ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মিয়ানমারে পাচারের সময় ৪১০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সুযোগ নেই : ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল নেত্রকোণায় অনুমোদনহীন ভবন ভাঙল প্রশাসন ভোলা-ঢাকা রুটে ফেরি সার্ভিস, পণ্য পরিবহনে নতুন যুগের সূচনা বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, কোনো প্রভু নেই : প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল ফরিদপুর চিনিকলে ২০২৬-২৭ মৌসুমের আখ রোপণ কার্যক্রম উদ্বোধন হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা নিশ্চিতে কঠোর নির্দেশনা ডিসি ফরিদার বিএমইউতে অত্যাধুনিক সি-আর্ম মেশিন চালু প্রধানমন্ত্রীর কারামুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভার আয়োজন উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের পিরোজপুর প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে  বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন। ‎

হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা নিশ্চিতে কঠোর নির্দেশনা ডিসি ফরিদার

ভূমি সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন হয়রানি, অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা দালালের দৌরাত্ম্যের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।

জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং স্বচ্ছ ও দ্রুত ভূমিসেবা নিশ্চিত করাই হবে জেলা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।

আজ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেন তিনি।

ফরিদা খানম বলেন, একজন নাগরিক ভূমি অফিসে কোনো ব্যক্তির কাছে নয়, রাষ্ট্রের কাছে সেবা নিতে আসেন। তাই তাকে যথাযথ সেবা দেওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও নৈতিক দায়বদ্ধতা। ভূমি সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি, অনিয়ম বা হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে দ্রুত সেবা কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেন। নামজারি, খতিয়ান, মিউটেশনসহ ভূমি-সংক্রান্ত সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেন তিনি।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ঘুষ, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ফাইল আটকে রাখা, অযথা হয়রানি কিংবা দালালের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের সরাসরি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সেবা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সরকারি ফি ও সেবা প্রদানের সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে হবে।
নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফরিদা খানম বলেন, একজন সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর জমি হয়তো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই কোনো নাগরিক যেন ভূমি অফিস থেকে অপমানিত বা হয়রানির শিকার হয়ে ফিরে না যান।

ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে সাফল্য : সভায় জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ঢাকা জেলায় সাধারণ খাতে ভূমি উন্নয়ন করের দাবি ছিল ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ৭২ হাজার ২৮০ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৩ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৬ টাকা, যা দাবির ১১০.৬ শতাংশ।

এছাড়া সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২৬ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার ১৬০ টাকা এবং অর্পিত সম্পত্তির লিজমানি বাবদ ৮ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার ১২৫ টাকা আদায় হয়েছে।

রাজস্ব আদায়ে এ সাফল্যের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), তহসীলদার ও সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, এ অর্জন তাদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু ফাইল নিষ্পত্তি করা নয়, মানুষের সমস্যার সমাধান করা। জনগণ যেন দালাল ছাড়াই স্বচ্ছ ও সহজ প্রক্রিয়ায় ভূমিসেবা পান এবং হয়রানি ছাড়াই সন্তুষ্টচিত্তে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেটিই নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, ভূমিসেবা সহজীকরণ ও নাগরিক ভোগান্তি কমানোর বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারে পাচারের সময় ৪১০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ

হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা নিশ্চিতে কঠোর নির্দেশনা ডিসি ফরিদার

আপডেট টাইম : ০৬:৫৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভূমি সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন হয়রানি, অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা দালালের দৌরাত্ম্যের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।

জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং স্বচ্ছ ও দ্রুত ভূমিসেবা নিশ্চিত করাই হবে জেলা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।

আজ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেন তিনি।

ফরিদা খানম বলেন, একজন নাগরিক ভূমি অফিসে কোনো ব্যক্তির কাছে নয়, রাষ্ট্রের কাছে সেবা নিতে আসেন। তাই তাকে যথাযথ সেবা দেওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও নৈতিক দায়বদ্ধতা। ভূমি সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি, অনিয়ম বা হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে দ্রুত সেবা কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেন। নামজারি, খতিয়ান, মিউটেশনসহ ভূমি-সংক্রান্ত সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেন তিনি।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ঘুষ, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ফাইল আটকে রাখা, অযথা হয়রানি কিংবা দালালের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের সরাসরি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সেবা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সরকারি ফি ও সেবা প্রদানের সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে হবে।
নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফরিদা খানম বলেন, একজন সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর জমি হয়তো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই কোনো নাগরিক যেন ভূমি অফিস থেকে অপমানিত বা হয়রানির শিকার হয়ে ফিরে না যান।

ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে সাফল্য : সভায় জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ঢাকা জেলায় সাধারণ খাতে ভূমি উন্নয়ন করের দাবি ছিল ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ৭২ হাজার ২৮০ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৩ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৬ টাকা, যা দাবির ১১০.৬ শতাংশ।

এছাড়া সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২৬ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার ১৬০ টাকা এবং অর্পিত সম্পত্তির লিজমানি বাবদ ৮ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার ১২৫ টাকা আদায় হয়েছে।

রাজস্ব আদায়ে এ সাফল্যের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), তহসীলদার ও সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, এ অর্জন তাদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু ফাইল নিষ্পত্তি করা নয়, মানুষের সমস্যার সমাধান করা। জনগণ যেন দালাল ছাড়াই স্বচ্ছ ও সহজ প্রক্রিয়ায় ভূমিসেবা পান এবং হয়রানি ছাড়াই সন্তুষ্টচিত্তে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেটিই নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, ভূমিসেবা সহজীকরণ ও নাগরিক ভোগান্তি কমানোর বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।


প্রিন্ট