ঢাকা ১০:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী আমরা দেশ ও জনগণের জন্য এনসিপিসহ একসঙ্গে কাজ করছি: জামায়াত আমির ঢাকায় যাত্রাবিরতি ভুটানের রাজার, স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে জবিতে ‘ইউথ ইমপ্যাক্ট সামিট’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের একটি পরীক্ষা স্থগিত অনফিশিয়াল টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ইনিংস ও ৪১৩ রানের হার বাংলাদেশ এ দলের ‘কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুললো উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী

রাজারহাটে ৪১৭ কৃষকের কাছ থেকে ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহ সম্পন্ন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়াঃ

কুড়িগ্রামের রাজারহাট খাদ্য গুদামে চলতি বোরো মৌসুমের সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত মানদণ্ড, বিনির্দেশনা ও নিয়মনীতি অনুসরণ করে উপজেলার ৪১৭ জন কৃষকের কাছ থেকে মোট ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।

গুদাম সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের কাছ থেকে ধান গ্রহণের আগে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ধানের গুণগত মান, আর্দ্রতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই করা হয়। সরকারি মানদণ্ড পূরণ করা ধানই গ্রহণ করে খাদ্য গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে কৃষকদের সরাসরি সরকারি গুদামে ধান সরবরাহের সুযোগ দেওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সরাসরি সংগ্রহ ব্যবস্থায় কৃষকরা ন্যায্য প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মসূচির আওতায় ধান সরবরাহের সুযোগ পান এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতাও কমে।

রাজারহাট খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের তত্ত্বাবধানে পুরো সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, “সরকার আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেটি স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যেতে চাই। কৃষকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই নির্ধারিত নিয়মে তাদের উৎপাদিত শস্য সরকারি গুদামে সরবরাহ করতে পারেন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার চাকরি জীবনের শুরুটা যেমন ভালোভাবে করতে চেয়েছি, তেমনি শেষটাও ভালোভাবে করতে চাই। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যেতে চাই।”

সংগ্রহ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাজারহাট খাদ্য গুদামে কৃষক চন্দন কুমার সাহা ও শাহাআলমের কাছ থেকেও ৭৫ মণ করে ধান সংগ্রহ করা হয়। দুই কৃষকের কাছ থেকে মোট ১৫০ মণ ধান গ্রহণ করা হয়েছে। ধান গ্রহণের আগে নির্ধারিত মান ও আর্দ্রতা যাচাই করা হয় বলে গুদাম কর্তৃপক্ষ জানায়।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, সরকারি খাদ্য গুদামে সরাসরি ধান সরবরাহ করতে পেরে তারা উপকৃত হয়েছেন। সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় নিয়ম মেনে ধান গ্রহণ এবং কৃষকদের সহযোগিতা করা হয়েছে বলেও তারা জানান।

এদিকে রাজারহাট খাদ্য গুদামের সামনে চাল, ধান ও গম সংগ্রহের প্রয়োজনীয় মানদণ্ড ও বিনির্দেশনা সংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এতে কৃষক ও সরবরাহকারীরা খাদ্যশস্য সরবরাহের আগে প্রয়োজনীয় মান সম্পর্কে ধারণা নিতে পারছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের ফলে একদিকে সরকারি খাদ্য মজুত শক্তিশালী হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ ব্যবস্থার প্রতি কৃষকদের আস্থাও বাড়ছে। সংগৃহীত ধান যথাযথভাবে সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সরকারি খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থায়ও এর সুফল পাওয়া যাবে।

রাজারহাট খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বোরো মৌসুমের নির্ধারিত সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং সংগৃহীত ধান সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী

রাজারহাটে ৪১৭ কৃষকের কাছ থেকে ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহ সম্পন্ন

আপডেট টাইম : ১১:২৪:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়াঃ

কুড়িগ্রামের রাজারহাট খাদ্য গুদামে চলতি বোরো মৌসুমের সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত মানদণ্ড, বিনির্দেশনা ও নিয়মনীতি অনুসরণ করে উপজেলার ৪১৭ জন কৃষকের কাছ থেকে মোট ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।

গুদাম সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের কাছ থেকে ধান গ্রহণের আগে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ধানের গুণগত মান, আর্দ্রতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই করা হয়। সরকারি মানদণ্ড পূরণ করা ধানই গ্রহণ করে খাদ্য গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে কৃষকদের সরাসরি সরকারি গুদামে ধান সরবরাহের সুযোগ দেওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সরাসরি সংগ্রহ ব্যবস্থায় কৃষকরা ন্যায্য প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মসূচির আওতায় ধান সরবরাহের সুযোগ পান এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতাও কমে।

রাজারহাট খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের তত্ত্বাবধানে পুরো সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, “সরকার আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেটি স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যেতে চাই। কৃষকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই নির্ধারিত নিয়মে তাদের উৎপাদিত শস্য সরকারি গুদামে সরবরাহ করতে পারেন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার চাকরি জীবনের শুরুটা যেমন ভালোভাবে করতে চেয়েছি, তেমনি শেষটাও ভালোভাবে করতে চাই। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যেতে চাই।”

সংগ্রহ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাজারহাট খাদ্য গুদামে কৃষক চন্দন কুমার সাহা ও শাহাআলমের কাছ থেকেও ৭৫ মণ করে ধান সংগ্রহ করা হয়। দুই কৃষকের কাছ থেকে মোট ১৫০ মণ ধান গ্রহণ করা হয়েছে। ধান গ্রহণের আগে নির্ধারিত মান ও আর্দ্রতা যাচাই করা হয় বলে গুদাম কর্তৃপক্ষ জানায়।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, সরকারি খাদ্য গুদামে সরাসরি ধান সরবরাহ করতে পেরে তারা উপকৃত হয়েছেন। সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় নিয়ম মেনে ধান গ্রহণ এবং কৃষকদের সহযোগিতা করা হয়েছে বলেও তারা জানান।

এদিকে রাজারহাট খাদ্য গুদামের সামনে চাল, ধান ও গম সংগ্রহের প্রয়োজনীয় মানদণ্ড ও বিনির্দেশনা সংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এতে কৃষক ও সরবরাহকারীরা খাদ্যশস্য সরবরাহের আগে প্রয়োজনীয় মান সম্পর্কে ধারণা নিতে পারছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের ফলে একদিকে সরকারি খাদ্য মজুত শক্তিশালী হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ ব্যবস্থার প্রতি কৃষকদের আস্থাও বাড়ছে। সংগৃহীত ধান যথাযথভাবে সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সরকারি খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থায়ও এর সুফল পাওয়া যাবে।

রাজারহাট খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বোরো মৌসুমের নির্ধারিত সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং সংগৃহীত ধান সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে।


প্রিন্ট