ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী দেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা দিতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য সুখবর ব্ল্যাক কফি কী সত্যিই ওজন কমাতে পারে? ঝগড়ার পরে সম্পর্ক ঠিক করতে কী করবেন? ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১২ বিলিয়ন ডলার’ গণমাধ্যমের ওপর সরকারি পদক্ষেপে বিরোধী দলকে পাশে চাইলেন সম্পাদকরা সালমান শাহ হত্যা: ডনের ৭ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি চড়া দামে বিক্রি হল ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল

পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ছেঁউড়িয়ার সাধুসঙ্গ

আধ্যাত্মিক সাধক ফকির লালন সাঁই-এর স্মরণে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় অনুষ্ঠিত দোল উপলক্ষের সাধুসঙ্গ পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে আজ শেষ হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসের কারণে এবার আয়োজন ছিল সংক্ষিপ্ত ও সাদামাটা। তবুও ভক্ত-অনুসারীদের অংশগ্রহণে আধ্যাত্মিক আবহে সম্পন্ন হয় অনুষ্ঠান।

গতকাল সোমবার বিকেলে রাখাল সেবা ও রাতে অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাধুসঙ্গ। আজ মঙ্গলবার সকালে বাল্য সেবা ও দুপুরে পূর্ণসেবার মধ্য দিয়ে শেষ হয় লালন দোল উৎসব।

প্রতিবছর দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে লালনের আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে বসে মিলনমেলা। জীবদ্দশায় লালন সাঁই দোলের রাতে ভক্ত-শিষ্যদের নিয়ে সাধুসঙ্গে মিলিত হতেন। তাঁর দেহত্যাগের পর সেই রেওয়াজ অনুসরণ করে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় দোল উৎসব।

তবে এবার রমজান মাস চলমান থাকায় অনুষ্ঠানসূচি সংক্ষিপ্ত করে লালন একাডেমি। আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে ছিল না গ্রামীণ মেলা, ছিল না বড় পরিসরের সাংস্কৃতিক আয়োজন। কেবল ভক্ত-অনুসারীরা তাদের নিজস্ব রীতি অনুযায়ী সাধুসঙ্গের মধ্য দিয়েই পালন করেন উৎসব।

দূর-দূরান্ত থেকে আগত সাধু ভক্তরা খণ্ড খণ্ড আসন গেড়ে বসে প্রচার করেন লালনের মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক দর্শন। রাতভর চলে আধ্যাত্মিক আলোচনা। শেষপর্যন্ত পূর্ণ সেবা ও প্রার্থনার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় সাধুসঙ্গের।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, গতকাল থেকে লালন উৎসব ২০২৬ আরম্ভ হয়। সন্ধ্যায় রাখাল সেবা ও রাতে অধিবাস এবং আজ ভোরে বাল্য সেবা এবং সর্বশেষ পূর্ণ সেবা দেওয়া হয়েছে, এর মাধ্যমে লালন লালন উৎসব শেষ হচ্ছে।

সাধুসঙ্গে অংশ নেওয়া কয়েকজন ভক্ত বলেন, জাঁকজমক না থাকলেও লালনের দর্শন ও সাধুসঙ্গই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তাদের মতে, বাহ্যিক আয়োজনের চেয়ে অন্তরের ভক্তিই এই উৎসবের মূল শক্তি।

সাদামাটা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলেও ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে আবারও ধ্বনিত হয়েছে লালনের সেই চিরন্তন বাণী, মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ছেঁউড়িয়ার সাধুসঙ্গ

আপডেট টাইম : ০৬:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

আধ্যাত্মিক সাধক ফকির লালন সাঁই-এর স্মরণে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় অনুষ্ঠিত দোল উপলক্ষের সাধুসঙ্গ পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে আজ শেষ হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসের কারণে এবার আয়োজন ছিল সংক্ষিপ্ত ও সাদামাটা। তবুও ভক্ত-অনুসারীদের অংশগ্রহণে আধ্যাত্মিক আবহে সম্পন্ন হয় অনুষ্ঠান।

গতকাল সোমবার বিকেলে রাখাল সেবা ও রাতে অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাধুসঙ্গ। আজ মঙ্গলবার সকালে বাল্য সেবা ও দুপুরে পূর্ণসেবার মধ্য দিয়ে শেষ হয় লালন দোল উৎসব।

প্রতিবছর দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে লালনের আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে বসে মিলনমেলা। জীবদ্দশায় লালন সাঁই দোলের রাতে ভক্ত-শিষ্যদের নিয়ে সাধুসঙ্গে মিলিত হতেন। তাঁর দেহত্যাগের পর সেই রেওয়াজ অনুসরণ করে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় দোল উৎসব।

তবে এবার রমজান মাস চলমান থাকায় অনুষ্ঠানসূচি সংক্ষিপ্ত করে লালন একাডেমি। আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে ছিল না গ্রামীণ মেলা, ছিল না বড় পরিসরের সাংস্কৃতিক আয়োজন। কেবল ভক্ত-অনুসারীরা তাদের নিজস্ব রীতি অনুযায়ী সাধুসঙ্গের মধ্য দিয়েই পালন করেন উৎসব।

দূর-দূরান্ত থেকে আগত সাধু ভক্তরা খণ্ড খণ্ড আসন গেড়ে বসে প্রচার করেন লালনের মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক দর্শন। রাতভর চলে আধ্যাত্মিক আলোচনা। শেষপর্যন্ত পূর্ণ সেবা ও প্রার্থনার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় সাধুসঙ্গের।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, গতকাল থেকে লালন উৎসব ২০২৬ আরম্ভ হয়। সন্ধ্যায় রাখাল সেবা ও রাতে অধিবাস এবং আজ ভোরে বাল্য সেবা এবং সর্বশেষ পূর্ণ সেবা দেওয়া হয়েছে, এর মাধ্যমে লালন লালন উৎসব শেষ হচ্ছে।

সাধুসঙ্গে অংশ নেওয়া কয়েকজন ভক্ত বলেন, জাঁকজমক না থাকলেও লালনের দর্শন ও সাধুসঙ্গই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তাদের মতে, বাহ্যিক আয়োজনের চেয়ে অন্তরের ভক্তিই এই উৎসবের মূল শক্তি।

সাদামাটা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলেও ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে আবারও ধ্বনিত হয়েছে লালনের সেই চিরন্তন বাণী, মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।


প্রিন্ট