এস চাঙমা সত্যজিৎ
ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ
“পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল গণহত্যার বিচার করতে হবে” এই শ্লোগানে ‘২৫ মার্চ কলমপতি গণহত্যার ৪৬ বছর’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও প্রদীপ প্রজ্বলন করেছে কাউখালী এলাকাবাসী।
আজ বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) বিকাল ৫.০০ টায় কাউখালীর কলমপতি ইউনিয়নের বড়ডলু এলাকায় এই আলোচনা সভা ও প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। এতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার দেড় শতাধিক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভা শুরুতে কলমপতি গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সভায় জনপ্রতিনিধি স্মৃতি দেবী চাকমার সভাপতিত্বে ও কাউখালী সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্র দয়া চাকমার সঞ্চালনায় ও বক্তব্য রাখেন এলাকার মুরুব্বি প্রতিনিধি মংকালা মার্মা, উক্যহ্লা মার্মা, ডনি মার্মা ও মাউসং মার্মা এবং সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কাউখালী উপজেলা সভাপতি সুজেচ চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কাউখালী উপজেলা সভাপতি একা চাকমা।
বক্তারা বলেন, কলমপতি গণহত্যার ৪৬ বছর হয়ে গেলেও রাষ্ট্র এ ঘটনার কোন বিচার এবং শ্বেতপত্র প্রকাশ করেনি। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর ১৯৮০ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন সেনা কমান্ডারের নির্দেশে কাউখালি হাটবাজারে ঢোল পিটিয়ে এলাকার মুরুব্বী, জনপ্রতিনিধিসহ জনসাধারণকে বিহার সংস্কারের জন্য মিটিংয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতে যাওয়া লোকজনকে সেনাবাহিনী বিনা কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করেছিল। সেটেলার বাঙালিদের লেলিয়ে দিয়ে পাহাড়িদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়েছিল। এতে তিন শতাধিক পাহাড়ি হত্যার শিকার হয়। বৌদ্ধ ভিক্ষুরাও এ হামলা থেকে রেহায় পায়নি। বহু পাহাড়ি নিজ বসতভিটা, জায়গা-জমি ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। আর এ সুযোগে সেটলার বাঙালিরা পাহাড়িদের জায়গা-জমি, বসতভিটা বেদখল করে নিয়েছিল। এসব জায়গা-জমি পাহাড়িরা এখনো ফিরে পায়নি।
বক্তারা আরও বলেন, বিএনপি’র জিয়াউর রহমানের শাসনকালে ১৯৭৯-৮০ সালে চার লক্ষাধিক বাঙালিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনর্বাসন করা হয়, যাদেরকে রেশন সুবিধা দিয়ে পাহাড়িদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। এই সেটলার বাঙালিদের দিয়ে পরবর্তীতে এরশাাদসহ বিভিন্ন সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে ডজনের অধিক গণহত্যাসহ অসংখ্য সাম্প্রদায়িক হামলা সংঘটিত করেছে। এখনো পাহাড়িদের ওপর এ হামলা বন্ধ হয়নি।
বক্তারা বলেন, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আবার ক্ষমতায় এসেছে। তাই বর্তমান বিএনপি সরকারের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ জিয়ার আমলে সংঘটিত কাউখালী গণহত্যাসহ এ যাবত সংঘটিত সকল গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দেখতে চায়।
যতদিন এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার ও শ্বেতপত্র প্রকাশ হবে না এবং পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে না ততদিন লড়াই জারি থাকবে বলে বক্তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভা শেষে সাইরেন বাজিয়ে কলমপতি গণহত্যায় শহীদদের স্মরণ করে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়।