ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এআই দিয়ে বাড়ছে সাইবার হামলা শূকরের ভাইরাস সোয়াইন ফ্লু’তে আক্রান্ত ইমরান হাশমি গুমের সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে : নাহিদ ইসলাম স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চায় সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী মাগুরা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা-র আত্মপ্রকাশ: সভাপতি শাহীনুর ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি ব্রেকআপের ঠিক পরেই যে ৫টি কাজ কখনোই করা উচিত নয় ডিমের চেয়েও বেশি প্রোটিন পেতে খেতে পারেন যেসব খাবার বেস্ট ফ্রেন্ড সাফার জন্মদিন, শুভেচ্ছায় যা বললেন তৌসিফ মাভাবিপ্রবিতে ১৫ দিনব্যাপী তিন হাজারের বেশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

বাড়ি নির্মাণে বৈধ অর্থের উৎস ব্যবহারের দাবি, প্রয়োজনে তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস

স্টাফ রিপোর্টার | মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়াঃ কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এরশাদুল হককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি পোস্ট ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টটিতে তার বেতন, সম্পদের পরিমাণ, বাড়ি নির্মাণের অর্থের উৎস এবং ব্যক্তিগত আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন দাবি করা হয়। তবে এসব তথ্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে দাবি করা হয়, তিনি মাত্র ১৯ হাজার ৮৫ টাকা মাসিক বেতনে চাকরি করেও কুড়িগ্রাম শহরে তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি কিনেছেন। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।

এরই প্রেক্ষাপটে ভিডিও বক্তব্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরে এরশাদুল হক বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত তথ্যের অধিকাংশই যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশ করা হয়েছে এবং বাস্তবতার সঙ্গে সেগুলোর কোনো মিল নেই।

তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রথমেই আমার বেতন সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। আমি ১৯ হাজার টাকা বেতন পাই না। বর্তমানে আমার মাসিক বেতন প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ কোনো তথ্য যাচাই না করেই বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে।”

পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এরশাদুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বাড়ি নির্মাণের অর্থের উৎস সম্পর্কে যে ধারণা দেওয়া হয়েছে, সেটিও বিভ্রান্তিকর। তিনি দাবি করেন, বাড়ি নির্মাণে ব্যবহৃত অর্থের সবকটিরই বৈধ উৎস রয়েছে এবং সেগুলোর প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষিত আছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাড়ি নির্মাণের জন্য তিনি বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি) থেকে গৃহঋণ গ্রহণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ, নিজস্ব সম্পত্তি বিক্রির অর্থ এবং অন্যান্য বৈধ আর্থিক উৎসের সমন্বয়ে নির্মাণ ব্যয় বহন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এসব লেনদেনের কাগজপত্র প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা যাবে বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, “আমার আয়-ব্যয় বা সম্পদের বিষয়ে যদি কোনো সরকারি সংস্থা কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে, আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আমার লুকানোর কিছু নেই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার সত্যতা যাচাই করলে প্রকৃত বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

এরশাদুল হকের অভিযোগ, তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো তথ্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করলে তা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব বৃদ্ধির কারণে এখন যে কোনো তথ্য খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও গণমাধ্যমের উচিত কোনো অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা নির্ভরযোগ্য নথি থেকে তথ্য যাচাই করা। যাচাই ছাড়া তথ্য প্রকাশ করলে তা অনিচ্ছাকৃতভাবেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি সাধারণ মানুষের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সব তথ্যকে সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেখলে সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে প্রচারিত তথ্যের কারণে ব্যক্তি, পরিবার ও কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও উল্লেখ করেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

এআই দিয়ে বাড়ছে সাইবার হামলা

বাড়ি নির্মাণে বৈধ অর্থের উৎস ব্যবহারের দাবি, প্রয়োজনে তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস

আপডেট টাইম : ০৬:৫২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার | মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়াঃ কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এরশাদুল হককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি পোস্ট ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টটিতে তার বেতন, সম্পদের পরিমাণ, বাড়ি নির্মাণের অর্থের উৎস এবং ব্যক্তিগত আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন দাবি করা হয়। তবে এসব তথ্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে দাবি করা হয়, তিনি মাত্র ১৯ হাজার ৮৫ টাকা মাসিক বেতনে চাকরি করেও কুড়িগ্রাম শহরে তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি কিনেছেন। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।

এরই প্রেক্ষাপটে ভিডিও বক্তব্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরে এরশাদুল হক বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত তথ্যের অধিকাংশই যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশ করা হয়েছে এবং বাস্তবতার সঙ্গে সেগুলোর কোনো মিল নেই।

তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রথমেই আমার বেতন সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। আমি ১৯ হাজার টাকা বেতন পাই না। বর্তমানে আমার মাসিক বেতন প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ কোনো তথ্য যাচাই না করেই বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে।”

পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এরশাদুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বাড়ি নির্মাণের অর্থের উৎস সম্পর্কে যে ধারণা দেওয়া হয়েছে, সেটিও বিভ্রান্তিকর। তিনি দাবি করেন, বাড়ি নির্মাণে ব্যবহৃত অর্থের সবকটিরই বৈধ উৎস রয়েছে এবং সেগুলোর প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষিত আছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাড়ি নির্মাণের জন্য তিনি বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি) থেকে গৃহঋণ গ্রহণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ, নিজস্ব সম্পত্তি বিক্রির অর্থ এবং অন্যান্য বৈধ আর্থিক উৎসের সমন্বয়ে নির্মাণ ব্যয় বহন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এসব লেনদেনের কাগজপত্র প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা যাবে বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, “আমার আয়-ব্যয় বা সম্পদের বিষয়ে যদি কোনো সরকারি সংস্থা কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে, আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আমার লুকানোর কিছু নেই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার সত্যতা যাচাই করলে প্রকৃত বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

এরশাদুল হকের অভিযোগ, তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো তথ্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করলে তা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব বৃদ্ধির কারণে এখন যে কোনো তথ্য খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও গণমাধ্যমের উচিত কোনো অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা নির্ভরযোগ্য নথি থেকে তথ্য যাচাই করা। যাচাই ছাড়া তথ্য প্রকাশ করলে তা অনিচ্ছাকৃতভাবেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি সাধারণ মানুষের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সব তথ্যকে সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেখলে সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে প্রচারিত তথ্যের কারণে ব্যক্তি, পরিবার ও কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও উল্লেখ করেন।


প্রিন্ট