ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

আমার বক্তব্য সুপার এডিট করে ছড়ানো হয়েছে – নিক্সন চৌধুরী

ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বক্তব্য সুপার এডিট করে ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। এ কাজের জন্য তিনি তার শত্রুপক্ষকে অভিযুক্ত করেছেন।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনালাপের কথা তুলে ধরে এই জনপ্রিয় সংসদ সদস্য বলেন, ‘ওই ভয়েসটাই (কণ্ঠস্বর) আমার না। এটি সুপার এডিট করা হয়েছে। এমনকি এটা কেটে কেটে বিভিন্ন জায়গা থেকে এনে এডিট করা হয়েছে।’

নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘শত্রুপক্ষ আমার বক্তব্য সুপার এডিট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়েছে।’

গত ১০ অক্টোবর চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাচনের সময় তার কয়েকজন কর্মীকে বিনা কারণে আটকের কথা উল্লেখ করে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘আমি বিনা কারণে আমাদের নেতাকর্মীকে আটক করার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি। কিন্তু কোনো গালিগালাজ করিনি। কারণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমার বোনের মতো।’

তিনি কোনো নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন ভাঙ্গা-চরভদ্রাসন-সদরপুরের সাংসদ নিক্সন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মামলা হলে, ফরিদপুরের ডিসির বিরুদ্ধেও মামলা করা উচিত। কারণ আমি যদি নির্বাচন বিধি লঙ্ঘন করে থাকি তাহলে তিনিও লঙ্ঘন করেছেন।’

সাংসদ নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনের পরদিন জেলা প্রশাসক আমার বাড়িতে ইউএনওকে পাঠিয়েছেন। আমি যাতে ভোটের দিনে তারা যে তাণ্ডব করেছেন সেই বিষয়ে কিছু না বলি। কম্প্রোমাইজ করার জন্য অনুরোধ করেছেন। আমার কাছে সেই প্রমাণ আছে। প্রয়োজন হলে আমি জায়গামতো এই প্রমাণ দাখিল করব।’ তবে আইনে বাধা থাকায় সংবাদ সম্মেলনে তা প্রকাশ করেননি বলে জানান তিনি।

গত শনিবার তার কয়েকজন কর্মীকে আটক করা নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়ে নিক্স চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন চলার সময়ে মাঠে দাঁড়িয়ে ধূমপান করার কারণে বিজিবির সদস্যদের দিয়ে আমার এক কর্মীকে আটক করা হয়। এই বিষয়ে আমি প্রথমে এসিল্যান্ডকে (সহকারী কমিশনার, ভূমি) ফোন করেছিলাম। ‘আমি দেখতেছি’ বলে তিনি ফোনটা বন্ধ করে দেন।’

‘পরে আমি আপাকে (ইউএনও) ফোন করলাম যে, আপা আমার একটা লোক ধরা পড়ছে আপনি একটু দেখেন। সে কোনো অন্যায় করেনি, মাঠে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিল। তাকে বিজিবি ধরে নিয়ে গেছে। আপনি একটু ব্যবস্থা নেন। এই কথাটুকুই আমি তাকে বলেছি। বাকি কোনো কথা আমার না। এটা আপনি টিএনও সাহেবকে জিজ্ঞেস করলেই পাবেন।’

নিক্সন চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, ‘আপনারা জিজ্ঞেস করেন, এই গালিগুলো আমি ইউএনওকে দিয়েছি কি না। সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ করুন যে, এই ভয়েসটা আমার। এই ক্লিপগুলো একেক জায়গা থেকে কেটে নিয়ে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য করা হয়েছে।’

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা আছে জানিয়ে নিক্সন চৌধুরী বলেন, আমার কাছেও কিছু তথ্য আছে। আমি চাইলেই সেগুলো প্রকাশ করতে পারতাম। কিন্তু আমি হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা এবং আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ব্যক্তিগত আলাপের রেকর্ড ফেসবুকে দেইনি। আমার ১০০ ভাগ বিশ্বাস তিনিও (ইউএনও) আইনের লোক হয়ে এই কাজ করবেন না।

নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সহযোগিতার অভিযোগ এনে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘আমি এতদিনে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিতাম। তারাও জয়ী হয়েছেন। আমি এবার স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন না দিয়ে প্রথমবার নৌকা মার্কার প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছি। কিন্তু আমার ডিসি বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী যিনি এলাকায় বালু ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত, তাকে সমর্থন দিয়েছেন।’


