মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে ‘বড়’ প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন মজুত আবিষ্কার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা চরমে, আলোচনা অনিশ্চিত মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ: সর্বশেষ পরিস্থিতি ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাই কার্যকর মাধ্যম : প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ব্লক রেইড জোরদার মাদক ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে : আইজিপি প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে এখনও অস্পষ্টতায় থাকছেন অধিকাংশ মা নওগাঁয় একই পরিবারের ৪জনকে হত্যা বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে চার দিন বন্ধ বুড়িমারী স্থলবন্দর সারাদেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সবধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ২৬৪ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চীনসহ কয়েকটি দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করা করোনাভাইরাস যেন বাংলাদেশে আসতে না পারে সে লক্ষে সরকার সবধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যা যা করার সবই তার সরকার করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে জাতীয় সংসদে শীতকালীন অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটা যখন চীনে দেখা দেয় তখনই সরকার এ বিষয়ে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অন এরাইভাল ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে।’

তার সরকারের বিমানবন্দরে প্রতিরোধমূলক সতর্কাবস্থা গ্রহণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চীন বা যেসব দেশে এই ভাইরাস দেখা গিয়েছে সেসব দেশ থেকে কেউ আসলে তার সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা নিশ্চিত হচ্ছি এই ভাইরাস নিয়ে কেউ ঢুকছে কি না। কাউকে এতটুকু সন্দেহ হলে হাসপাতালে নিয়ে তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোয়ারান্টাইনে রেখে তারপর আমরা ছাড়ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা যেন বাংলাদেশে বিস্তার লাভ করতে না পারে সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।’

অতীতে দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে বাড়ি-ঘর এবং চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে এই রোগ সৃষ্টিকারী এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধ করার বিষয়েও সতর্ক করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ে একটা সমসা সৃষ্টি হয়েছিল। আবারও মশার উপদ্রব বাড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমি দেশবাসীকে বলবো নিজেদেরকেও একটু সচেতন থাকতে হবে এবং বাড়ি-ঘর পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যেন মশা না জন্মাতে পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

ধর্ষণের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সন্ত্রাস, মাদক এবং জঙ্গিবাদের মতো ধর্ষকদের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে তার সরকারের কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ নামের কিছু পশু ছোট শিশু থেকে শুরু করে মেয়েদের বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণ করছে। এদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মাদকের বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নিয়েছি তেমনি এখন আমরা সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ, মাদক এবং ধর্ষকের বিরুদ্ধে একইভাবে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশবাসীকে আমি আহ্বান করবো- এই ধরনের ঘটনা (ধর্ষণ) যারা ঘটাচ্ছে তাদের ধরতে সকলেই যেন আমাদের সহযোগিতা করেন। কারণ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আমরা আইনগতভাবেই নেব এবং এ বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সচেতন রয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আসন্ন রমজান মাসে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সমাগ্রীর সরবরাহকে সুষম রাখার মাধ্যমে দ্রব্যমূল্যকে জনগণের নাগালের মধ্যে রাখার জন্যও সংশ্লিষ্ট মহলকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

‘ক্ষোভ-ব্যথা বুকে নিয়ে দেশ চালাচ্ছি’
প্রধানমন্ত্রী জানান, তার মনে অনেক যন্ত্রণা, কষ্ট ও ক্ষোভ। তবুও তিনি দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সব কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘কারো প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে চলি না। প্রতিশোধ নিতেও যাইনি। তবে যেখানে অন্যায় হয়েছে সেখানে ন্যায় করার চেষ্টা করেছি। এজন্য পঁচাত্তরের খুনিদের বিচার করেছি, যুদ্ধারাপরাধীদের বিচার করতে সক্ষম হয়েছি। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি এবং চালিয়ে যাবো। দেশটা যাতে সুন্দরভাবে গড়ে ওঠে সেজন্য সব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো।’

পিতা হত্যার প্রসঙ্গ তোলে তিনি বলেন, জাতির পিতা মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। এই সময়ের মধ্যে দেশকে গড়ে তুলতে পৃথিবীর অন্য দেশের কোনো নেতা পেরেছেন কি না জানি না, কিন্তু তিনি করেছিলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদায় রেখে গিয়েছিলেন। যখনই বাংলাদেশের মানুষ একটু সুখের মুখ দেখতে শুরু করলো, তখনই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশের মানুষ হারিয়েছে তাদের নেতাকে আর আমরা দুটি বোন হারিয়েছি… ১৫ আগস্ট আমরা যারা আপনজন হারিয়েছি, স্বজনহারা বেদনা নিয়ে বসে আছি। এই সংসদে এখন অনেকেই রয়েছে।

এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতির পিতাকে শুধু হত্যা করা হয়নি, খুনিদের বিচার করতেও দেওয়া হয়নি। বিচারের হাত থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এরশাদ-খালেদা জিয়া সবাইকে উৎসাহিত করেছিল, আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছিল। কী যন্ত্রণা নিয়ে আমি আছি তা আমি বুঝি! তারপরও সব কষ্ট সহ্য করে একটা জিনিসই শুধু চিন্তা করেছি, আমার বাবা দেশটা স্বাধীন করেছেন দেশের মানুষের জন্য, সাধারণ মানুষের জীবনটা যেন সুন্দর হয়। সেজন্য নিজের জীবনের ক্ষোভ-ব্যথা সবকিছু বুকে চেপে রেখে আমি দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। এজন্যই করে যাচ্ছি যে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী অর্জনকারী এই বাংলাদেশের মানুষ যেন বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে চলতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com