সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিলম্বে ভুল বাণিজ্যনীতি সংশোধনের’ আহ্বান চীনের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ার মধ্যে ফেরি চলাচল সাময়িক বন্ধ ছিল রাজবাড়ীতে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ বাগেরহাটে স্কুলের বারান্দায় মাদক সেবন দুবাই বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে বুড়িমারী স্থলবন্দরে ১১ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ঈদে কারাবন্দিদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে দিনাজপুরের ‎বিরামপুরে পৌর ছাত্রদলের বাবলু স্মৃতি সংঘের উদ‍্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

২০ বছরেই পদ্মা সেতুর খরচ উঠে আসবে: প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০২২
  • ১৯৪ বার পঠিত

আগামী ১৮ থেকে ২০ বছরেই পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় উঠে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি অনুযায়ী টোল আদায়ের মাধ্যমে ২৫ থেকে ২৬ বছরে খরচ উঠে আসার পূর্বাভাস ছিল। তবে আমি মনে করি অনেক আগেই আমরা এই সেতুর টাকা তুলে ফেলতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ ও ২০২২ সালের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। এদিন সংসদে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পাস করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজস্ব অর্থায়নের এই খরচের টাকা সেতু কর্তৃপক্ষ সরকারের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে। ১ শতাংশ সদুসহ ২৫ বছরে সরকারকে ফেরত দেবে। সেই চুক্তি করে সেতু কর্তৃপক্ষ ঋণ নিয়েছে। এই সেতু হয়েছে আমাদের নিজের টাকায়। অনেক আগেই আমরা এই সেতুর টাকা তুলে ফেলতে পারব। ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে আমাদের খরচ উঠে আসবে।

তিনি বলেন, আমাদের সমালোচনাকারীরা দেশের মানুষের শক্তি, সাহস ও ক্ষমতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। নইলে তারা বার বার বাধা দেবে কেন? তারা আসলে জাতি হিসেবে আমাদের সক্ষমতাকে সবসময় অবমূল্যায়ন করে। হেয় প্রতিপন্ন করে। সবসময় যেন অন্যের কাছে হাত পেতে চলার মানসিকতায় ভোগে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সেতু নির্মাণে তার সরকারের বহুদিনের প্রচেষ্টা ছিল, যার ভিত্তিপ্রস্তরও তিনি ২০০১ সালে স্থাপন করে যান। যদিও পরবর্তী বিএনপি সরকার সেই নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। আর ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি ব্যয় প্রাক্কলন করে (১০ হাজার কোটি টাকা) যার কোনো বাস্তব ভিত্তি যেমন ছিল না, তেমনি এরপর বহু যোজন বিয়োজন হয় প্রকল্পে।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আবারও রাষ্ট্র্রচালনার দায়িত্ব পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় এবং সরকারের দায়িত্ব নেয়ার ২২ দিনের মাথায় পদ্মা সেতুর পূর্ণাঙ্গ নকশা তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘মনসেল এইকম’কে নিয়োগ দেয়।

সেতু নির্মাণকালে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সে সময়কার দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রতিশ্রুত অর্থ প্রত্যাহার করে নিলে অন্য উন্নয়ন সহযোগীরাও তখন সরে দাঁড়ায়। যদিও পরবর্তীতে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ কানাডার একটি আদালতে মিথ্যা বলেই প্রমাণিত হয়। আর নিজস্ব অর্থেই পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

সে সময় দেশের অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তির বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, আমি জানি তখন আমাদের দেশের অনেক বিশেষজ্ঞ, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারি এমনকি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ভেবেছিলেন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের টাকা ছাড়া এই সেতু নির্মাণ সম্ভব হবে না, যে কথাটি আমাকে বার বার শুনতে হয়েছে। কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম নিজস্ব অর্থায়নে সেতু করতে পারলে তবেই করব, কারো কাছে হাত পেতে করব না এবং বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াবে ও নিজেই করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সেতু নির্মাণ করতে গেলে দেশীয় রিজার্ভের ওপর চাপ আশার যে আশংকা ছিল সেখানে আমার একটা হিসেব ছিল যে সেতুটি নির্মাণে প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর সময় লাগতে পারে এবং সে সময়ে বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার করে যদি ব্যয় করা যায় তাহলে রিজার্ভে কোনো চাপ পড়বে না।

নিজস্ব অর্থায়ণে তার সেতু নির্মাণের ঘোষণায় দেশের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসার কথাও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু কেবল দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের ক্ষেত্রেই নয়, বাংলাদেশ যাতে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে তার স্বর্ণদুয়ারও উন্মোচন করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com