হাফসা আক্তারঃ
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীতে অবৈধ বিদেশি মদ মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৬৫ বোতল ভারতীয় বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি দল শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ডিএমপির হাজারীবাগ থানার বছিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন ডিএনসির সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ, যা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এ সময় ওই বাসা থেকে মো. গাউসুল আজম প্রিন্স (৩৪) ও মো. আবদুর রহমান (৩৭) নামে দুইজনকে আটক করা হয়।
পরে বাসার ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে চারটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৬৫ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদের মধ্যে রয়্যাল স্ট্যাগ, আইস ভদকা, ব্লেন্ডার্স প্রাইড এবং ম্যাকডাওয়েলস ব্র্যান্ডের মদ রয়েছে। প্রতিটি বোতল ৭৫০ মিলিলিটার হিসেবে মোট প্রায় ৪৮ লিটারের বেশি বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসা ভাড়া নিয়ে গোপনে বিদেশি মদ মজুদ করে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছিলেন। এর মধ্যে গাউসুল আজম প্রিন্স রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বিদেশি মদের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা পরিচালনা করতেন। অপরদিকে আবদুর রহমান দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা, বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা অঞ্চল থেকে অবৈধভাবে ভারতীয় মদ সংগ্রহ করে ঢাকায় সরবরাহ করতেন।
ডিএনসি জানায়, ঈদকে সামনে রেখে চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিতে তারা বড় চালান সংগ্রহ করে মজুদ করেছিল।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অবৈধভাবে আনা এসব বিদেশি মদ অনেক সময় ভেজাল বা ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত থাকে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এতে অতিরিক্ত মিথানল থাকলে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়া, স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় হাজারীবাগ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দ করা আলামতের নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ডিএনসি জানিয়েছে, উৎসবকে কেন্দ্র করে অবৈধ মাদক ও ভেজাল মদের বিস্তার রোধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।