ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া আরও ৩ ইরানি নারী ফুটবলার দেশে ফিরবেন

অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাহার করে আরও তিন ইরানি নারী ফুটবলার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রোববার ক্যানবেরা কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘উইমেন’স এশিয়ান কাপ’-এ অংশ নিতে আসা ইরান দলের সাতজন সদস্য সেদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন। নিজ দেশে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তাদেরকে ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হলে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে একজন সদস্য তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। নতুন করে আরও তিন সদস্য ফিরে যাওয়ায় এখন সাতজনের মধ্যে মাত্র তিনজন অস্ট্রেলিয়ায় থাকছেন।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গত রাতে ইরান নারী ফুটবল দলের তিন সদস্য দলের বাকি সদস্যদের সঙ্গে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

তিনি আরও জানান, খেলোয়াড়রা তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পর অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তারা তাদেরকে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও বিকল্প পথগুলো নিয়ে পুনরায় ভাবার একাধিক সুযোগ দিয়েছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলীয় সরকার দলটির সদস্যদের আশ্রয় দেওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। তবে খেলোয়াড়দের জন্য এটি ছিল ‘অত্যন্ত কঠিন একটি সিদ্ধান্ত’।

ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরাইলের বিমান হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই ফুটবল নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে, ইরানের কর্তৃপক্ষ বিদেশে অবস্থানরত ক্রীড়াবিদদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তারা দলত্যাগ করলে বা দেশের বিরুদ্ধে কথা বললে দেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের হুমকি দেওয়া বা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ভয় দেখানো হয়।

মন্ত্রী বার্ক আরও বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় এই নারীদের নিরাপদ ভবিষ্যতের সুযোগ নিশ্চিত করতে আমাদের সরকার সম্ভাব্য সবকিছুই করেছে।’

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরবি শনিবার জানায়, দুইজন খেলোয়াড় এবং একজন টেকনিক্যাল স্টাফসহ দলের মোট তিন জন রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাহার করেছেন। বর্তমানে তারা মালয়েশিয়ার পথে রয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই নারী ফুটবলারদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন এবং তাদেরকে দেশটিতে সাদরে গ্রহণ করা হবে বলেও জানান। তবে ইরানের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের ‘অপহরণ’ এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে মাতৃভূমি ত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ এনেছে।

অস্ট্রেলিয়ায় টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সংগীত বাজার সময় ইরানি খেলোয়াড়রা নীরব ছিলেন। এই ঘটনাকে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একজন উপস্থাপক খেলোয়াড়দের ‘যুদ্ধকালীন দেশদ্রোহী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এতে খেলোয়াড়রা দেশে ফিরলে নিপীড়ন বা আরও বড় বিপদের মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়।

পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তারা জাতীয় সংগীত গাইলেও মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করে বলেছিলেন যে, যা হওয়ার তা আগেই হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, অধিনায়ক জাহরা ঘানবারিসহ দলের পাঁচ খেলোয়াড় গভীর রাতে হোটেল থেকে পালিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিডনি ত্যাগ করার আগে আরও একজন খেলোয়াড় ও একজন সাপোর্টিং স্টাফ আশ্রয়ের আবেদন করেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া আরও ৩ ইরানি নারী ফুটবলার দেশে ফিরবেন

আপডেট টাইম : ১১:৪৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাহার করে আরও তিন ইরানি নারী ফুটবলার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রোববার ক্যানবেরা কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘উইমেন’স এশিয়ান কাপ’-এ অংশ নিতে আসা ইরান দলের সাতজন সদস্য সেদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন। নিজ দেশে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তাদেরকে ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হলে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে একজন সদস্য তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। নতুন করে আরও তিন সদস্য ফিরে যাওয়ায় এখন সাতজনের মধ্যে মাত্র তিনজন অস্ট্রেলিয়ায় থাকছেন।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গত রাতে ইরান নারী ফুটবল দলের তিন সদস্য দলের বাকি সদস্যদের সঙ্গে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

তিনি আরও জানান, খেলোয়াড়রা তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পর অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তারা তাদেরকে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও বিকল্প পথগুলো নিয়ে পুনরায় ভাবার একাধিক সুযোগ দিয়েছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলীয় সরকার দলটির সদস্যদের আশ্রয় দেওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। তবে খেলোয়াড়দের জন্য এটি ছিল ‘অত্যন্ত কঠিন একটি সিদ্ধান্ত’।

ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরাইলের বিমান হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই ফুটবল নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে, ইরানের কর্তৃপক্ষ বিদেশে অবস্থানরত ক্রীড়াবিদদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তারা দলত্যাগ করলে বা দেশের বিরুদ্ধে কথা বললে দেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের হুমকি দেওয়া বা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ভয় দেখানো হয়।

মন্ত্রী বার্ক আরও বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় এই নারীদের নিরাপদ ভবিষ্যতের সুযোগ নিশ্চিত করতে আমাদের সরকার সম্ভাব্য সবকিছুই করেছে।’

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরবি শনিবার জানায়, দুইজন খেলোয়াড় এবং একজন টেকনিক্যাল স্টাফসহ দলের মোট তিন জন রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাহার করেছেন। বর্তমানে তারা মালয়েশিয়ার পথে রয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই নারী ফুটবলারদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন এবং তাদেরকে দেশটিতে সাদরে গ্রহণ করা হবে বলেও জানান। তবে ইরানের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের ‘অপহরণ’ এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে মাতৃভূমি ত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ এনেছে।

অস্ট্রেলিয়ায় টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সংগীত বাজার সময় ইরানি খেলোয়াড়রা নীরব ছিলেন। এই ঘটনাকে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একজন উপস্থাপক খেলোয়াড়দের ‘যুদ্ধকালীন দেশদ্রোহী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এতে খেলোয়াড়রা দেশে ফিরলে নিপীড়ন বা আরও বড় বিপদের মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়।

পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তারা জাতীয় সংগীত গাইলেও মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করে বলেছিলেন যে, যা হওয়ার তা আগেই হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, অধিনায়ক জাহরা ঘানবারিসহ দলের পাঁচ খেলোয়াড় গভীর রাতে হোটেল থেকে পালিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিডনি ত্যাগ করার আগে আরও একজন খেলোয়াড় ও একজন সাপোর্টিং স্টাফ আশ্রয়ের আবেদন করেন।


প্রিন্ট