ঢাকা ১২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তাহিরপুরে দোকানের গোডাউনের তালা ভেঙে ২০ লাখ টাকার মালামাল চুরির মামলায় এক যুবক আটক ‎ সাব্বাস ট্রাফিক পুলিশ নবীপ্রেমে আদাবর ১০ নম্বর এলাকায় মিলাদ মাহফিল, আয়োজনে বশির মাইজভান্ডারী শিবপুরে তৃনমুল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়ার চিহ্নিত করন, ও বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত জমি জালিয়াতি, বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ; পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন কালিয়াকৈরে শিয়ালের কামড়ে নারী- শিশুসহ আহত ২০ ময়মনসিংহে আয়কর ভ্যাট সেবা কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন সমাজ বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডেনমার্কে হামলার প্রস্তুতির নিচ্ছে রাশিয়া, দাবি ড্যানিশ গোয়েন্দা সংস্থার মেসির সম্মানে ১০ মিনিটে থামবে খেলা, এক মিনিটের করতালি

বানারীপাড়ায় সন্ত্রাসী রাজু কর্তৃক চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী হামলার শিকার বাবা, ছেলে

রানা মাহমুদঃ

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি ও সহিংস কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আলোচনায় উঠে এসেছে, ৩ নং ইলুহার ওয়ার্ডের বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল হক রাজু নামের এক ব্যক্তি। সর্বশেষ ইউপি সদস্য প্রার্থী মুজাহিদুল হক মুরাদ ও তার বৃদ্ধ পিতার ওপর হামলার ঘটনায় নতুন করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে।স্থানীয় সূত্র, ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযোগপত্র ঘেঁটে জানা গেছে রাজুর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে নির্বাচন সামনে এলেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি, চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ড বেড়ে যায় বলে দাবি স্থানীয়দের।হামলার ঘটনায় সরাসরি অভিযোগ,গত ২৮ এপ্রিল রাতে ইলুহার এলাকায় সংঘটিত হামলার ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে,মেম্বার পদপ্রার্থী মুজাহিদুল হক মুরাদের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।পরবর্তীতে, অভিযোগ অনুযায়ী, সিরাজুল হক রাজুর প্ররোচনায় ইকরামুল সিকদার, ইমরান সিকদারসহ আরও কয়েকজন মিলে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত, নগদ অর্থ লুট এবং বৃদ্ধ পিতাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ ওঠে।
রাজুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অপকর্ম,স্থানীয়দের দাবি,নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন,রাজু এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটান এবং তার বিরুদ্ধে আগে থেকেও চাঁদাবাজি, দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।একজন বাসিন্দা বলেন,এলাকায় কেউ ব্যবসা করতে চাইলে বা নির্বাচন করতে চাইলে চাপ আসে। অনেকেই ভয়ে মুখ খোলে না।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রাজুর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ,অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাজু একটি রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে নিজের প্রভাব বিস্তার করছেন। যদিও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।বিশ্লেষকদের মতে,গ্রামাঞ্চলে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের প্রবণতা নতুন নয়, তবে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। আহতদের অবস্থা,হামলায় গুরুতর আহত ৮২ বছর বয়সী মোক্তার সিকদার বর্তমানে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।মুজাহিদুল হক মুরাদও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং বর্তমানে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।
বানারীপাড়া থানা সূত্রে জানা গেছে, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।ঘটনাটি শুধু একটি হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়,এটি স্থানীয় নির্বাচনী পরিবেশে বিদ্যমান চাঁদাবাজি, প্রভাব বিস্তার ও সন্ত্রাসী সংস্কৃতির একটি প্রতিচ্ছবি।নির্বাচন ঘিরে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি,প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভয় দেখানো রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার এসবই স্থানীয় গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দেয়।এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।
বানারীপাড়ার ইলুহারের এই ঘটনা এখন পুরো এলাকায় উদ্বেগ তৈরি করেছে।এলাকাবাসীর দাবি
দ্রুত তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা নিশ্চিত করা হোক।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

তাহিরপুরে দোকানের গোডাউনের তালা ভেঙে ২০ লাখ টাকার মালামাল চুরির মামলায় এক যুবক আটক ‎

বানারীপাড়ায় সন্ত্রাসী রাজু কর্তৃক চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী হামলার শিকার বাবা, ছেলে

আপডেট টাইম : ০৭:৫৭:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

রানা মাহমুদঃ

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি ও সহিংস কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আলোচনায় উঠে এসেছে, ৩ নং ইলুহার ওয়ার্ডের বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল হক রাজু নামের এক ব্যক্তি। সর্বশেষ ইউপি সদস্য প্রার্থী মুজাহিদুল হক মুরাদ ও তার বৃদ্ধ পিতার ওপর হামলার ঘটনায় নতুন করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে।স্থানীয় সূত্র, ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযোগপত্র ঘেঁটে জানা গেছে রাজুর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে নির্বাচন সামনে এলেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি, চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ড বেড়ে যায় বলে দাবি স্থানীয়দের।হামলার ঘটনায় সরাসরি অভিযোগ,গত ২৮ এপ্রিল রাতে ইলুহার এলাকায় সংঘটিত হামলার ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে,মেম্বার পদপ্রার্থী মুজাহিদুল হক মুরাদের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।পরবর্তীতে, অভিযোগ অনুযায়ী, সিরাজুল হক রাজুর প্ররোচনায় ইকরামুল সিকদার, ইমরান সিকদারসহ আরও কয়েকজন মিলে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত, নগদ অর্থ লুট এবং বৃদ্ধ পিতাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ ওঠে।
রাজুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অপকর্ম,স্থানীয়দের দাবি,নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন,রাজু এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটান এবং তার বিরুদ্ধে আগে থেকেও চাঁদাবাজি, দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।একজন বাসিন্দা বলেন,এলাকায় কেউ ব্যবসা করতে চাইলে বা নির্বাচন করতে চাইলে চাপ আসে। অনেকেই ভয়ে মুখ খোলে না।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রাজুর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ,অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাজু একটি রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে নিজের প্রভাব বিস্তার করছেন। যদিও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।বিশ্লেষকদের মতে,গ্রামাঞ্চলে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের প্রবণতা নতুন নয়, তবে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। আহতদের অবস্থা,হামলায় গুরুতর আহত ৮২ বছর বয়সী মোক্তার সিকদার বর্তমানে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।মুজাহিদুল হক মুরাদও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং বর্তমানে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।
বানারীপাড়া থানা সূত্রে জানা গেছে, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।ঘটনাটি শুধু একটি হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়,এটি স্থানীয় নির্বাচনী পরিবেশে বিদ্যমান চাঁদাবাজি, প্রভাব বিস্তার ও সন্ত্রাসী সংস্কৃতির একটি প্রতিচ্ছবি।নির্বাচন ঘিরে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি,প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভয় দেখানো রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার এসবই স্থানীয় গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দেয়।এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।
বানারীপাড়ার ইলুহারের এই ঘটনা এখন পুরো এলাকায় উদ্বেগ তৈরি করেছে।এলাকাবাসীর দাবি
দ্রুত তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা নিশ্চিত করা হোক।


প্রিন্ট