ঢাকা ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে জবিতে ‘ইউথ ইমপ্যাক্ট সামিট’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের একটি পরীক্ষা স্থগিত অনফিশিয়াল টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ইনিংস ও ৪১৩ রানের হার বাংলাদেশ এ দলের ‘কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুললো উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী দেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা দিতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য সুখবর ব্ল্যাক কফি কী সত্যিই ওজন কমাতে পারে? ঝগড়ার পরে সম্পর্ক ঠিক করতে কী করবেন?

ডিআরএস নিয়ে ভারতীয় দলে আতঙ্ক

ক্রীড়া ডেস্ক: দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে সফরকারী বাংলাদেশের কাছে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হার অনেক বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে ভারতজুড়ে। ভারতীয়দের চিন্তা, যে দলে সাকিব-তামিম নেই, যে দলটি বলতে গেলে প্রায় ভাঙ্গাচোরা- তাদের কাছে কিভাবে হেরে যায় রোহিত শর্মার দল?

অন্যদিকে দিল্লির পরাজয় নিয়ে ভারতজুড়ে চলছে আনা আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। তুমুল বিচার-বিশ্লেষণ চলছে এই ম্যাচ নিয়ে। এই বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি যেটা উঠে এসেছে, সেটা হচ্ছে- ডিআরএসের সঠিক ব্যবহার করতে না পারার কারণেই এমন পরাজয় বরণ করতে হয়েছে ভারতকে।

ভারতীয়দের মতে, মুশফিকুর রহীমের ক্ষেত্রে যদি সঠিকভাবে ডিআরএসের ব্যবহার করা যেতো, তাহলে তিনি ৬০ রান করতে পারতেন না, জিততেও পারতো না বাংলাদেশ। ভারতীয় উইকেটরক্ষক রিশাভ পান্ত সঠিকভাবে ডিআরএস নিতে সহায়তা করতে পারেননি। বরং, ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তিনি।

এ কারণেই মূলতঃ বাংলাদেশের বিপক্ষে বাকি দুই টি-টোয়েন্টিতে ডিআরএস নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটাররা। যদিও রিশাভ পান্তকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাননি রোহিত শর্মা।

দিল্লিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে সাত উইকেটে হেরেছে ভারত। বাংলাদেশের ইনিংসের দশম ওভারে ইউজবেন্দ্র চাহালের তৃতীয় বলে এলবিডব্লিউ ছিলেন মুশফিকুর রহীম। আম্পায়ার আউট দেননি। রিশাভের পরামর্শেই ভারতীয় দল ‘রিভিউ’ নেয়নি। পরে দেখা যায় ডিআরএস নিলে সিদ্ধান্ত যেত ভারতের পক্ষেই।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে এই ঘটনা বড় ভূমিকা নেয় বলে মনে করে ভারতীয়রা। ওই সময় মুশফিক ছিলেন মাত্র ৬ রানে এবং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৬০ করে তিনিই ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি জয় উপহার দেন বাংলাদেশকে।
একই ওভারে চাহালের শেষ বলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো কট বিহাইন্ডের আবেদন ওঠে। কিন্তু আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। এবার রিশাভ পান্তের কথায়, ডিআরএস নেন রোহিত। দেখা যায়, বল ব্যাটেই লাগেনি এবং রিভিউ হারায় দল।

ম্যাচের পরে এ নিয়ে রোহিতকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলে যান, ‘রিশাভের বয়স কম। অভিজ্ঞতা ততটা নেই। বুঝে ওঠার সময়টা ওকে দিতে হবে। এত তাড়াতাড়ি বিচার করতে বসে গেলে ঠিক হবে না যে, সে ডিআরএস নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে কি না।’ সঙ্গে যোগ করলেনন, ‘একা উইকেটরক্ষকের দোষ ধরাটা ঠিক হবে না। ডিআরএস নেওয়ার ক্ষেত্রে বোলাররাও আলোচনার অংশ থাকে। অধিনায়ক যদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো জায়গায় না থাকে, তা হলে বাকিদের উপর নির্ভর করতে হয়।’

রিশাভ পান্তের ওপর ভরসা রাখছেন এখনও রোহিত। তিনি বলছেন, ‘বোলার আর উইকেটরক্ষকের ওপর ভরসা রাখতে হবে। যে কোনো ফরম্যাটেই ডিআরএস নেওয়ার সময় এ দু’জনের বক্তব্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’

এতদিন ভারতীয় দলে ডিআরএস নেওয়ার ক্ষেত্রে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। এ ক্ষেত্রে তিনি এতটাই অব্যর্থ ছিলেন যে, ধোনির কথায় ডিআরএস নিয়ে অধিকাংশ সময়ই সফল হয়েছে দল। উইকেটের পিছনে ধোনির না থাকা- এসব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে টের পাচ্ছেন রোহিতরা।

দিল্লির বায়ু দূষণ ছিল দুঃশ্চিন্তা। আপাতত ওই ম্যাচ শেষ। এবার রাজকোটে বাংলাদেশ আর ভারতের মধ্যকার দ্বিতীয় ম্যাচে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ঘূর্ণিঝড় মহা ভারতের পশ্চিম উপকূল থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়েছিল; কিন্তু সেই ঝড় আবার দিক পরিবর্তন করে গুজরাট উপকূলের দিকে আছড়ে পড়তে চলেছে। যা ৭ তারিখের ম্যাচে থাবা বসাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে জবিতে ‘ইউথ ইমপ্যাক্ট সামিট’

