মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি
-দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৪নং দিওড় ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ দফাদার পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ অনিয়ম,স্বজনপ্রীতি ও সরকারি বিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা গেছে—পিতা ও পুত্র একই সঙ্গে সরকারি কাঠামোর আওতাধীন পদে চাকরি করছেন,যা প্রচলিত আইন ও নৈতিকতার সরাসরি পরিপন্থী।অভিযোগের মূল বিষয় স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানের মাধ্যমে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে দুইটি নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে “তাসদিকুর রহমান” নামের একজনকে কোনো ধরনের পূর্ব অভিজ্ঞতা,যোগ্যতা কিংবা সিনিয়রিটির ধার না ধেরে সরাসরি দফাদার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ইউনিয়নের কোঁচগ্রামে কর্মরত গ্রাম পুলিশ সদস্য মতিলালার নিজ ছেলে “রামলাল”-কে একই ইউনিয়নে চাকুরি প্রদান করা হয়েছে,যা একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নিয়োগ সংক্রান্ত বিধিনিষেধের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ উঠেছে। কী বলে বিধি?
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী,গ্রাম পুলিশ দফাদার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের অভিজ্ঞ ও সিনিয়র গ্রাম পুলিশ সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা স্বজন প্রীতি ও প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে কিন্তু এসব নিয়মকে উপেক্ষা করে অর্থ ও ক্ষমতার জোরে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ এখন সর্বত্র আলোচিত। ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয়রা বিরামপুর উপজেলা গ্রাম পুলিশ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, “গত কয়েক বছর পূর্বে দিওড় ইউনিয়নে যেসব নিয়োগ হয়েছে,তা সম্পূর্ণ অবৈধ। যোগ্য ও অভিজ্ঞদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের বসানো হয়েছে।”
গ্রাম পুলিশ সদস্য মোক্তার হোসেনও একই অভিযোগ তুলে বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে আবেদন করেও বঞ্চিত হয়েছি। এসব নিয়োগ বাতিল করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগ,মৃত গ্রাম পুলিশ নগেন চন্দ্রের শূন্য পদে তার পরিবার থেকেও কেউ সুযোগ পায়নি, বরং প্রভাবশালী মহল নিজেদের লোক বসিয়েছে। প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ
বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক মন্ডল বলেন, “এই নিয়োগের সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। বর্তমানে উপজেলা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছি।”এদিকে, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে,লিখিত আবেদন দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। গুরুতর আইনি প্রশ্ন
এ ঘটনায় একাধিক আইনি প্রশ্ন সামনে এসেছে—একই ইউনিয়নে পিতা-পুত্রের চাকুরি কি বিধি অনুযায়ী বৈধ? নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও যোগ্যতা কতটুকু মানা হয়েছে? প্রশাসন অভিযোগ পেয়েও কেন নীরব? বিশেষজ্ঞদের মতে,এ ধরনের অনিয়ম দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তের আওতায় আনা উচিত।জনদাবি: তদন্ত ও শাস্তি চাই সচেতন মহল ও স্থানীয় জনগণের জোর দাবি— অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন
প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অবৈধ নিয়োগ বাতিল করে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম ঠেকাতে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন বিরামপুরের ৪নং দিওড় ইউনিয়নের এই নিয়োগ কেলেঙ্কারি শুধু একটি ইউনিয়নের সমস্যা নয়—এটি পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হোক,অনিয়মের বিরুদ্ধে হোক জিরো টলারেন্স”।