ঢাকা ০৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নিরাপদ আকাশপথ নিশ্চিতে দক্ষ জনবল গড়তে এটিসি বেসিক কোর্স শুরু উল্লাপাড়ায় তাঁত বোর্ড চেয়ারম্যানকে ইউসুফ সরকারের ফুলেল শুভেচ্ছা উল্লাপাড়ায় বালুবাহী ট্রাকের চাপায় শিক্ষক নিহত কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে দক্ষতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল রহমান সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাংবিধানিক নিয়মেই হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বঙ্গভবনে নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু কোরবান নগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। বিশ্বজুড়ে প্রবাসীদের জন্য নতুন পরিকল্পনা ‘প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিমের’ টিচার্স ট্রেনিং কলেজে মাস্টার অব এডুকেশন-২০২৫ এর গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন সেমিনার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে

সকালে করোনা জয়, সন্ধ্যায় মৃত্যু

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক:  শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জমাদ্দারকান্দি গ্রামের শাহ আলম জমাদ্দার (৮৭) হৃদরোগ ও কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। গত এপ্রিলে তিনি ঢাকায় চিকিৎসা নিতে যান। ২৩ এপ্রিল সেখানে তাঁর করোনা শনাক্ত হয়। এরপর তিনি বাড়ি ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘সকালে প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা শাহ আলম জমাদ্দারের বাড়ি গিয়ে তাঁকে করোনামুক্ত হওয়ার খবর দিই। তখন তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অনেক আনন্দিত হয়েছিলেন। বিকেলে হঠাৎ তাঁর অসুস্থ হওয়ার খবর শুনে মনটা খারাপ হয়ে যায়। চিকিৎসক নিয়ে তাঁর বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় সন্ধ্যা সাতটার দিকে ফোনে জানতে পারি, তিনি মারা গেছেন। তাঁর পরপর দুবার করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদন নেগেটিভ আসায় মৃত্যুর পর শাহ আলমের আর পরীক্ষা করা হয়নি। তাঁকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, শাহ আলম বার্ধক্যজনিতসহ হৃদরোগ ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। এ কারণে প্রায়ই তাঁকে হাসপাতালে নিতে হতো। অসুস্থতা বেশি হওয়ায় এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

২১ এপ্রিল ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সঙ্গে শাহ আলমের করোনা পরীক্ষা করা হয়। ২৩ এপ্রিল তাঁর প্রতিবেদন ‘পজিটিভ’ আসে। বাড়ি ফিরে তাঁর সংস্পর্শে আসা আটজনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে তাঁর স্ত্রী ফতেজা বিবির (৭৫) করোনা শনাক্ত হয়। তাঁদের বাড়িতে আলাদা (আইসোলেশন) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তাঁরা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। পরপর দুই দফায় তাঁদের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল ‘নেগেটিভ’ আসে।

গতকাল বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেনু দাস, জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকারসহ কর্মকর্তারা বাড়িতে গিয়ে তাঁদের করোনামুক্ত ঘোষণা করেন। তাঁদের ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়। ফলমূলসহ উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়। বিকেলে শাহ আলম অসুস্থ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি মারা যান।

শাহ আলমের ছেলে বাদল জমাদ্দার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার যখন ইউএনও, ওসি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এসে মা–বাবার করোনা মুক্তির খবর দেন, সবাই খুশি হয়েছিলাম। তাঁরা যখন ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান, বাবা খুশি হয়ে বলেছিলেন, এখন মরেও শান্তি পাব যে করোনা জয় করেছি। আল্লাহ হয়তো বাবার কথাই রেখেছেন, করোনা জয়ের পরই তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। করোনা নিয়ে মারা গেলে সারা জীবন আমাদের আক্ষেপ থাকত। রাত ১১টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে বাবাকে দাফন করা হয়।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, ‘উপজেলা সদর থেকে শাহ আলমের বাড়ি অন্তত ১৫ কিলোমিটার দূরে। ওই গ্রামে গিয়ে শাহ আলম ও তাঁর স্ত্রী ফতেজাকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। তাঁরা যেহেতু বয়স্ক ছিলেন, তাঁদের নিয়ে আমাদেরও দুশ্চিন্তা ছিল। যখন তাঁদের বাড়ি গিয়ে করোনামুক্ত হওয়ার খবর দিই, সবাই অনেক আনন্দিত হন। ৮-৯ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই আনন্দ বেদনায় রূপ নিল। তিনি করোনা জয় করলেও মৃত্যুকে জয় করতে পারলেন না। তবে করোনা জয়ের আনন্দ নিয়েও মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন।’


