ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দিনাজপুরের বিরামপুরে উৎসবমুখর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত উপস্থিত ছিলেন মাননীয় মন্ত্রী, ডা. জাহিদ হোসেন স্বামীর নির্যাতনে ঘরছাড়া এক সন্তানের মা রিমা, স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ রিপোর্টার্স ক্লাবের নতুন কমিটি অনুমোদন সভাপতি নাহিদ সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া খান জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী আদর্শের সাথে দেশের জনগণকে একত্রিত করার লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন-এমপি, ফজলুল হক মিলন গাইবান্ধায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবিবার্ষিকী উদযাপিত আনন্দ র‍্যালি ও সমাবেশ কালিয়াকৈরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন বিএনপির ৬ মাসের উন্নয়ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান ‘বিএনপি সরকার ব্যর্থ হয় না’ -পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ বিপদে পড়লেই মানুষ চেনা যায়,আসল বন্ধু পাশে থাকে, নকল বন্ধু দূরে সরে যায় কেশবপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা করে প্রেসক্রিপশন, ফার্মেসিকে জরিমানা

স্বামীর নির্যাতনে ঘরছাড়া এক সন্তানের মা রিমা, স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় স্বামীর নির্যাতনে ঘরছাড়া হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক সন্তানের মা রিমা আক্তার। স্বামী পাবেল ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, হুমকি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী রিমা আক্তারের দাবি, প্রায় পাঁচ বছর আগে পাবেলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং প্রায় দুই বছর পর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকেই স্বামী পাভেল তার কাছে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করতে থাকেন বলে অভিযোগ রিমার।

রিমার ভাষ্য অনুযায়ী, তার মা-বাবা কেউ জীবিত না থাকায় নিজের জমি বিক্রি করে স্বামীকে প্রায় ১০ লাখ টাকা দেন। এভাবেই চলছিল তাদের সংসার। একপর্যায়ে তাদের ঘরে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। বর্তমানে ওই সন্তানের বয়স প্রায় চার বছর। শিশুটির নাম মুশফিকা আরশ।

রিমা আক্তারের অভিযোগ, পাভেল তার পরিবারের সদস্যদের কথায় বিভিন্ন সময় তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এমনকি বিয়ের পর একাধিকবার তালাকের কাগজ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। পরে আবার তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করা হলেও কিছুদিন পরপরই পারিবারিকভাবে বিভিন্ন ধরনের ঝামেলা ও নির্যাতন চলতে থাকে বলে অভিযোগ তার।

ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পাবেলের ছোট ভাই নাঈমের নেতৃত্বে একদল কিশোর তার বাসায় হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে বলেও দাবি করেন রিমা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহযোগিতা চান।

রিমা আক্তার জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ন্যায়বিচারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরলেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। সর্বশেষ গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তাকে জোরপূর্বক বাসা থেকে বের করে ঢাকাউদ্যান এলাকার একটি কাজী অফিসে নিয়ে আবারও তালাকের কাগজ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রিমার দাবি, তাকে টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তীতে সন্ত্রাসী বা লোকজনের মাধ্যমে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এসব ঘটনায় তিনি নিজেকে অসহায় দাবি করে ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী রিমা আক্তার বলেন, তিনি তার দেওয়া প্রায় ১০ লাখ টাকা, কাবিনের টাকা এবং চার বছরের সন্তানের ভরণপোষণসহ আইন অনুযায়ী প্রাপ্য অধিকার ফিরে পেতে চান।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, থানা-পুলিশ, মানবাধিকার সংস্থা এবং গণমাধ্যমের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে তার চার বছরের সন্তানের ভবিষ্যৎ ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

তবে রিমা আক্তারকে ঘিরে পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানে গণমাধ্যমের হাতে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। সঠিক সময়ে এসব তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ করা হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। রিমা আক্তার ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করেন।

ভুক্তভোগী রিমা আক্তার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুরের বিরামপুরে উৎসবমুখর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত উপস্থিত ছিলেন মাননীয় মন্ত্রী, ডা. জাহিদ হোসেন

স্বামীর নির্যাতনে ঘরছাড়া এক সন্তানের মা রিমা, স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৮:৫২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় স্বামীর নির্যাতনে ঘরছাড়া হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক সন্তানের মা রিমা আক্তার। স্বামী পাবেল ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, হুমকি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী রিমা আক্তারের দাবি, প্রায় পাঁচ বছর আগে পাবেলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং প্রায় দুই বছর পর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকেই স্বামী পাভেল তার কাছে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করতে থাকেন বলে অভিযোগ রিমার।

রিমার ভাষ্য অনুযায়ী, তার মা-বাবা কেউ জীবিত না থাকায় নিজের জমি বিক্রি করে স্বামীকে প্রায় ১০ লাখ টাকা দেন। এভাবেই চলছিল তাদের সংসার। একপর্যায়ে তাদের ঘরে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। বর্তমানে ওই সন্তানের বয়স প্রায় চার বছর। শিশুটির নাম মুশফিকা আরশ।

রিমা আক্তারের অভিযোগ, পাভেল তার পরিবারের সদস্যদের কথায় বিভিন্ন সময় তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এমনকি বিয়ের পর একাধিকবার তালাকের কাগজ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। পরে আবার তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করা হলেও কিছুদিন পরপরই পারিবারিকভাবে বিভিন্ন ধরনের ঝামেলা ও নির্যাতন চলতে থাকে বলে অভিযোগ তার।

ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পাবেলের ছোট ভাই নাঈমের নেতৃত্বে একদল কিশোর তার বাসায় হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে বলেও দাবি করেন রিমা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহযোগিতা চান।

রিমা আক্তার জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ন্যায়বিচারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরলেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। সর্বশেষ গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তাকে জোরপূর্বক বাসা থেকে বের করে ঢাকাউদ্যান এলাকার একটি কাজী অফিসে নিয়ে আবারও তালাকের কাগজ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রিমার দাবি, তাকে টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তীতে সন্ত্রাসী বা লোকজনের মাধ্যমে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এসব ঘটনায় তিনি নিজেকে অসহায় দাবি করে ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী রিমা আক্তার বলেন, তিনি তার দেওয়া প্রায় ১০ লাখ টাকা, কাবিনের টাকা এবং চার বছরের সন্তানের ভরণপোষণসহ আইন অনুযায়ী প্রাপ্য অধিকার ফিরে পেতে চান।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, থানা-পুলিশ, মানবাধিকার সংস্থা এবং গণমাধ্যমের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে তার চার বছরের সন্তানের ভবিষ্যৎ ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

তবে রিমা আক্তারকে ঘিরে পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানে গণমাধ্যমের হাতে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। সঠিক সময়ে এসব তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ করা হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। রিমা আক্তার ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করেন।

ভুক্তভোগী রিমা আক্তার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।


প্রিন্ট