বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৫ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
চট্টগ্রাম বন্দরে ঈদের ছুটিতে ৫৫ হাজার কন্টেইনার হ্যান্ডলিং উলিপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৮জন গুরুতর আহত, থানায় অভিযোগ দায়ের নাগেশ্বরীতে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগে প্রধান আসামি গ্রেফতার গাজীপুরে স্কুলে যাওয়ার পথে গাড়িচাপায় শিক্ষিকার মৃত্যু আর্জেন্টিনা স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেলেন মন্টিয়েল, বেলার্ডি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল উলিপুরে গণহত্যা দিবস পালিত ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন প্রতিরোধে ৮৫০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রাজবাড়ীতে গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে যথাযোগ্য মর্যাদায় গণহত্যা দিবস পালিত

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন প্রতিরোধে ৮৫০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬
  • ০ বার পঠিত

উত্তরাঞ্চলের নদীবিধৌত জেলা কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কয়েক দশক ধরে চলমান এ ভাঙনে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। বসতভিটা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজারো মানুষ।

এ অবস্থায় কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রস্তাবিত ব্রহ্মপুত্র নদের বাম তীর সংরক্ষণে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় এলাকাবাসী ।

ভারতের আসাম থেকে নেমে আসা ব্রহ্মপুত্র নদ নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজিবপুর হয়ে প্রবাহিত হয়ে গাইবান্ধা ও জামালপুরের বাহাদুরাবাদে গিয়ে যমুনা নামে পরিচিত।

নারায়ণপুর থেকে রাজিবপুর পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১৯৫০ সাল থেকে অব্যাহত ভাঙনে জেলার ভৌগোলিক চিত্র বদলে গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার বহু ইউনিয়ন আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ভাঙনের শিকার হয়েছে। এতে কয়েক লাখ মানুষ একাধিকবার ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

নদীভাঙনে কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনাসহ বিপুল সম্পদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় জেলার অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে পাউবো ব্রহ্মপুত্র নদের বাম তীর সংরক্ষণে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। প্রকল্পের আওতায় রৌমারী, রাজিবপুর ও উলিপুর উপজেলার প্রায় ১৬ দশমিক ৩০৫ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পটির সম্ভাব্য মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত। এতে উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা, হবিগঞ্জ বাজার, নামাজের চর, সোনাপুর, ঘুঘুমারি ও সুখের বাতি এলাকা, রৌমারীর ফুলুয়ার চরঘাট এবং রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি, হাজীপাড়া ও চর নেওয়াজী এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পাউবো সূত্র জানায়, প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সমীক্ষা সম্পন্ন করে তা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। গত ২ মার্চ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলেও এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা জানান, তারা বারবার ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা এলাকার বাসিন্দা শরাফত আলী (৫৬) বলেন, ‘জীবনে পাঁচ বার ঘর বানাইছি, সবই নদীতে গেছে। এখন কোথায় থাকব বুঝি না।’

একই এলাকার রাহেলা খাতুন বাসসকে বলেন, ‘নদী আমার সব নিয়ে গেছে। সন্তানদের নিয়ে অন্যের জমিতে থাকি, বর্ষা এলেই ভয় লাগে।’

রৌমারীর ফুলুয়ার চর এলাকার কৃষক জাইদুল ইসলাম (৫০) জানান, নদীগর্ভে তার ১০ বিঘা জমি বিলীন হওয়ায় এখন দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

চর রাজিবপুর উপজেলার বাসিন্দা জরিনা খাতুন বলেন, ‘বারবার ঘর হারিয়ে আর টিকে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা গৃহহীন হয়ে পড়ব।’

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘মানুষ পাঁচ-ছয়বার পর্যন্ত স্থান পরিবর্তন করেছে। টেকসই বাঁধ নির্মাণ না হলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে।’

রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার জনপ্রতিনিধিরাও ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন সংস্থার সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ব্রহ্মপুত্র একটি অত্যন্ত অস্থির প্রকৃতির নদী। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫০ মিটার করে তীর ভেঙে নদী প্রশস্ত হচ্ছে। এতে মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি ও সামাজিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি দারিদ্র্য ও মানবিক সংকটকে তীব্র করছে।

তিনি বলেন, তীর সংরক্ষণের পাশাপাশি নদীর নাব্যতা বজায় রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বাসসকে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

স্থানীয়দের আশা, প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে জেলার হাজার হাজার মানুষ এবং স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে চরাঞ্চলের জনজীবনে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com