হাফসা আক্তারঃ
ঢাকা | ১৮ জুলাই ২০২৬
ক্ষমতাসীনদের দুর্বলতা ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে আবারও জুলাইয়ের মতো গণঅভ্যুত্থানের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর এবং ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
শনিবার সকালে রাজধানীর উত্তরার নর্থ টাওয়ার হাউজবিল্ডিং এলাকায় ‘জুলাই গ্রাফিতি আর্ট’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সেলিম উদ্দিন বলেন, সরকারের উচিত এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি না হতে দেওয়া, যাতে জনগণ আবারও গণঅভ্যুত্থানের পথে যেতে বাধ্য হয়। তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল আওয়ামী লীগের ভাষ্য অনুসরণ করে তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নেবে, তারা জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হবে। জুলাই আন্দোলন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র কিংবা অপমানজনক বক্তব্য দেশের মানুষ মেনে নেবে না। জুলাইকে নিয়ে অপপ্রচারের পরিণতি শুভ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে সেলিম উদ্দিন বলেন, কোটি মানুষের অংশগ্রহণে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই ‘৩৬ জুলাই’-এর সফলতা অর্জিত হয়েছে। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেই বাংলাদেশ পরিচালিত হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাইয়ের স্মৃতি ও গ্রাফিতি রাষ্ট্রের উদ্যোগে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
উত্তরার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে উত্তরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ এলাকায় অসংখ্য মানুষ শহীদ ও আহত হয়েছেন। সে সময় তৎকালীন সরকারের বাহিনী ঘরে ঘরে অভিযান চালিয়ে নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
জামায়াতে ইসলামী জুলাই আন্দোলনে ছায়ার মতো পাশে ছিল উল্লেখ করে সেলিম উদ্দিন বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতেও দলটি প্রস্তুত।
পরে ‘৩৬ জুলাই’ স্মরণে উত্তরার বিভিন্ন সড়কে জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ২০ থেকে ৩০ জুলাই ‘স্মৃতিতে জুলাই’ শীর্ষক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ২৫ জুলাই ‘তুলিতে জুলাই’ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং ৩১ জুলাই পর্যন্ত গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচি চলবে। কর্মসূচি শেষে শহীদ মুগ্ধ মঞ্চে সেরা গ্রাফিতি শিল্পীদের পুরস্কৃত করা হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ও উত্তরা পূর্ব অঞ্চলের পরিচালক জামাল উদ্দিন, উত্তরা মডেল থানা আমীর ইব্রাহিম খলিল, উত্তরা পশ্চিম থানা আমীর মাজহারুল ইসলাম, তুরাগ দক্ষিণ থানা আমীর মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, তুরাগ মধ্য থানা আমীর গাজী মনির হোসাইন, দক্ষিণখান পূর্ব থানা আমীর আবু সাঈদ, উত্তরখান পশ্চিম থানা আমীর নিজাম উদ্দিন, মহানগর যুব বিভাগের সেক্রেটারি ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, তুরাগ মধ্য থানা নায়েবে আমীর কামরুল হাসান, ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তরের দপ্তর সম্পাদক তাহমিদ হুজাইফাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 
























