ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

ছাত্র হত্যা  মামলার আসামি সোবহান গ্রেফতার

হাফসা উত্তরাঃ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই-২৪ এ গুলি করে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি আব্দুস সোবহানকে গ্রেফতার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ, র‍্যাবও যৌথবাহীনির সদস্য।
জানা যায়, মোঃ আব্দুস সোবহান পিতা : আব্দুল মজিদ মাতবর ছাত্র হত্যার ২৬/৩৩০ নং মামলার ৩৬ নং আসামি। মামলাটি গত ১৯শে সেপ্টেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় রুজু করা হয়। এ মামলার বাদি মোঃ কবির হোসেন মৃধা পিতা : মৃত বেলায়েত মৃধা। সে গাজীপুর জেলার সদর থানার টঙ্গী বর্ষণ হল রোড এরশাদ নগরের বাসিন্দা।
সুত্রে জানা যায়, মোঃ আব্দুস সোবহান সরকারি চাকুরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন সময়ে জুলাই ২৪-এ উত্তরা আজমপুর আমির কমপ্লেক্স এলাকায় শিক্ষার্থীদের উপর তার দলবল নিয়ে নির্বিচারে লাঠি চার্জ ও গুলি চালায়। এতে সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ছাড়াও গ্রেফতার কৃত আব্দুস সোবহান একজন স্বর্ণ ব্যাবসায়ী হওয়ার কারণে তিনি ছাত্র আন্দোলন দমাতে কোটি কোটি টাকা জোগান দেন। তার এ সব অবৈধ টাকার বিনিময়ে নিরীহ শিক্ষার্থীরা অকারণে প্রাণ হায়ার।
এ সময় প্রশাসনের লোক পরিচয়ে হত্যা  মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সোবহানকে গ্রেপ্তারে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগে সাবেক এক সেনা কর্মকর্তাকে আটক করেছে র‍্যাব। আটক মোঃ শাহিন আলম (৩০) সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স কর্পোরাল।

উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৫ নং সড়কের ১৫ নং বাসা থেকে গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১টায় তাঁকে আটক করে র‍্যাব-১।

জানা যায়, আটক শাহিন নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেন। তিনি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রা ডাঙ্গা গ্রামের বদরুল ইসলামের ছেলে। তিনি উত্তরার ওই বাসাতেই থাকেন।
গতকাল ১৫ই মার্চ
উত্তরা ১৩ নং সেক্টরের ১৫ নং বাড়িটিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সোবাহান রয়েছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে ছাত্ররা বাড়িটির সামনে জড়ো হয়। খবর পেয়ে সেখানে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হোন।

রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ যাওয়ার পর জনৈক শাহিন আলম উপস্থিত শিক্ষার্থী ও পুলিশকে ঐ বাড়িতে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তর্ক–বিতর্কে জড়ান।
উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদকে ও সে বাধা দেয়। এ সময় তিনি ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ আছে বলে ও দাপট দেখান।

শিক্ষার্থীদের সাথে
তর্কবিতর্কের ভিডিও ফুটেজ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে গেলে র‍্যাবের একটি টিম তাঁকে আটক করে নিয়ে যায়।

এ সময় ছাত্র প্রতিনিধি নোমান রেজা ইনকিলাবকে বলেন, ছাত্র হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই আবু সাঈদ ও ছাত্র প্রতিনিধি ১৫ নং বাসাটিতে ঢুকতে চাইলে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে এক ব্যাক্তি সকলকে আধা ঘণ্টা গেইটের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখে। পরে ওই আসামি অন্য ফ্ল্যাটে পালানোর পর পুলিশকে ঢুকতে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে অনেক খুঁজাখুঁজি পরও তাকে তার বাসায় পায়নি। অথচ ওই ব্যক্তিই তাদেরকে বলেছিল, আমি তাকে (অভিযুক্ত) কল দিচ্ছি, নিচে আসার জন্য।

ছাত্র প্রতিনিধি
নোমান আরো বলেন, পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে আরও র‍্যাব ও সেনাবাহিনীসহ আশপাশের জনতা জড়ো হয়। এরপর রাত দেড়টার দিকে ওই বাড়িটি পুরো তল্লাশি চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সোবাহানকে ভবনের ৫ম তলা থেকে গ্রেপ্তার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

শাহিন আলমকে আটকের বিষয়ে র‍্যাব–১–এর সিপিসি–২–এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মুহাম্মদ আহনাফ রাসিফ বিন হালিম বলেন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে দাপট দেখানো এবং সরকারি কাজে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স কর্পোরাল মো. শাহিন আলমকে আটক করে যাচাই বাছাই চলছে। যাচাই বাছাই শেষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, ছাত্র হত্যা মামলায় আব্দুস সোবাহানকে তার বাসা থোকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের মাধ্যমে গতকাল রাতে ছাত্র- জনতার সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরো বলেন, আব্দুস সোবহান উত্তরা ১৩ নং সেক্টর ইউনিট আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিল। এ ছাড়াও সে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী।তাকে আজ আদালতে পাঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