ডিআরএস নিয়ে ভারতীয় দলে আতঙ্ক

আপডেট টাইম : ১২:৫৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ নভেম্বর ২০১৯

ক্রীড়া ডেস্ক: দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে সফরকারী বাংলাদেশের কাছে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হার অনেক বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে ভারতজুড়ে। ভারতীয়দের চিন্তা, যে দলে সাকিব-তামিম নেই, যে দলটি বলতে গেলে প্রায় ভাঙ্গাচোরা- তাদের কাছে কিভাবে হেরে যায় রোহিত শর্মার দল?

অন্যদিকে দিল্লির পরাজয় নিয়ে ভারতজুড়ে চলছে আনা আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। তুমুল বিচার-বিশ্লেষণ চলছে এই ম্যাচ নিয়ে। এই বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি যেটা উঠে এসেছে, সেটা হচ্ছে- ডিআরএসের সঠিক ব্যবহার করতে না পারার কারণেই এমন পরাজয় বরণ করতে হয়েছে ভারতকে।

ভারতীয়দের মতে, মুশফিকুর রহীমের ক্ষেত্রে যদি সঠিকভাবে ডিআরএসের ব্যবহার করা যেতো, তাহলে তিনি ৬০ রান করতে পারতেন না, জিততেও পারতো না বাংলাদেশ। ভারতীয় উইকেটরক্ষক রিশাভ পান্ত সঠিকভাবে ডিআরএস নিতে সহায়তা করতে পারেননি। বরং, ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তিনি।

এ কারণেই মূলতঃ বাংলাদেশের বিপক্ষে বাকি দুই টি-টোয়েন্টিতে ডিআরএস নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটাররা। যদিও রিশাভ পান্তকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাননি রোহিত শর্মা।

দিল্লিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে সাত উইকেটে হেরেছে ভারত। বাংলাদেশের ইনিংসের দশম ওভারে ইউজবেন্দ্র চাহালের তৃতীয় বলে এলবিডব্লিউ ছিলেন মুশফিকুর রহীম। আম্পায়ার আউট দেননি। রিশাভের পরামর্শেই ভারতীয় দল ‘রিভিউ’ নেয়নি। পরে দেখা যায় ডিআরএস নিলে সিদ্ধান্ত যেত ভারতের পক্ষেই।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে এই ঘটনা বড় ভূমিকা নেয় বলে মনে করে ভারতীয়রা। ওই সময় মুশফিক ছিলেন মাত্র ৬ রানে এবং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৬০ করে তিনিই ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি জয় উপহার দেন বাংলাদেশকে।
একই ওভারে চাহালের শেষ বলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো কট বিহাইন্ডের আবেদন ওঠে। কিন্তু আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। এবার রিশাভ পান্তের কথায়, ডিআরএস নেন রোহিত। দেখা যায়, বল ব্যাটেই লাগেনি এবং রিভিউ হারায় দল।

ম্যাচের পরে এ নিয়ে রোহিতকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলে যান, ‘রিশাভের বয়স কম। অভিজ্ঞতা ততটা নেই। বুঝে ওঠার সময়টা ওকে দিতে হবে। এত তাড়াতাড়ি বিচার করতে বসে গেলে ঠিক হবে না যে, সে ডিআরএস নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে কি না।’ সঙ্গে যোগ করলেনন, ‘একা উইকেটরক্ষকের দোষ ধরাটা ঠিক হবে না। ডিআরএস নেওয়ার ক্ষেত্রে বোলাররাও আলোচনার অংশ থাকে। অধিনায়ক যদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো জায়গায় না থাকে, তা হলে বাকিদের উপর নির্ভর করতে হয়।’

রিশাভ পান্তের ওপর ভরসা রাখছেন এখনও রোহিত। তিনি বলছেন, ‘বোলার আর উইকেটরক্ষকের ওপর ভরসা রাখতে হবে। যে কোনো ফরম্যাটেই ডিআরএস নেওয়ার সময় এ দু’জনের বক্তব্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’

এতদিন ভারতীয় দলে ডিআরএস নেওয়ার ক্ষেত্রে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। এ ক্ষেত্রে তিনি এতটাই অব্যর্থ ছিলেন যে, ধোনির কথায় ডিআরএস নিয়ে অধিকাংশ সময়ই সফল হয়েছে দল। উইকেটের পিছনে ধোনির না থাকা- এসব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে টের পাচ্ছেন রোহিতরা।

দিল্লির বায়ু দূষণ ছিল দুঃশ্চিন্তা। আপাতত ওই ম্যাচ শেষ। এবার রাজকোটে বাংলাদেশ আর ভারতের মধ্যকার দ্বিতীয় ম্যাচে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ঘূর্ণিঝড় মহা ভারতের পশ্চিম উপকূল থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়েছিল; কিন্তু সেই ঝড় আবার দিক পরিবর্তন করে গুজরাট উপকূলের দিকে আছড়ে পড়তে চলেছে। যা ৭ তারিখের ম্যাচে থাবা বসাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


প্রিন্ট