অসাবধানতার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হারিয়ে যাওয়া ১২৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।
আজ দুপুরে আরএমপি’র সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির প্রকৃত মালিকদের হাতে মোবাইল ফোনগুলো তুলে দেন।
আরএমপি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এই মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধার করে। দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে মালিকরা আনন্দ প্রকাশ করেন এবং পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
নিউ ডিগ্রী কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল এস. এম জার্জিস কাদির বলেন, ‘দীর্ঘদিন আগে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি ফিরে পাব-এমন আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। আরএমপি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিটের আন্তরিকতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় ফোনটি ফিরে পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’ এ জন্য পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সকল পুলিশ সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্বর্ণা চক্রবর্তী বলেন, ‘হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ফিরে পাওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে আরএমপি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিট যেভাবে প্রযুক্তির সহায়তায় ফোনটি উদ্ধার করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। নাগরিকদের প্রতি পুলিশের এমন আন্তরিক ও জনবান্ধব সেবার জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
পুলিশ কমিশনার বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। মানুষের নিজের অর্জিত সম্পদের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই আবেগ ও টান থাকে। অনেকেই দীর্ঘদিনের সঞ্চয় দিয়ে প্রয়োজন ও শখ অনুযায়ী মোবাইল ফোন কেনেন।
তিনি বলেন, তাই একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে শুধু আর্থিক ক্ষতিই হয় না, এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ, ব্যক্তিগত তথ্য, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, পাসওয়ার্ড ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত তথ্যও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। ফলে মোবাইল হারানোর ঘটনা অনেকের জন্য গভীর মানসিক কষ্ট ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অনুষ্ঠানে উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দিয়ে পুলিশ কমিশনার তাদের অভিনন্দন জানান।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে মোবাইল ফোন ব্যবহারে আরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি ফোনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আইএমইআই নম্বর সংরক্ষণ করার জন্য তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, আরএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি)-এর দায়িত্বে অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিহার) মাঈনুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার দীন মোহাম্মদ, উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আবুল কালাম সাহিদসহ আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 






















