ঢাকা ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই : ত্রাণমন্ত্রী কালিয়াকৈরে ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় আ/সা/মি গ্রে/ফ/তার ও বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন কুমিল্লার যে বাড়ির সুর ছড়িয়ে পড়ে উপমহাদেশের হৃদয়ে পোশাক শ্রমিকদের দ্রুত সর্বজনীন পেনশনে আনার আহ্বান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদত বার্ষিকী পালন কালীগঞ্জে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষ্যে ২১তম ওয়াজ মাহফিল ত্রিশালে কৃতি শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা, সংবর্ধনা পেলেন ২১৪ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শাবিপ্রবিতে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা নাটোরে মাধনগর ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শাবিপ্রবিতে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

ডিএনসিসির করোনা হাসপাতালে ২টি ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা আক্রান্ত রোগীদের ফ্রি যাতায়াত সেবা দিতে দুই মাস আগে রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে দুটি অ্যাম্বুলেন্স এবং একটি লাশবাহী গাড়ি উপহার দিয়েছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কিন্তু প্রচারণার অভাবে সাধারণ মানুষ এ সেবা সম্পর্কে তেমন জানেন না। ফলে অ্যাম্বুলেন্স দুটি এবং লাশবাহী গাড়িটি তেমন ব্যবহার হচ্ছে না।

ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রচারণার অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবেই অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। গণমাধ্যমে এ অনুষ্ঠান প্রচার এবং প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের ভেতর এবং বাইরে ব্যানার-পোস্টার লাগানো হয়েছে। এখন ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবার বিষয়টি আরও প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে। যাতে নাগরিকরা ফ্রি এ সেবা নিতে পারেন।

গত ১৮ এপ্রিল এক হাজার শয্যার ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালের উদ্বোধন করা হয়। এ হাসপাতালে পাঁচ শতাধিক আইসিইউ সমমানের শয্যা রয়েছে। গত ৩ মে এই হাসপাতালের রোগীদের জন্য দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি লাশবাহী গাড়ি উপহার দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

তখন তিনি বলেছিলেন, ‘নিম্নআয়ের অনেকের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া সক্ষমতা নেই। তাই তাদের জন্য ঢাকা মহানগরী এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এ অ্যাম্বুলেন্সের যাবতীয় খরচ ডিএনসিসি বহন করবে।’

আজ বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) পর্যন্ত এই দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ি কতজন ব্যবহার করেছেন তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালের প্রধান ফটকের ডান দিকে (দক্ষিণ) ওই দুটি অ্যাম্বুলেন্স এবং লাশবাহী গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়েছে। গাড়িতে লেখা ‘ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালের রোগীদের বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য।’ পেছনে গাছের মধ্যে হলুদ একটি বড় ব্যানারে লেখা, ‘সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) ঢাকা শহরের অভ্যন্তরে রোগী ও লাশ পরিবহন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।’

এই ব্যানারের নিচে যোগাযোগের নম্বরও দেওয়া হয়েছে। টেলিফোন: ৪১০৮২২৭১-৭৭, মোবাইল: ০১৩২২৮৫৩৭৯১ (চালক), ০১৩২২৮৫৩৭৬৯ (ট্রায়েজ নার্স) ও ০১৩২২৮৫৩৭৯০ (ডিইউটি অ্যাডমিন অফিসার)। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও গাড়িতে কোনো চালককে দেখা যায়নি।

ডিইউটি অ্যাডমিন অফিসারের মোবাইল নম্বরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এ সেবা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। নিজের নাম না বলে হাসপাতালটির পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

জানতে চাইলে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স এবং লাশবাহী গাড়ি ব্যবহার করার জন্য আইসিইউসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যানার-পোস্টার টানানো হয়েছে। এসব ব্যানার এবং পোস্টারে সংশ্লিষ্টদের মোবাইল নম্বরও দেওয়া রয়েছে।

তিনি বলেন, নাগরিকরা যোগাযোগ করলেই এ সেবা নিতে পারেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার কম হচ্ছে। আমাদের ধারণা, বিষয়টি নাগরিকদের জানাতে প্রচারণা আরও বাড়াতে হবে। এখন সেই ব্যবস্থাই আমরা করব।

