ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিমানবন্দরে ৪ কেজি ১৮০ গ্রাম কুশ রেখে পালালেন দুই ভারতীয় নাগরিক স্ত্রীকে আনতে গিয়ে অভিমান, শ্রীপুরে পিকআপ চালকের মৃত্যু কালীগঞ্জে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আ/সামী গ্রে/ফতার বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় কুড়িগ্রামের বিজিবি সদস্য নিহত উলিপুরে কছিম উদ্দিনের ৩৪তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে ভাওয়াইয়া ও সংগীতানুষ্ঠান সুনামগঞ্জের লাউড়েরগর গ্রামে আসাদ মিয়ার ঘর থেকে ৩০০ বোতল ফেনসিডিল,ফোসকাসহ ভারতীয় পণ্য জব্দ কলকাতার আগুনে নিভে গেল ৭ বাংলাদেশির প্রাণ, বেনাপোলে ফিরল ৫ মরদেহ—স্বজনদের আহাজারিতে ভারী সীমান্ত পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া কামনা বরিশালে বিমানবন্দরে এলাকায় ১০ কেজি গাঁজাসহ বাসযাত্রী গ্রে/প্তার ‎ ‎আইনে নিষেধ, বাস্তবে জমজমাট: পিরোজপুরে সরকারি শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

তামাক সেবনে বছরে ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু

আজ বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘তামাক কোম্পানির কূটকৌশল প্রতিহত করি, শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করি।’ মূলত মানুষের সচেতনতার কারণেই এই দিবস পালন করা হয় পুরো বিশ্বে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রতি বছর তামাক সেবনের কারণে ৮০ লাখের বেশি মানুষ মারা যায়।

সিগারেট, জর্দা নিয়মিত সেবন যেমন আপনার নিজের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি আপনার আশপাশের মানুষ, বিশেষ করে শিশুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তামাক সেবন যে শুধু স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে তা নয়, পকেটের উপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। সিনেমা শুরু হওয়ার আগে যে বলা হয়, সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: ধূমপান ও তামাক সেবন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি সিগারেটের প্যাকেটেও লেখা থাকে নানা সতর্ক বার্তা। কিন্তু কে শোনে কার কথা। দিনদিন বেড়েই চলেছে ধূমপায়ী ও তামাক সেবনকারীর সংখ্যা।

তামাক মূলত হৃৎপিণ্ড, লিভার ও ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। ধূমপানের ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (এমফাইসিমা ও ক্রনিক ব্রংকাইটিস সহ) ও ক্যানসার (বিশেষত ফুসফুসের ক্যানসার, প্যানক্রিয়াসের ক্যানসার, ল্যারিংস ও মুখগহ্বরের ক্যানসার) হতে পারে। তামাক সেবনের কারণে এসব রোগে বিশ্বে প্রতিবছর ৮ মিলিয়নের বেশি মানুষ মারা যায়। যার সংখ্যা ২০৩০ সালে আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্য রাষ্ট্রগুলো বিশ্বব্যাপী তামাক সংকট এবং মহামারি দ্বারা সৃষ্ট রোগ ও মৃত্যুর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ১৯৮৭ সালে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস তৈরি করেছিল। ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলি ১৯৮৭ সালে ডব্লিউএইচএ৪০.৩৮ রেজোলিউশন পাস করে, ৭ এপ্রিলকে ‘বিশ্ব ধূমপানমুক্ত দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে রেজোলিউশন ডব্লিউএইচএ৪২.১৯ সিদ্ধান্ত হয় যে ৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালন করা হবে।

২০০৮ সালে, ডব্লিউএইচও তামাকের যে কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন বা প্রচার নিষিদ্ধ করেছিল। বিশ্বের বৃহত্তম তামাক উৎপাদনকারী ও ভোক্তা দেশ চীনে আনুমানিক ৩০ কোটি মানুষ ধূমপায়ী। ২০১৪ সালে বিশ্বের মোট সিগারেটের ৩০ শতাংশ এরও বেশি উৎপাদিত এবং খাওয়া হয়েছিল চীনে। বিশ্বের মোট ধূমপায়ী মানুষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের অর্ধেকেরও বেশি তামাকে আসক্ত। দেশটিতে প্রতি বছর এক কোটিরও বেশি মানুষ তামাক ব্যবহারে মারা যায়।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিমানবন্দরে ৪ কেজি ১৮০ গ্রাম কুশ রেখে পালালেন দুই ভারতীয় নাগরিক

তামাক সেবনে বছরে ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু

আপডেট টাইম : ০২:২৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪

আজ বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘তামাক কোম্পানির কূটকৌশল প্রতিহত করি, শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করি।’ মূলত মানুষের সচেতনতার কারণেই এই দিবস পালন করা হয় পুরো বিশ্বে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রতি বছর তামাক সেবনের কারণে ৮০ লাখের বেশি মানুষ মারা যায়।

সিগারেট, জর্দা নিয়মিত সেবন যেমন আপনার নিজের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি আপনার আশপাশের মানুষ, বিশেষ করে শিশুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তামাক সেবন যে শুধু স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে তা নয়, পকেটের উপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। সিনেমা শুরু হওয়ার আগে যে বলা হয়, সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: ধূমপান ও তামাক সেবন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি সিগারেটের প্যাকেটেও লেখা থাকে নানা সতর্ক বার্তা। কিন্তু কে শোনে কার কথা। দিনদিন বেড়েই চলেছে ধূমপায়ী ও তামাক সেবনকারীর সংখ্যা।

তামাক মূলত হৃৎপিণ্ড, লিভার ও ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। ধূমপানের ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (এমফাইসিমা ও ক্রনিক ব্রংকাইটিস সহ) ও ক্যানসার (বিশেষত ফুসফুসের ক্যানসার, প্যানক্রিয়াসের ক্যানসার, ল্যারিংস ও মুখগহ্বরের ক্যানসার) হতে পারে। তামাক সেবনের কারণে এসব রোগে বিশ্বে প্রতিবছর ৮ মিলিয়নের বেশি মানুষ মারা যায়। যার সংখ্যা ২০৩০ সালে আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্য রাষ্ট্রগুলো বিশ্বব্যাপী তামাক সংকট এবং মহামারি দ্বারা সৃষ্ট রোগ ও মৃত্যুর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ১৯৮৭ সালে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস তৈরি করেছিল। ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলি ১৯৮৭ সালে ডব্লিউএইচএ৪০.৩৮ রেজোলিউশন পাস করে, ৭ এপ্রিলকে ‘বিশ্ব ধূমপানমুক্ত দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে রেজোলিউশন ডব্লিউএইচএ৪২.১৯ সিদ্ধান্ত হয় যে ৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালন করা হবে।

২০০৮ সালে, ডব্লিউএইচও তামাকের যে কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন বা প্রচার নিষিদ্ধ করেছিল। বিশ্বের বৃহত্তম তামাক উৎপাদনকারী ও ভোক্তা দেশ চীনে আনুমানিক ৩০ কোটি মানুষ ধূমপায়ী। ২০১৪ সালে বিশ্বের মোট সিগারেটের ৩০ শতাংশ এরও বেশি উৎপাদিত এবং খাওয়া হয়েছিল চীনে। বিশ্বের মোট ধূমপায়ী মানুষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের অর্ধেকেরও বেশি তামাকে আসক্ত। দেশটিতে প্রতি বছর এক কোটিরও বেশি মানুষ তামাক ব্যবহারে মারা যায়।


প্রিন্ট