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

আমার বক্তব্য সুপার এডিট করে ছড়ানো হয়েছে – নিক্সন চৌধুরী

আপডেট টাইম : ১০:০৫:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২০

ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বক্তব্য সুপার এডিট করে ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। এ কাজের জন্য তিনি তার শত্রুপক্ষকে অভিযুক্ত করেছেন।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনালাপের কথা তুলে ধরে এই জনপ্রিয় সংসদ সদস্য বলেন, ‘ওই ভয়েসটাই (কণ্ঠস্বর) আমার না। এটি সুপার এডিট করা হয়েছে। এমনকি এটা কেটে কেটে বিভিন্ন জায়গা থেকে এনে এডিট করা হয়েছে।’

নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘শত্রুপক্ষ আমার বক্তব্য সুপার এডিট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়েছে।’

গত ১০ অক্টোবর চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাচনের সময় তার কয়েকজন কর্মীকে বিনা কারণে আটকের কথা উল্লেখ করে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘আমি বিনা কারণে আমাদের নেতাকর্মীকে আটক করার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি। কিন্তু কোনো গালিগালাজ করিনি। কারণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমার বোনের মতো।’

তিনি কোনো নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন ভাঙ্গা-চরভদ্রাসন-সদরপুরের সাংসদ নিক্সন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মামলা হলে, ফরিদপুরের ডিসির বিরুদ্ধেও মামলা করা উচিত। কারণ আমি যদি নির্বাচন বিধি লঙ্ঘন করে থাকি তাহলে তিনিও লঙ্ঘন করেছেন।’

সাংসদ নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনের পরদিন জেলা প্রশাসক আমার বাড়িতে ইউএনওকে পাঠিয়েছেন। আমি যাতে ভোটের দিনে তারা যে তাণ্ডব করেছেন সেই বিষয়ে কিছু না বলি। কম্প্রোমাইজ করার জন্য অনুরোধ করেছেন। আমার কাছে সেই প্রমাণ আছে। প্রয়োজন হলে আমি জায়গামতো এই প্রমাণ দাখিল করব।’ তবে আইনে বাধা থাকায় সংবাদ সম্মেলনে তা প্রকাশ করেননি বলে জানান তিনি।

গত শনিবার তার কয়েকজন কর্মীকে আটক করা নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়ে নিক্স চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন চলার সময়ে মাঠে দাঁড়িয়ে ধূমপান করার কারণে বিজিবির সদস্যদের দিয়ে আমার এক কর্মীকে আটক করা হয়। এই বিষয়ে আমি প্রথমে এসিল্যান্ডকে (সহকারী কমিশনার, ভূমি) ফোন করেছিলাম। ‘আমি দেখতেছি’ বলে তিনি ফোনটা বন্ধ করে দেন।’

‘পরে আমি আপাকে (ইউএনও) ফোন করলাম যে, আপা আমার একটা লোক ধরা পড়ছে আপনি একটু দেখেন। সে কোনো অন্যায় করেনি, মাঠে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিল। তাকে বিজিবি ধরে নিয়ে গেছে। আপনি একটু ব্যবস্থা নেন। এই কথাটুকুই আমি তাকে বলেছি। বাকি কোনো কথা আমার না। এটা আপনি টিএনও সাহেবকে জিজ্ঞেস করলেই পাবেন।’

নিক্সন চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, ‘আপনারা জিজ্ঞেস করেন, এই গালিগুলো আমি ইউএনওকে দিয়েছি কি না। সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ করুন যে, এই ভয়েসটা আমার। এই ক্লিপগুলো একেক জায়গা থেকে কেটে নিয়ে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য করা হয়েছে।’

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা আছে জানিয়ে নিক্সন চৌধুরী বলেন, আমার কাছেও কিছু তথ্য আছে। আমি চাইলেই সেগুলো প্রকাশ করতে পারতাম। কিন্তু আমি হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা এবং আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ব্যক্তিগত আলাপের রেকর্ড ফেসবুকে দেইনি। আমার ১০০ ভাগ বিশ্বাস তিনিও (ইউএনও) আইনের লোক হয়ে এই কাজ করবেন না।

নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সহযোগিতার অভিযোগ এনে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘আমি এতদিনে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিতাম। তারাও জয়ী হয়েছেন। আমি এবার স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন না দিয়ে প্রথমবার নৌকা মার্কার প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছি। কিন্তু আমার ডিসি বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী যিনি এলাকায় বালু ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত, তাকে সমর্থন দিয়েছেন।’


প্রিন্ট