ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম পটুয়াখালীতে পিকআপ ভ্যান থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার কুমিল্লায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৯ ট্রেডে প্রশিক্ষণ শুরু নোয়াখালীতে অনিয়মের অভিযোগে দুই হাসপাতালকে জরিমানা

দিনাজপুরের বিরামপুরের সরকারি বিধি উপেক্ষা করে বনের গাছ কর্তন বিরামপুরে বিট অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার চরকাই বন গবেষণা কেন্দ্র এলাকায় সরকারি নিয়ম কানুন অমান্য করে বন বিভাগের গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক বিট অফিসারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ২১ এপ্রিল ২০২৬ ভোরবেলা,যা স্থানীয় জনগণের মাঝে চরম উদ্বেগ ওক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,চরকাই বন গবেষণা কেন্দ্রের বিট অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম নিজ দায়িত্বে থাকা বন এলাকার একটি অপরিপক্ক ইউক্যালিপটাস গাছ কোনো প্রকার সরকারি অনুমতি ছাড়াই কর্তন করেন।

গাছটি ব্যক্তিগত বাড়ির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিট অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি স্বীকার করেন যে,“আমি উক্ত গাছটি আমার বাড়ির কাজের জন্য কর্তন করেছি।অফিসিয়ালি অনুমতি নেওয়ার ক্ষেত্রে ত্রুটি হয়েছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমার কিছু বলার নেই।”সরকারি দায়িত্বে থেকে এমন স্বীকারোক্তি ঘটনাটিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন,শুধু একটি গাছ নয় চরকাই বন গবেষণা কেন্দ্রের আশেপাশে থাকা অনেক মূল্যবান গাছ দীর্ঘদিন ধরে রাতের অন্ধকারে কেটে নেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে কিছু অসাধু ব্যক্তির এই বিট অফিসার জড়িত থাকার দাবি করেন।এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নীরব সহযোগিতা বা যোগসাজশ রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,“বনের গাছ কাটা এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের চোখের সামনে এসব হচ্ছে, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”ঘটনার বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা চরকাই ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। আইন কী বলে?বাংলাদেশের প্রচলিত বন আইন অনুযায়ী,সরকারি বনাঞ্চলের কোনো গাছ কর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। অনুমতি ব্যতীত গাছ কাটাকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়,যার জন্য অর্থদণ্ড,এমনকি কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে:একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট অফিসার কীভাবে নিজেই আইন ভঙ্গ করেন?দীর্ঘদিন ধরে বনের গাছ নিধনের পেছনে কারা জড়িত? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি এ বিষয়ে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেবে?স্থানীয়দের দাবি:অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশা পাশি বনাঞ্চল রক্ষায় নজরদারি বাড়ানো এবং অবৈধ গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এখন দেখার বিষয় প্রশাসন এই গুরুতর অভিযোগে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, নাকি আগের মতোই বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার

দিনাজপুরের বিরামপুরের সরকারি বিধি উপেক্ষা করে বনের গাছ কর্তন বিরামপুরে বিট অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৮:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার চরকাই বন গবেষণা কেন্দ্র এলাকায় সরকারি নিয়ম কানুন অমান্য করে বন বিভাগের গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক বিট অফিসারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ২১ এপ্রিল ২০২৬ ভোরবেলা,যা স্থানীয় জনগণের মাঝে চরম উদ্বেগ ওক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,চরকাই বন গবেষণা কেন্দ্রের বিট অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম নিজ দায়িত্বে থাকা বন এলাকার একটি অপরিপক্ক ইউক্যালিপটাস গাছ কোনো প্রকার সরকারি অনুমতি ছাড়াই কর্তন করেন।

গাছটি ব্যক্তিগত বাড়ির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিট অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি স্বীকার করেন যে,“আমি উক্ত গাছটি আমার বাড়ির কাজের জন্য কর্তন করেছি।অফিসিয়ালি অনুমতি নেওয়ার ক্ষেত্রে ত্রুটি হয়েছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমার কিছু বলার নেই।”সরকারি দায়িত্বে থেকে এমন স্বীকারোক্তি ঘটনাটিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন,শুধু একটি গাছ নয় চরকাই বন গবেষণা কেন্দ্রের আশেপাশে থাকা অনেক মূল্যবান গাছ দীর্ঘদিন ধরে রাতের অন্ধকারে কেটে নেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে কিছু অসাধু ব্যক্তির এই বিট অফিসার জড়িত থাকার দাবি করেন।এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নীরব সহযোগিতা বা যোগসাজশ রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,“বনের গাছ কাটা এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের চোখের সামনে এসব হচ্ছে, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”ঘটনার বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা চরকাই ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। আইন কী বলে?বাংলাদেশের প্রচলিত বন আইন অনুযায়ী,সরকারি বনাঞ্চলের কোনো গাছ কর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। অনুমতি ব্যতীত গাছ কাটাকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়,যার জন্য অর্থদণ্ড,এমনকি কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে:একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট অফিসার কীভাবে নিজেই আইন ভঙ্গ করেন?দীর্ঘদিন ধরে বনের গাছ নিধনের পেছনে কারা জড়িত? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি এ বিষয়ে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেবে?স্থানীয়দের দাবি:অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশা পাশি বনাঞ্চল রক্ষায় নজরদারি বাড়ানো এবং অবৈধ গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এখন দেখার বিষয় প্রশাসন এই গুরুতর অভিযোগে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, নাকি আগের মতোই বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।


প্রিন্ট