ছাত্র হত্যা  মামলার আসামি সোবহান গ্রেফতার

আপডেট টাইম : ০৫:৩৭:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫

হাফসা উত্তরাঃ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই-২৪ এ গুলি করে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি আব্দুস সোবহানকে গ্রেফতার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ, র‍্যাবও যৌথবাহীনির সদস্য।
জানা যায়, মোঃ আব্দুস সোবহান পিতা : আব্দুল মজিদ মাতবর ছাত্র হত্যার ২৬/৩৩০ নং মামলার ৩৬ নং আসামি। মামলাটি গত ১৯শে সেপ্টেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় রুজু করা হয়। এ মামলার বাদি মোঃ কবির হোসেন মৃধা পিতা : মৃত বেলায়েত মৃধা। সে গাজীপুর জেলার সদর থানার টঙ্গী বর্ষণ হল রোড এরশাদ নগরের বাসিন্দা।
সুত্রে জানা যায়, মোঃ আব্দুস সোবহান সরকারি চাকুরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন সময়ে জুলাই ২৪-এ উত্তরা আজমপুর আমির কমপ্লেক্স এলাকায় শিক্ষার্থীদের উপর তার দলবল নিয়ে নির্বিচারে লাঠি চার্জ ও গুলি চালায়। এতে সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ছাড়াও গ্রেফতার কৃত আব্দুস সোবহান একজন স্বর্ণ ব্যাবসায়ী হওয়ার কারণে তিনি ছাত্র আন্দোলন দমাতে কোটি কোটি টাকা জোগান দেন। তার এ সব অবৈধ টাকার বিনিময়ে নিরীহ শিক্ষার্থীরা অকারণে প্রাণ হায়ার।
এ সময় প্রশাসনের লোক পরিচয়ে হত্যা  মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সোবহানকে গ্রেপ্তারে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগে সাবেক এক সেনা কর্মকর্তাকে আটক করেছে র‍্যাব। আটক মোঃ শাহিন আলম (৩০) সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স কর্পোরাল।

উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৫ নং সড়কের ১৫ নং বাসা থেকে গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১টায় তাঁকে আটক করে র‍্যাব-১।

জানা যায়, আটক শাহিন নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেন। তিনি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রা ডাঙ্গা গ্রামের বদরুল ইসলামের ছেলে। তিনি উত্তরার ওই বাসাতেই থাকেন।
গতকাল ১৫ই মার্চ
উত্তরা ১৩ নং সেক্টরের ১৫ নং বাড়িটিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সোবাহান রয়েছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে ছাত্ররা বাড়িটির সামনে জড়ো হয়। খবর পেয়ে সেখানে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হোন।

রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ যাওয়ার পর জনৈক শাহিন আলম উপস্থিত শিক্ষার্থী ও পুলিশকে ঐ বাড়িতে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তর্ক–বিতর্কে জড়ান।
উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদকে ও সে বাধা দেয়। এ সময় তিনি ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ আছে বলে ও দাপট দেখান।

শিক্ষার্থীদের সাথে
তর্কবিতর্কের ভিডিও ফুটেজ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে গেলে র‍্যাবের একটি টিম তাঁকে আটক করে নিয়ে যায়।

এ সময় ছাত্র প্রতিনিধি নোমান রেজা ইনকিলাবকে বলেন, ছাত্র হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই আবু সাঈদ ও ছাত্র প্রতিনিধি ১৫ নং বাসাটিতে ঢুকতে চাইলে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে এক ব্যাক্তি সকলকে আধা ঘণ্টা গেইটের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখে। পরে ওই আসামি অন্য ফ্ল্যাটে পালানোর পর পুলিশকে ঢুকতে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে অনেক খুঁজাখুঁজি পরও তাকে তার বাসায় পায়নি। অথচ ওই ব্যক্তিই তাদেরকে বলেছিল, আমি তাকে (অভিযুক্ত) কল দিচ্ছি, নিচে আসার জন্য।

ছাত্র প্রতিনিধি
নোমান আরো বলেন, পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে আরও র‍্যাব ও সেনাবাহিনীসহ আশপাশের জনতা জড়ো হয়। এরপর রাত দেড়টার দিকে ওই বাড়িটি পুরো তল্লাশি চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সোবাহানকে ভবনের ৫ম তলা থেকে গ্রেপ্তার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

শাহিন আলমকে আটকের বিষয়ে র‍্যাব–১–এর সিপিসি–২–এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মুহাম্মদ আহনাফ রাসিফ বিন হালিম বলেন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে দাপট দেখানো এবং সরকারি কাজে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স কর্পোরাল মো. শাহিন আলমকে আটক করে যাচাই বাছাই চলছে। যাচাই বাছাই শেষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, ছাত্র হত্যা মামলায় আব্দুস সোবাহানকে তার বাসা থোকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের মাধ্যমে গতকাল রাতে ছাত্র- জনতার সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরো বলেন, আব্দুস সোবহান উত্তরা ১৩ নং সেক্টর ইউনিট আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিল। এ ছাড়াও সে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী।তাকে আজ আদালতে পাঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।


প্রিন্ট