জেলার বাগানে বাগানে আম গাছে গুটিতে ভরে গেছে। সুস্বাদু আমের জেলা মেহেরপুর প্রাকৃতিক কোনো দূর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় এবার ২ হাজার ৩’শ ৬১ হেক্টর জমির আম বাগান থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন।
মেহেরপুরে আমের চাহিদার সাথে সাথে আমের বাগানও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানকার মাটির গুণেই হিমসাগর, লেংড়া,বোম্বাই, তিলি বোম্বাই ইত্যাদি জাতের আম খুবই সুস্বাদু। বিশেষ করে নিয়মিত জাত ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাতি, আশ্বিনা জাতের বাগান বেশি থাকলেও গবেষণাকৃত বারি-৩, বারি-৪ জাতের বাগান তৈরির ক্ষেত্রেও আগ্রহী হয়ে উঠছে অনেকে। সেই সঙ্গে নতুন নতুন বাগানগুলো তৈরি হচ্ছে বনেদি ও হাইব্রিড জাতের। সরেজমিনে মেহেরপুরের বিভিন্ন আমবাগান ঘুরে দেখা গেছে মেহেরপুরের আমের গুটির ভারে ডাল নুয়ে পড়তে শুরু করেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গতবছর আমে পোকা দেখা যাওয়ায় আম চাষীরা লোকসানের মুখে পড়ে। এবছর অনুকূল আবহাওয়া থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদনের আশা করছেন কৃষি বিভাগ।
সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের আম চাষি বকুল বিশ্বাস জানান, ছোট বড় মিলে তার শতাধিক আমের গাছ আছে। প্রতিটি গাছই আমের গুটিতে ভরে গেছে। আমের ভালো ফলনের লক্ষ্যে শুরু থেকেই তিনি আমগাছ ও মুকুলের পরিচর্যা করেছেন বলেও জানান।
আম ব্যবসায়ী ও রপ্তানীকারক শাহিনুর রহমান জানান, মেহেরপুরের আম সুস্বাদু হওয়ায় মেহেরপুরের আম ইউরোপ মহাদেশেও সুখ্যাতি ছড়িয়েছে। ইউরোপ মহাদেশে আমের চাহিদার কারণে গত কয়েক বছর ধরে তিনি আম রপ্তানী করছেন বলে জানান। এবছরও তিনি ২৫০ মেট্রিক টন আম রপ্তানী করবেন। এজন্য ফ্রুট প্যাকেটিং কার্বণ ব্যাগে সংরক্ষণ করবেন আম।
জেলা খামার বাড়ির উপ-পরিচালক সনজিব মৃধা জানান, চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে। যদি বিরূপ আবহাওয়া না দেখা দেয় তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে। তিনি আরও জানান, মেহেরপুরের আম সুস্বাদু হওয়ায় এই জেলার আমের চাহিদা মিটিয়ে দেশের সব জেলা ছাড়িয়ে ইউরোপ মহাদেশেও তার সুখ্যাতি অব্যাহত থাকবে।