ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমাজ বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডেনমার্কে হামলার প্রস্তুতির নিচ্ছে রাশিয়া, দাবি ড্যানিশ গোয়েন্দা সংস্থার মেসির সম্মানে ১০ মিনিটে থামবে খেলা, এক মিনিটের করতালি বাংলাদেশে ২০০ কোটি পাউন্ড দেবে ইউকেইএফ জনগণের ভোগান্তি নিরসনে লং মার্চে অংশ নিচ্ছে এনসিপি : আখতার হোসেন ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে ৬৩ জন গ্রেফতার সি ইউ সি’র উপদেষ্টা ড. প্রদীপ দেবনাথের জন্মদিনে ফুলেল শুভেচ্ছা খুলনা আহছানউল্লাহ কলেজ জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন চিলমারীতে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় নারীর গর্ভস্খলন ও ঘর-বাড়িতে অগ্নি সংযোগের প্রতিবাদে মানব বন্ধন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচিতে রেঞ্জ ডিআইজি

কুড়িগ্রামে বিদ্যালয়ের গাছ কাটার অভিযোগে বিতর্ক, প্রধান শিক্ষকের ভিন্ন বক্তব্য

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

 

 

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলখানা ইউনিয়নের তাপেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছ কাটা ও পুরাতন ভবন অপসারণকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কোনো উন্মুক্ত নিলাম (অকশন) প্রক্রিয়া ছাড়াই বিদ্যালয়ের একাধিক গাছ এবং একটি পুরাতন ভবন অপসারণ করা হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের অন্তত সাতটি গাছ সম্প্রতি কেটে ফেলা হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি বিধিমালা অনুসরণ না করে এ ধরনের সম্পদ অপসারণ করা অনিয়ম এবং এতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৫০ হাত দীর্ঘ একটি পুরাতন ভবনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়াই সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, “গাছগুলো বাইরে থেকে কেউ কেটে নিয়ে যায়নি। এগুলো স্কুলের বাউন্ডারির ভেতরেই ছিল। তবে গাছগুলো স্কুলের সম্পত্তি নয়।”

ভবন অপসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি হয়ে থাকলে এতে আমার কী করার আছে।”

 

এদিকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিও) সপন এ বিষয়ে বলেন, “আমাদের কিছু করার নেই।” একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাজু বলেন, “আমার কিছু করার নেই।”

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এমন মন্তব্য এবং প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ভেতরে থাকা যেকোনো সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরই হওয়া উচিত।

 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

এলাকার সচেতন মহল বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, সরকারি সম্পদের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সমাজ বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কুড়িগ্রামে বিদ্যালয়ের গাছ কাটার অভিযোগে বিতর্ক, প্রধান শিক্ষকের ভিন্ন বক্তব্য

আপডেট টাইম : ০৯:৩৫:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

 

 

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলখানা ইউনিয়নের তাপেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছ কাটা ও পুরাতন ভবন অপসারণকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কোনো উন্মুক্ত নিলাম (অকশন) প্রক্রিয়া ছাড়াই বিদ্যালয়ের একাধিক গাছ এবং একটি পুরাতন ভবন অপসারণ করা হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের অন্তত সাতটি গাছ সম্প্রতি কেটে ফেলা হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি বিধিমালা অনুসরণ না করে এ ধরনের সম্পদ অপসারণ করা অনিয়ম এবং এতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৫০ হাত দীর্ঘ একটি পুরাতন ভবনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়াই সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, “গাছগুলো বাইরে থেকে কেউ কেটে নিয়ে যায়নি। এগুলো স্কুলের বাউন্ডারির ভেতরেই ছিল। তবে গাছগুলো স্কুলের সম্পত্তি নয়।”

ভবন অপসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি হয়ে থাকলে এতে আমার কী করার আছে।”

 

এদিকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিও) সপন এ বিষয়ে বলেন, “আমাদের কিছু করার নেই।” একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাজু বলেন, “আমার কিছু করার নেই।”

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এমন মন্তব্য এবং প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ভেতরে থাকা যেকোনো সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরই হওয়া উচিত।

 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

এলাকার সচেতন মহল বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, সরকারি সম্পদের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।


প্রিন্ট