রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
তালায় অপ্রতিরোধ্য মাটিখেকো গ্রপের প্রধান ইটভাটা মালিক মনু \ প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক রাবিপ্রবি’তে বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস পালিত বালু নদের কেওঢালা সেতু নির্মাণ কাজের উদ্বোধন সন্তানকে বুকে ধারনে মায়ের দৃঢ় অবস্থান। গুলির ঘটনা ইরান যুদ্ধ থেকে আমাকে বিরত রাখতে পারবে না: ট্রাম্প উচ্চশিক্ষাকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন প্রায় ৩৫ হাজার বাংলাদেশি হজযাত্রী ইউক্রেনে টানা ২০ ঘণ্টা রুশ হামলা: নিহত ৮, আহত ৪৯ কলম্বিয়ার মহাসড়কে বোমা হামলায় নিহত ১৪, আহত ৩৮ ঝালকাঠির রাজাপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইটবোঝাই ট্রলি খাদে পড়ে হেল্পার নিহত

উচ্চশিক্ষাকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের উচ্চশিক্ষাকে উন্নত বিশ্বের আদলে সাজাতে এবং উদ্ভাবনী মেধাসম্পদ রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল ডিগ্রি প্রদানের মাধ্যম না বানিয়ে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।’

আজ রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অডিটোরিয়ামে ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস-২০২৬’-এর এবারের প্রতিপাদ্য ‘আইপি অ্যান্ড স্পোর্টস: রেডি, সেট, ইনোভেট’।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব সূচকে আমরা পিছিয়ে আছি। আমাদের উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা যেন অন্য দেশে গিয়ে নিবন্ধিত না হয়, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। মেধাস্বত্ব নিবন্ধনের প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করতে হবে।’

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মেধাস্বত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করার প্রস্তাব দেন।

শিক্ষামন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের মেধাবীদের বড় একটি অংশ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই ‘ব্রেন ড্রেইন’ বন্ধ করে ‘রিভার্স ব্রেন’ পলিসি নেওয়া প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, এখনও অনেকে বিদেশ থেকে ফিরছেন, কিন্তু সেই পরিসংখ্যান আরও সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন।’

শিক্ষামন্ত্রী কারিকুলামের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ বা শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে অনেক পিছিয়ে আছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, যা ইচ্ছে তাই সাবজেক্ট বা কোর্স চালু করা হচ্ছে, যা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কোনো কাজে আসছে না। আমাদের কোর্স কারিকুলাম অবশ্যই ‘মার্কেট ডিপেন্ডেন্ট’ বা বাজারমুখী হতে হবে।’

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেটে গবেষণার বরাদ্দ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা অর্জনে কাজ চলছে।

উচ্চশিক্ষায় সমন্বয়ের অভাবের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় নষ্ট হচ্ছে। ইউজিসি-কে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বসে একটি ‘ইউনিফর্ম’ ভর্তি ক্যালেন্ডার তৈরির নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সমন্বয়ের অভাবে আমাদের তরুণদের জীবন থেকে মূল্যবান সময় হারিয়ে যাচ্ছে। এই সময় অপচয় বন্ধ করতে হবে।’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলে চলবে না। তাদের শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে। ইউজিসি-কে এ বিষয়ে নিবিড় তদারকি করতে হবে যাতে কোনো বাধা ছাড়াই তারা উচ্চশিক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।’

তরুণ প্রজন্মের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতি-ব্যবহার ও নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও নৈতিকতা বজায় রাখা খুবই জরুরি। তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিকুলামে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মহিদুস সামাদ খান। অনুষ্ঠানের মূল আলোচকের বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিবসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com