন দেখভাল করবে। খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হবে। এছাড়াও অনিকের স্ত্রীকে স্বাবলম্বী করে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।

ইউএনও বলেন, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে তার স্ত্রীকে আয়ের সুযোগ করে দেয়া হবে। তিনি সেলাইয়ের কাজ করতে চাইলে সেলাই মেশিন দেয়া হবে। তার সক্ষমতা ও আগ্রহ অনুযায়ী আয়বর্ধক কাজে যুক্ত করতেও সহযোগিতা করা হবে।

পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ইউএনও। তিনি জানান, ইতোমধ্যে অনেকেই পরিবারটির সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। কেউ সহায়তা করতে চাইলে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তা পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

তুবার পড়াশোনা যাতে কোনোভাবেই বন্ধ না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও মো. আলী সুজা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে তুবার বাবা অনিককে বাঁধা অবস্থায় রাখা হয়েছে। চারপাশে মানুষের ভিড়ের মধ্যেই ছোট্ট তুবা বাবার কাছে ছুটে যায়। এরপর নিজের হাতে বাবাকে চা ও রুটি খাওয়াতে থাকে। বাবা-মেয়ের সেই দৃশ্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তুবার পরিবারের আর্থিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা তৈরি হয়। অনেকেই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। কেউ তুবার বাবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথা বলেন, আবার কেউ শিশুটির ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনার দায়িত্ব নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় স্থানীয় প্রশাসন। একদিকে অনিককে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে তার স্ত্রীকে স্বাবলম্বী করা এবং তুবার পড়াশোনা অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

তুবার চোখের জল ছুঁয়ে গেল প্রশাসনের হৃদয়

আপডেট টাইম : ০২:৪১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই হাত বাঁধা অবস্থায় বাজারে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে বাবাকে। এ দৃশ্য দেখতে চারপাশে মানুষের ভিড় লেগে যায়। আর সেই ভিড় ঠেলে ছোট্ট তুবা ছুটে গিয়ে নিজের হাতে বাবাকে খাইয়ে দিচ্ছে চা ও রুটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বাবা-মেয়ের এ হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য নাড়া দিয়েছে মানুষের বিবেককে। এবার সেই তুবার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে তিন মাসের জন্য রিহ্যাবে পাঠানো হয়েছে তুবার বাবা রায়হানুল হক অনিককে। একই সঙ্গে এ সময়ে পুরো পরিবারের দেখভালের দায়িত্ব নেয়ার কথা জানিয়েছেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সহায়তায় গতকাল সোমবার একটি গাড়িতে করে অনিককে পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) পাঠানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বাসস’কে বলেন, অনিককে তিন মাসের জন্য রিহ্যাবে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তিনি যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অনিক রিহ্যাবে থাকাকালে তার পরিবারের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো উপজেলা প্রশাসন দেখভাল করবে। খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হবে। এছাড়াও অনিকের স্ত্রীকে স্বাবলম্বী করে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।

ইউএনও বলেন, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে তার স্ত্রীকে আয়ের সুযোগ করে দেয়া হবে। তিনি সেলাইয়ের কাজ করতে চাইলে সেলাই মেশিন দেয়া হবে। তার সক্ষমতা ও আগ্রহ অনুযায়ী আয়বর্ধক কাজে যুক্ত করতেও সহযোগিতা করা হবে।

পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ইউএনও। তিনি জানান, ইতোমধ্যে অনেকেই পরিবারটির সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। কেউ সহায়তা করতে চাইলে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তা পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

তুবার পড়াশোনা যাতে কোনোভাবেই বন্ধ না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও মো. আলী সুজা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে তুবার বাবা অনিককে বাঁধা অবস্থায় রাখা হয়েছে। চারপাশে মানুষের ভিড়ের মধ্যেই ছোট্ট তুবা বাবার কাছে ছুটে যায়। এরপর নিজের হাতে বাবাকে চা ও রুটি খাওয়াতে থাকে। বাবা-মেয়ের সেই দৃশ্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তুবার পরিবারের আর্থিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা তৈরি হয়। অনেকেই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। কেউ তুবার বাবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথা বলেন, আবার কেউ শিশুটির ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনার দায়িত্ব নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় স্থানীয় প্রশাসন। একদিকে অনিককে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে তার স্ত্রীকে স্বাবলম্বী করা এবং তুবার পড়াশোনা অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।


প্রিন্ট