ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম পটুয়াখালীতে পিকআপ ভ্যান থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার কুমিল্লায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৯ ট্রেডে প্রশিক্ষণ শুরু নোয়াখালীতে অনিয়মের অভিযোগে দুই হাসপাতালকে জরিমানা

ক্যাপসিকাম চাষে কুমিল্লায় কৃষকদের মাঝে নতুন আশার আলো

কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় মুরাদনগর উপজেলায় প্রথমবারের মতো উচ্চমূল্যের ফসল ক্যাপসিকাম চাষ শুরু হয়েছে। নতুন এই ফসল চাষে ইতোমধ্যে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে প্রায় ২ হেক্টর জমিতে প্রদর্শনীর মাধ্যমে ক্যাপসিকাম আবাদ করা হয়েছে। উপজেলার কামাল্লা, ধামঘর, মুরাদনগর, বাঙ্গরা পূর্ব, নবীপুর পশ্চিম, নবীপুর পূর্ব, আকবপুর বাবুটিপাড়াসহ মোট ১৪টি ইউনিয়নে এই ফসলের চাষ শুরু হয়েছে।

ক্যাপসিকাম ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর সবজি। বিভিন্ন সালাদ, ফাস্টফুড ও আধুনিক খাবারে এর ব্যাপক ব্যবহার থাকায় বাজারেও এর চাহিদা বেশ ভালো।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত প্রতি বিঘা জমিতে ক্যাপসিকাম চাষে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে সঠিকভাবে চাষাবাদ করতে পারলে প্রতি বিঘা জমি থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা সম্ভব।

উপজেলার বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষক তাজুল ইসলাম, ধামঘর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম ও আমির হোসেন, আলিরচর গ্রামের ফাতেমা বেগম, কামারচর গ্রামের রকিব উদ্দিন এবং বাবুটিপাড়া গ্রামের মো. জামসেদ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন কৃষক ইতোমধ্যে ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন।

পরমতলা গ্রামের কৃষক আমির হোসেন জানান, তিনি প্রথমবারের মতো ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন। বাজারে এই সবজির ভালো দাম থাকায় লাভের আশা করছেন। তিনি আরও জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জৈব সার, রাসায়নিক সার, পলি মালচিং ফিল্ম এবং কীটনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ সহায়তা হিসেবে পেয়েছেন।

মুরাদনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু বাসস’কে বলেছেন, ‘মুরাদনগরে এবারই প্রথমবারের মতো ক্যাপসিকাম আবাদ করা হয়েছে। বাজারে এর ভালো চাহিদা ও মূল্য থাকায় আগামী মৌসুমে এই ফসলের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করছি।’

নতুন এই উচ্চমূল্যের ফসল চাষের মাধ্যমে মুরাদনগরের কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার

ক্যাপসিকাম চাষে কুমিল্লায় কৃষকদের মাঝে নতুন আশার আলো

আপডেট টাইম : ০৬:৪৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় মুরাদনগর উপজেলায় প্রথমবারের মতো উচ্চমূল্যের ফসল ক্যাপসিকাম চাষ শুরু হয়েছে। নতুন এই ফসল চাষে ইতোমধ্যে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে প্রায় ২ হেক্টর জমিতে প্রদর্শনীর মাধ্যমে ক্যাপসিকাম আবাদ করা হয়েছে। উপজেলার কামাল্লা, ধামঘর, মুরাদনগর, বাঙ্গরা পূর্ব, নবীপুর পশ্চিম, নবীপুর পূর্ব, আকবপুর বাবুটিপাড়াসহ মোট ১৪টি ইউনিয়নে এই ফসলের চাষ শুরু হয়েছে।

ক্যাপসিকাম ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর সবজি। বিভিন্ন সালাদ, ফাস্টফুড ও আধুনিক খাবারে এর ব্যাপক ব্যবহার থাকায় বাজারেও এর চাহিদা বেশ ভালো।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত প্রতি বিঘা জমিতে ক্যাপসিকাম চাষে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে সঠিকভাবে চাষাবাদ করতে পারলে প্রতি বিঘা জমি থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা সম্ভব।

উপজেলার বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষক তাজুল ইসলাম, ধামঘর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম ও আমির হোসেন, আলিরচর গ্রামের ফাতেমা বেগম, কামারচর গ্রামের রকিব উদ্দিন এবং বাবুটিপাড়া গ্রামের মো. জামসেদ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন কৃষক ইতোমধ্যে ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন।

পরমতলা গ্রামের কৃষক আমির হোসেন জানান, তিনি প্রথমবারের মতো ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন। বাজারে এই সবজির ভালো দাম থাকায় লাভের আশা করছেন। তিনি আরও জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জৈব সার, রাসায়নিক সার, পলি মালচিং ফিল্ম এবং কীটনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ সহায়তা হিসেবে পেয়েছেন।

মুরাদনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু বাসস’কে বলেছেন, ‘মুরাদনগরে এবারই প্রথমবারের মতো ক্যাপসিকাম আবাদ করা হয়েছে। বাজারে এর ভালো চাহিদা ও মূল্য থাকায় আগামী মৌসুমে এই ফসলের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করছি।’

নতুন এই উচ্চমূল্যের ফসল চাষের মাধ্যমে মুরাদনগরের কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


প্রিন্ট