তিনি আরও বলেন, ওই হাসপাতালে এখন ৪০৯ জন রোগী ভর্তি আছেন। তাদের অধিকাংশই ঢাকার বাইরের। কিন্তু আমাদের ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা ঢাকা মহানগরের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ঢাকার ভেতর যে কোনো এলাকার নাগরিক ফ্রিতে এ সেবা নিতে পারবেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই : ত্রাণমন্ত্রী

ডিএনসিসির করোনা হাসপাতালে ২টি ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা

আপডেট টাইম : ১০:১১:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা আক্রান্ত রোগীদের ফ্রি যাতায়াত সেবা দিতে দুই মাস আগে রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে দুটি অ্যাম্বুলেন্স এবং একটি লাশবাহী গাড়ি উপহার দিয়েছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কিন্তু প্রচারণার অভাবে সাধারণ মানুষ এ সেবা সম্পর্কে তেমন জানেন না। ফলে অ্যাম্বুলেন্স দুটি এবং লাশবাহী গাড়িটি তেমন ব্যবহার হচ্ছে না।

ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রচারণার অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবেই অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। গণমাধ্যমে এ অনুষ্ঠান প্রচার এবং প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের ভেতর এবং বাইরে ব্যানার-পোস্টার লাগানো হয়েছে। এখন ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবার বিষয়টি আরও প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে। যাতে নাগরিকরা ফ্রি এ সেবা নিতে পারেন।

গত ১৮ এপ্রিল এক হাজার শয্যার ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালের উদ্বোধন করা হয়। এ হাসপাতালে পাঁচ শতাধিক আইসিইউ সমমানের শয্যা রয়েছে। গত ৩ মে এই হাসপাতালের রোগীদের জন্য দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি লাশবাহী গাড়ি উপহার দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

তখন তিনি বলেছিলেন, ‘নিম্নআয়ের অনেকের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া সক্ষমতা নেই। তাই তাদের জন্য ঢাকা মহানগরী এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এ অ্যাম্বুলেন্সের যাবতীয় খরচ ডিএনসিসি বহন করবে।’

আজ বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) পর্যন্ত এই দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ি কতজন ব্যবহার করেছেন তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালের প্রধান ফটকের ডান দিকে (দক্ষিণ) ওই দুটি অ্যাম্বুলেন্স এবং লাশবাহী গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়েছে। গাড়িতে লেখা ‘ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালের রোগীদের বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য।’ পেছনে গাছের মধ্যে হলুদ একটি বড় ব্যানারে লেখা, ‘সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) ঢাকা শহরের অভ্যন্তরে রোগী ও লাশ পরিবহন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।’

এই ব্যানারের নিচে যোগাযোগের নম্বরও দেওয়া হয়েছে। টেলিফোন: ৪১০৮২২৭১-৭৭, মোবাইল: ০১৩২২৮৫৩৭৯১ (চালক), ০১৩২২৮৫৩৭৬৯ (ট্রায়েজ নার্স) ও ০১৩২২৮৫৩৭৯০ (ডিইউটি অ্যাডমিন অফিসার)। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও গাড়িতে কোনো চালককে দেখা যায়নি।

ডিইউটি অ্যাডমিন অফিসারের মোবাইল নম্বরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এ সেবা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। নিজের নাম না বলে হাসপাতালটির পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

জানতে চাইলে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স এবং লাশবাহী গাড়ি ব্যবহার করার জন্য আইসিইউসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যানার-পোস্টার টানানো হয়েছে। এসব ব্যানার এবং পোস্টারে সংশ্লিষ্টদের মোবাইল নম্বরও দেওয়া রয়েছে।

তিনি বলেন, নাগরিকরা যোগাযোগ করলেই এ সেবা নিতে পারেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার কম হচ্ছে। আমাদের ধারণা, বিষয়টি নাগরিকদের জানাতে প্রচারণা আরও বাড়াতে হবে। এখন সেই ব্যবস্থাই আমরা করব।

তিনি আরও বলেন, ওই হাসপাতালে এখন ৪০৯ জন রোগী ভর্তি আছেন। তাদের অধিকাংশই ঢাকার বাইরের। কিন্তু আমাদের ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা ঢাকা মহানগরের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ঢাকার ভেতর যে কোনো এলাকার নাগরিক ফ্রিতে এ সেবা নিতে পারবেন।


প্রিন্ট