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সকালে করোনা জয়, সন্ধ্যায় মৃত্যু

আপডেট টাইম : ০৬:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২০

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক:  শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জমাদ্দারকান্দি গ্রামের শাহ আলম জমাদ্দার (৮৭) হৃদরোগ ও কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। গত এপ্রিলে তিনি ঢাকায় চিকিৎসা নিতে যান। ২৩ এপ্রিল সেখানে তাঁর করোনা শনাক্ত হয়। এরপর তিনি বাড়ি ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘সকালে প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা শাহ আলম জমাদ্দারের বাড়ি গিয়ে তাঁকে করোনামুক্ত হওয়ার খবর দিই। তখন তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অনেক আনন্দিত হয়েছিলেন। বিকেলে হঠাৎ তাঁর অসুস্থ হওয়ার খবর শুনে মনটা খারাপ হয়ে যায়। চিকিৎসক নিয়ে তাঁর বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় সন্ধ্যা সাতটার দিকে ফোনে জানতে পারি, তিনি মারা গেছেন। তাঁর পরপর দুবার করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদন নেগেটিভ আসায় মৃত্যুর পর শাহ আলমের আর পরীক্ষা করা হয়নি। তাঁকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, শাহ আলম বার্ধক্যজনিতসহ হৃদরোগ ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। এ কারণে প্রায়ই তাঁকে হাসপাতালে নিতে হতো। অসুস্থতা বেশি হওয়ায় এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

২১ এপ্রিল ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সঙ্গে শাহ আলমের করোনা পরীক্ষা করা হয়। ২৩ এপ্রিল তাঁর প্রতিবেদন ‘পজিটিভ’ আসে। বাড়ি ফিরে তাঁর সংস্পর্শে আসা আটজনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে তাঁর স্ত্রী ফতেজা বিবির (৭৫) করোনা শনাক্ত হয়। তাঁদের বাড়িতে আলাদা (আইসোলেশন) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তাঁরা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। পরপর দুই দফায় তাঁদের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল ‘নেগেটিভ’ আসে।

গতকাল বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেনু দাস, জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকারসহ কর্মকর্তারা বাড়িতে গিয়ে তাঁদের করোনামুক্ত ঘোষণা করেন। তাঁদের ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়। ফলমূলসহ উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়। বিকেলে শাহ আলম অসুস্থ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি মারা যান।

শাহ আলমের ছেলে বাদল জমাদ্দার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার যখন ইউএনও, ওসি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এসে মা–বাবার করোনা মুক্তির খবর দেন, সবাই খুশি হয়েছিলাম। তাঁরা যখন ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান, বাবা খুশি হয়ে বলেছিলেন, এখন মরেও শান্তি পাব যে করোনা জয় করেছি। আল্লাহ হয়তো বাবার কথাই রেখেছেন, করোনা জয়ের পরই তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। করোনা নিয়ে মারা গেলে সারা জীবন আমাদের আক্ষেপ থাকত। রাত ১১টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে বাবাকে দাফন করা হয়।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, ‘উপজেলা সদর থেকে শাহ আলমের বাড়ি অন্তত ১৫ কিলোমিটার দূরে। ওই গ্রামে গিয়ে শাহ আলম ও তাঁর স্ত্রী ফতেজাকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। তাঁরা যেহেতু বয়স্ক ছিলেন, তাঁদের নিয়ে আমাদেরও দুশ্চিন্তা ছিল। যখন তাঁদের বাড়ি গিয়ে করোনামুক্ত হওয়ার খবর দিই, সবাই অনেক আনন্দিত হন। ৮-৯ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই আনন্দ বেদনায় রূপ নিল। তিনি করোনা জয় করলেও মৃত্যুকে জয় করতে পারলেন না। তবে করোনা জয়ের আনন্দ নিয়েও মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন।’


প্রিন্ট