ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পিরোজপুর প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে  বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন। ‎ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাবা-মায়ের কবরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ মাদক কোনো সমাধান নয়; বরং এটি জীবন ধ্বংসের অন্যতম কারণ-ওসি, মো. জাকির হোসেন বিশ্বম্ভরপুরে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি আটক বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে বিশাল শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত কুড়িগ্রামে নানা কর্মসূচিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন দোয়া মাহফিল ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে পথসভা, নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এর শুভেচ্ছা বার্তা

গোদাগাড়ী মেডিকেল মোড়ে আম গাছে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারহীনতার অবসানের দাবি এলাকাবাসীর

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

 
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মেডিকেল মোড় পূর্বপাড়া এলাকার ওয়াসা গেট সংলগ্ন একটি আম বাগান থেকে ইব্রাহিম (৩০) নামের এক যুবকের ফাঁসিতে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সকালে স্থানীয় জনগণ আম গাছে তাঁর মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।

 
​নিহত ইব্রাহিম মেডিকেল মোড় শ্রীমন্তপুর গ্রামের রেজাউল করিমের (ইসলাম) ছেলে। তিনি পেশায় একজন থাই গ্লাস মিস্ত্রি ছিলেন।
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ওয়াসা গেট সংলগ্ন আম বাগানের একটি গাছে ইব্রাহিমের মরদেহ ঝুলতে দেখে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সচেতন এলাকাবাসী এই ঘটনার পেছনের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।

ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, গোদাগাড়ী এলাকায় গত কয়েক বছরে এ ধরনের রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহের অন্তত ১০-১৫টি ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কোনো একটি ঘটনারও আজ পর্যন্ত সঠিক বিচার বা রহস্য উদ্ঘাটন হতে দেখেনি সাধারণ মানুষ।

 
​এলাকাবাসীর অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটনার পর পর প্রভাবশালী পক্ষ বা অপরাধীরা নিহতের পরিবারের সাথে ‘আপস-মীমাংসা’ বা সমঝোতা করে ফেলে। অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বা প্রলোভন দেখিয়ে বলানো হয় ‘আমার ছেলে, স্বামী বা ভাই ভালো ছিল না, সে আত্মহত্যা করেছে’। আবার কিছু ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিময়ের মাধ্যমে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয়।

 
​স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের আপস-সমঝোতার সংস্কৃতি দেখে মনে হয়, টাকা আর ক্ষমতা থাকলে যে কাউকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়ে পার পেয়ে যাওয়া সম্ভব। গোদাগাড়ীতে বারবার এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির প্রধান কারণ হলো আইনের শাসন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি। অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ায় এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে।

 
​একই সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজস্ব দায়িত্ববোধ ও তদন্তের সীমাবদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় কেন পুলিশ বাদী হয়ে বা স্বপ্রণোদিত হয়ে অপরাধের গোড়ায় পৌঁছাতে পারছে না তা নিয়ে জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 
​এলাকাবাসীর দাবি, ইব্রাহিমের মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্ত ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে বের করা হোক, যেন আর কোনো অপরাধ বা রহস্য ‘সমঝোতা’র বেড়াজালে চাপা পড়ে না যায়।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পিরোজপুর প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে  বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন। ‎

গোদাগাড়ী মেডিকেল মোড়ে আম গাছে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারহীনতার অবসানের দাবি এলাকাবাসীর

আপডেট টাইম : ০৭:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

 
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মেডিকেল মোড় পূর্বপাড়া এলাকার ওয়াসা গেট সংলগ্ন একটি আম বাগান থেকে ইব্রাহিম (৩০) নামের এক যুবকের ফাঁসিতে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সকালে স্থানীয় জনগণ আম গাছে তাঁর মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।

 
​নিহত ইব্রাহিম মেডিকেল মোড় শ্রীমন্তপুর গ্রামের রেজাউল করিমের (ইসলাম) ছেলে। তিনি পেশায় একজন থাই গ্লাস মিস্ত্রি ছিলেন।
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ওয়াসা গেট সংলগ্ন আম বাগানের একটি গাছে ইব্রাহিমের মরদেহ ঝুলতে দেখে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সচেতন এলাকাবাসী এই ঘটনার পেছনের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।

ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, গোদাগাড়ী এলাকায় গত কয়েক বছরে এ ধরনের রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহের অন্তত ১০-১৫টি ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কোনো একটি ঘটনারও আজ পর্যন্ত সঠিক বিচার বা রহস্য উদ্ঘাটন হতে দেখেনি সাধারণ মানুষ।

 
​এলাকাবাসীর অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটনার পর পর প্রভাবশালী পক্ষ বা অপরাধীরা নিহতের পরিবারের সাথে ‘আপস-মীমাংসা’ বা সমঝোতা করে ফেলে। অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বা প্রলোভন দেখিয়ে বলানো হয় ‘আমার ছেলে, স্বামী বা ভাই ভালো ছিল না, সে আত্মহত্যা করেছে’। আবার কিছু ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিময়ের মাধ্যমে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয়।

 
​স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের আপস-সমঝোতার সংস্কৃতি দেখে মনে হয়, টাকা আর ক্ষমতা থাকলে যে কাউকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়ে পার পেয়ে যাওয়া সম্ভব। গোদাগাড়ীতে বারবার এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির প্রধান কারণ হলো আইনের শাসন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি। অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ায় এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে।

 
​একই সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজস্ব দায়িত্ববোধ ও তদন্তের সীমাবদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় কেন পুলিশ বাদী হয়ে বা স্বপ্রণোদিত হয়ে অপরাধের গোড়ায় পৌঁছাতে পারছে না তা নিয়ে জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 
​এলাকাবাসীর দাবি, ইব্রাহিমের মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্ত ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে বের করা হোক, যেন আর কোনো অপরাধ বা রহস্য ‘সমঝোতা’র বেড়াজালে চাপা পড়ে না যায়।


প্রিন্ট