ঢাকা ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

বিদ্যালয়ের জমি বিক্রি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসানকে ঘিরে চাঞ্চল্য

রিপোর্টার: শাফায়েত হোসেন

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের সুবলপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জমি বিক্রি, নিয়োগ বাণিজ্য এবং অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের মোট ৫১ শতক জমির মধ্যে প্রায় ২৫ শতক বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি অফিসের নথিপত্রে বিক্রির তথ্য রয়েছে এবং সেই কাগজপত্র গণমাধ্যমের কাছেও সংরক্ষিত আছে। তারা দাবি করেন, বিদ্যালয়ের সম্পত্তি নিজের নামে বিক্রির মাধ্যমে অনিয়ম করা হয়েছে।

এছাড়া প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগের নামে অর্থ গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগী হিসেবে মতিয়ার হোসেন রানা অভিযোগ করেন, চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

আরেক ভুক্তভোগী, ইংরেজি শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত বলে দাবি করা একজন ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তার কাছ থেকেও ১ লাখ ১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। উভয়েই ক্যামেরার সামনে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এভাবে প্রায় ২০ জনের কাছ থেকে আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের সমর্থনে তাদের কাছে বিভিন্ন কাগজপত্র ও তথ্যপ্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য, উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাৎ এবং স্কুল পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতার ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, তারা শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছেন বা আবেদন করেছেন।

প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসানের বক্তব্যও এ বিষয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি ক্যামেরার সামনে কিছু বিষয়ে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে তার বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল এখনো জানা যায়নি।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে অসচ্ছল ও এতিম শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে। তাই বিদ্যালয়ের সম্পত্তি বিক্রি এবং অনিয়মের অভিযোগে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

বিদ্যালয়ের জমি বিক্রি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসানকে ঘিরে চাঞ্চল্য

আপডেট টাইম : ০৬:৫৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

রিপোর্টার: শাফায়েত হোসেন

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের সুবলপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জমি বিক্রি, নিয়োগ বাণিজ্য এবং অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের মোট ৫১ শতক জমির মধ্যে প্রায় ২৫ শতক বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি অফিসের নথিপত্রে বিক্রির তথ্য রয়েছে এবং সেই কাগজপত্র গণমাধ্যমের কাছেও সংরক্ষিত আছে। তারা দাবি করেন, বিদ্যালয়ের সম্পত্তি নিজের নামে বিক্রির মাধ্যমে অনিয়ম করা হয়েছে।

এছাড়া প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগের নামে অর্থ গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগী হিসেবে মতিয়ার হোসেন রানা অভিযোগ করেন, চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

আরেক ভুক্তভোগী, ইংরেজি শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত বলে দাবি করা একজন ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তার কাছ থেকেও ১ লাখ ১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। উভয়েই ক্যামেরার সামনে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এভাবে প্রায় ২০ জনের কাছ থেকে আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের সমর্থনে তাদের কাছে বিভিন্ন কাগজপত্র ও তথ্যপ্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য, উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাৎ এবং স্কুল পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতার ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, তারা শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছেন বা আবেদন করেছেন।

প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসানের বক্তব্যও এ বিষয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি ক্যামেরার সামনে কিছু বিষয়ে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে তার বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল এখনো জানা যায়নি।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে অসচ্ছল ও এতিম শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে। তাই বিদ্যালয়ের সম্পত্তি বিক্রি এবং অনিয়মের অভিযোগে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।


প্রিন্ট