ঢাকা ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

রান্নাঘরে পড়েছিল প্রবাসীর স্ত্রী লাশ, গাছে ঝুলছিল শিশুসন্তান

পাবনার চাটমোহরে মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্দুর রশিদের স্ত্রী ও সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নের দিঘুলিয়া গ্রাম থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে, রাতের কোনো এক সময়ে তাদের হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহত লাবনী খাতুন ও শিশু রিয়াদ হোসেন দিঘুলিয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের স্ত্রী-সন্তান। রশিদ দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় থাকেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কয়েকজন মুখোশ পরিহিত দুর্বৃত্ত নিহতদের বাড়িতে এসে ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাড়িতে থাকা মা ও ছেলে চিৎকার দিলে দুর্বৃত্তরা তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে শুক্রবার সকালে গিয়ে মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এখনো কাউকে শনাক্ত বা আটক করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ফৈলজানা ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। যারা এ কাজ করেছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নান্নু বলেন, ওই বাড়িতে লাবনী খাতুন, তার ছেলে ও শাশুড়ি থাকতেন। বাড়িতে নতুন ভবন তৈরির কাজ চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, কেউ হয়ত টাকা পয়সা চুরি বা ডাকাতি করতে গিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। মহিলার মরদেহ রান্না ঘরে পড়েছিল এবং ছেলেটির মরদেহ পাশের এক গাছে ঝুলছিল।

চাটমোহর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাতে নিহতদের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে মা ও ছেলেকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ প্রকৃত অপরাধীতে খুঁজে বের করতে চেষ্টা করছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে অনিয়মের অভিযোগে দুই হাসপাতালকে জরিমানা

রান্নাঘরে পড়েছিল প্রবাসীর স্ত্রী লাশ, গাছে ঝুলছিল শিশুসন্তান

আপডেট টাইম : ০১:০১:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৪

পাবনার চাটমোহরে মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্দুর রশিদের স্ত্রী ও সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নের দিঘুলিয়া গ্রাম থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে, রাতের কোনো এক সময়ে তাদের হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহত লাবনী খাতুন ও শিশু রিয়াদ হোসেন দিঘুলিয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের স্ত্রী-সন্তান। রশিদ দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় থাকেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কয়েকজন মুখোশ পরিহিত দুর্বৃত্ত নিহতদের বাড়িতে এসে ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাড়িতে থাকা মা ও ছেলে চিৎকার দিলে দুর্বৃত্তরা তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে শুক্রবার সকালে গিয়ে মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এখনো কাউকে শনাক্ত বা আটক করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ফৈলজানা ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। যারা এ কাজ করেছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নান্নু বলেন, ওই বাড়িতে লাবনী খাতুন, তার ছেলে ও শাশুড়ি থাকতেন। বাড়িতে নতুন ভবন তৈরির কাজ চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, কেউ হয়ত টাকা পয়সা চুরি বা ডাকাতি করতে গিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। মহিলার মরদেহ রান্না ঘরে পড়েছিল এবং ছেলেটির মরদেহ পাশের এক গাছে ঝুলছিল।

চাটমোহর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাতে নিহতদের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে মা ও ছেলেকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ প্রকৃত অপরাধীতে খুঁজে বের করতে চেষ্টা করছে।


প্রিন্ট