ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম পটুয়াখালীতে পিকআপ ভ্যান থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাতক্ষীরায় দিনমজুর সাগর হত্যাকাণ্ডের বিচার

বিশেষ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার দক্ষিণ ভাদলী গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর সাগর (৩৩) হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার, মামলা গ্রহণ, জড়িতদের গ্রেফতার, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিচার দাবি করায় পরিবারকে দেওয়া প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পুনরায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে মানবাধিকার সংগঠন ভার্ড-বাংলাদেশ (VARD-BANGLADESH)।
মঙ্গলবার (২ জুন) সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর সাগরকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রাখা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ ডিসেম্বর তার মৃত্যু ঘটে। কিন্তু ঘটনার প্রায় ১৮ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর মামলা বা বিচারিক অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি।
মানববন্ধনে ভার্ড-বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান এম.এস.এ রেজা বলেন, “একজন অসহায় দিনমজুরের মৃত্যুর প্রায় ১৮ মাস অতিবাহিত হলেও বিচারিক প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আরও দুঃখজনক হলো, বিচার দাবি করায় নিহতের পরিবারকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, মামলা গ্রহণ, জড়িতদের গ্রেফতার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. মাহাবুব আলম আব্বাসী বলেন, “সাগর হত্যাকাণ্ডের মতো একটি নৃশংস ঘটনার বিচার দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।”
মহাসচিব শহিদুল ইসলাম বলেন, “যে পরিবার ন্যায়বিচার চাইতে গিয়ে হুমকির মুখে পড়ে, সেই পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
এসময় বক্তব্য দেন দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং বাংলাদেশ হিউম্যানরাইটস এন্ড প্রেস সোসাইটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আকাশ। তিনি বলেন, “গণমাধ্যমে বারবার বিষয়টি উঠে আসলেও যদি ভুক্তভোগী পরিবার বিচার না পায়, তবে তা ন্যায়বিচার ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।

বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবমুক্ত রেখে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।”
মানবাধিকার সংগঠক মুসলিম উদ্দিন সম্রাট বলেন, “কোনো নাগরিকের পরিবার যদি বিচার চাওয়ার কারণে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হয়, তাহলে সেটি রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের বিষয়। আমরা অবিলম্বে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।”
বক্তারা আরও বলেন, সাগর হত্যাকাণ্ড এবং এ-সংক্রান্ত অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু নির্দেশনার ২২ দিন অতিবাহিত হলেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা অভিযোগ করেন, যশোরের শার্শা-বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মাসুদ হোসেন, ভার্ড-বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আশিক মন্ডল, যুগ্ম সম্পাদক সোহাগ হাসান ও মো. রিয়াজ, কার্যকরী সদস্য মো. আকাশ মাদবরসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে সাগর হত্যাকাণ্ডের মামলা গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেফতার, ভুক্তভোগী পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ এবং সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানানো হয়
এছাড়া বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর লিখিত আবেদন প্রদান করা হয়েছে বলেও মানববন্ধন থেকে জানানো হয়।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাতক্ষীরায় দিনমজুর সাগর হত্যাকাণ্ডের বিচার

আপডেট টাইম : ০৫:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার দক্ষিণ ভাদলী গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর সাগর (৩৩) হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার, মামলা গ্রহণ, জড়িতদের গ্রেফতার, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিচার দাবি করায় পরিবারকে দেওয়া প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পুনরায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে মানবাধিকার সংগঠন ভার্ড-বাংলাদেশ (VARD-BANGLADESH)।
মঙ্গলবার (২ জুন) সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর সাগরকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রাখা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ ডিসেম্বর তার মৃত্যু ঘটে। কিন্তু ঘটনার প্রায় ১৮ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর মামলা বা বিচারিক অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি।
মানববন্ধনে ভার্ড-বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান এম.এস.এ রেজা বলেন, “একজন অসহায় দিনমজুরের মৃত্যুর প্রায় ১৮ মাস অতিবাহিত হলেও বিচারিক প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আরও দুঃখজনক হলো, বিচার দাবি করায় নিহতের পরিবারকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, মামলা গ্রহণ, জড়িতদের গ্রেফতার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. মাহাবুব আলম আব্বাসী বলেন, “সাগর হত্যাকাণ্ডের মতো একটি নৃশংস ঘটনার বিচার দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।”
মহাসচিব শহিদুল ইসলাম বলেন, “যে পরিবার ন্যায়বিচার চাইতে গিয়ে হুমকির মুখে পড়ে, সেই পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
এসময় বক্তব্য দেন দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং বাংলাদেশ হিউম্যানরাইটস এন্ড প্রেস সোসাইটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আকাশ। তিনি বলেন, “গণমাধ্যমে বারবার বিষয়টি উঠে আসলেও যদি ভুক্তভোগী পরিবার বিচার না পায়, তবে তা ন্যায়বিচার ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।

বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবমুক্ত রেখে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।”
মানবাধিকার সংগঠক মুসলিম উদ্দিন সম্রাট বলেন, “কোনো নাগরিকের পরিবার যদি বিচার চাওয়ার কারণে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হয়, তাহলে সেটি রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের বিষয়। আমরা অবিলম্বে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।”
বক্তারা আরও বলেন, সাগর হত্যাকাণ্ড এবং এ-সংক্রান্ত অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু নির্দেশনার ২২ দিন অতিবাহিত হলেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা অভিযোগ করেন, যশোরের শার্শা-বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মাসুদ হোসেন, ভার্ড-বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আশিক মন্ডল, যুগ্ম সম্পাদক সোহাগ হাসান ও মো. রিয়াজ, কার্যকরী সদস্য মো. আকাশ মাদবরসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে সাগর হত্যাকাণ্ডের মামলা গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেফতার, ভুক্তভোগী পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ এবং সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানানো হয়
এছাড়া বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর লিখিত আবেদন প্রদান করা হয়েছে বলেও মানববন্ধন থেকে জানানো হয়।


প্রিন্ট