বিশেষ প্রতিনিধি:
গাজীপুরের মৌচাকে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আকুলিচালা হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ, রাষ্ট্র চিন্তক ও নজরুল গবেষক ডক্টর শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদ। শিক্ষানুরাগী ও বিশিষ্ট এই চিন্তাবিদকে সভাপতি হিসেবে পেয়ে বিদ্যালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় ডক্টর শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদ আকুলিচালা হাই স্কুলের শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে নিজের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “শিক্ষা কেবল সার্টিফিকেট অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং একজন শিক্ষার্থীকে সুনাগরিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য। এই বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী যাতে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্বমানের শিক্ষা লাভ করতে পারে, আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করব।”
নতুন সভাপতি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির চর্চা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেন। একই সাথে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও দর্শনের আলোকে শিক্ষার্থীদের মাঝে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নতুন সভাপতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ড. ফুয়াদের মতো একজন প্রাজ্ঞ, দূরদর্শী ও তাত্ত্বিক মানুষের নেতৃত্ব আকুলিচালা হাই স্কুলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, তার দিকনির্দেশনায় বিদ্যালয়টিতে ঝরে পড়ার হার কমবে এবং পরীক্ষার ফলাফলে অভূতপূর্ব সাফল্য আসবে।
ম্যানেজিং কমিটির নতুন সভাপতির এই সময়োপযোগী উদ্যোগ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে দৃঢ অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন মফস্বল এই এলাকার সাধারণ অভিভাবক মহল। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আকুলিচালা হাই স্কুল গাজীপুর জেলার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠে পরিণত হবে—এটাই এখন স্থানীয়দের মূল প্রত্যাশা।
উল্লেখ্য স্থানীয় শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের দূরবর্তী স্থানে গিয়ে পড়াশোনার কষ্ট লাঘব করতে আকুলিচালা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পেছনে মূল অবদান রয়েছে বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদুল্লাহ পাটোয়ারী-র। তিনি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষানুরাগী ও সর্বস্তরের জনগণের পরামর্শে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করেন।মহান মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সেনানী যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সমাজ সংস্কার এবং শিক্ষার প্রসারে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন, যার অন্যতম বড় ফসল এই আকুলিচালা উচ্চ বিদ্যালয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সেনানী যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে অনুধাবন করেছিলেন যে, কেবল অস্ত্রের যুদ্ধ শেষ হলেও দেশ গঠনের আসল যুদ্ধ শুরু হয় শিক্ষার মাধ্যমে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, সমাজ থেকে অন্ধকার ও অনগ্রসরতা দূর করতে হলে তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এই গভীর সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সংস্কারের অংশ হিসেবে তিনি সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন।
শিক্ষা প্রসার ও সমাজ সংস্কার শহীদুল্লাহ পাটোয়ারী ছিলেন একাধারে দেশপ্রেমিক এবং সমাজ সংস্কারক জাতীয় রাজনীতিবিদ। যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন সমাজ গঠনের নানামুখী ইতিবাচক কাজে। গ্রামীণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বড় লক্ষ্য। তাঁর সেই নিঃস্বার্থ ত্যাগ এবং কঠোর পরিশ্রমের ফসল হলো আজকের এই আকুলিচালা উচ্চ বিদ্যালয়। তাঁর দূরদর্শী চিন্তার কারণে আজ এলাকার হাজার হাজার শিক্ষার্থী ঘরে বসেই আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যাচ্ছে।
পরিশেষে বলা যায়, আকুলিচালা উচ্চ বিদ্যালয় কেবল একটি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্ন ও সমাজ সংস্কারের জীবন্ত প্রতীক। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল্লাহ পাটোয়ারীর রোপণ করা সেই শিক্ষার বীজ আজ এক বিশাল মহীরূহে পরিণত হয়েছে। এই বিদ্যাপীঠ আগামী দিনেও এই অঞ্চলের জ্ঞানচর্চার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে অবদান রাখবে এবং প্রতিষ্ঠাতা শহীদুল্লাহ পাটোয়ারীর নাম চিরকাল এ অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় করে রাখবে।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 























