শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার, বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান পুলিশ সদর দপ্তরের ঝালকাঠিতে অর্ধশত পরিবারের ঈদুল ফিতর উদযাপন মার্কিন সমর্থিত বিমান হামলায় আতঙ্কিত ইকুয়েডরের সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠী অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত যুদ্ধে বড় সাফল্যের দাবি নেতানিয়াহুর, জবাবে ইসরাইলে ইরানের ব্যাপক হামলা শোলাকিয়ার মুসল্লিদের জন্য থাকছে ঈদ স্পেশাল ট্রেন আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা জনতাই সকল ক্ষমতার উৎস এবং জনতা চাইলে আমি জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করব: সিরাজুল ইসলাম সিরাজ রিজভীর অসুস্থতায় নুইয়ে পড়েছে নয়াপল্টন গাইবান্ধায় পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

মার্কিন সমর্থিত বিমান হামলায় আতঙ্কিত ইকুয়েডরের সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠী

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬
  • ২ বার পঠিত

ইকুয়েডর-কলম্বিয়া সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযানে খামারবাড়িতে বোমা হামলা, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া এবং গ্রামবাসীদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

৬৬ বছর বয়সী হোসে পেনা জানান, গত ৬ মার্চ ইকুয়েডরের দুটি সামরিক হেলিকপ্টার তার মাথার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে পড়েন। এরপর একটি বিকট বিস্ফোরণে চারপাশ কেঁপে ওঠে এবং তিনি যে খামারে কাজ করতেন তা ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

ইকুয়েডরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এএফপি’কে জানান, দীর্ঘ কয়েক মাসের পরিকল্পনার পর ওই হামলা চালানো হয়। তাদের লক্ষ্য ছিল ‘বর্ডার কমান্ডো’ নামক একটি গেরিলা গোষ্ঠীর আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া।

এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের কোকা ক্ষেত থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে মাদক পাচারের পথ দখলের লড়াইয়ে লিপ্ত। গত কয়েক বছরে ইকুয়েডর হয়ে উঠেছে কোকেন পাচারের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এক সময়ের নিরাপদ এই দেশটি এখন লাতিন আমেরিকার অন্যতম সহিংস রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

সরকার হামলাগুলো অপরাধী চক্রের ওপর হয়েছে বলে দাবি করলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এএফপি’র প্রতিনিধিরা দুর্গম ওই সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে তিনটি ধ্বংসস্তূপ দেখতে পেয়েছেন। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল মরা পশুপাখি এবং পুড়ে যাওয়া লেবু ও অ্যাভোকাডো গাছ। তবে সেখানে মাদক উৎপাদন বা পাচারের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিমান হামলার কয়েক দিন আগে সৈন্যরা তিনটি ঘর পুড়িয়ে দিয়েছিল।

২৬ বছর বয়সী গিলসন ভার্গাস জানান, তাকেসহ আরও চারজনকে চোখ বেঁধে মারধর করা হয়েছে এবং একটি সামরিক ঘাঁটিতে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকজনকে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে হেলিকপ্টারে তোলা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে সৈন্যরা মাটিতে গুলি চালিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

আইনজীবী লিনা মারিয়া এস্পিনোসা জানান, তার মক্কেলরা ইলেকট্রিক শক এবং পানিতে ডুবিয়ে রাখার মতো নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। এক ব্যক্তির হাতে হাতকড়ার গভীর ক্ষত দেখা গেছে। তবে এএফপি এসব অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।

অন্য একটি গ্রামে বাসিন্দারা জানান, গত ৩ মার্চ ছোট বিমান থেকে ফেলা বোমায় একটি খামারে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।

ইকুয়েডর সরকার বা প্রসিকিউটররা এই নির্যাতন বা ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগের সরাসরি কোনো জবাব দেননি।

প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়ার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ‘অপারেশন টোটাল এক্সটারমিনেশন’ বা ‘সম্পূর্ণ নির্মূল অভিযান’ চালানো হচ্ছে। ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচারকারীদের দমনে এই অভিযান চলছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্ক করলেও সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই অভিযানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি দাবি করেছেন, ইকুয়েডর থেকে ছোড়া একটি অবিস্ফোরিত বোমা কলম্বিয়ার সীমান্তের ভেতরে একটি বাড়ির পাশে এসে পড়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com