ঢাকা ০৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নারী কর্মীদের সুরক্ষায় ১৩ দেশের ২২ ল’ ফার্মের সঙ্গে চুক্তি সেউতায় অভিবাসী ঢল নিয়ে মরক্কোর পরিকল্পনার জোরালো প্রমাণ নেই: স্পেনের প্রধানমন্ত্রী চামড়া শিল্প পুনরুজ্জীবনে সমন্বিত সংস্কার পরিকল্পনা সরকারের : বাণিজ্যমন্ত্রী ডেনমার্কে রুশ নাশকতার প্রস্তুতির বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা বরিশালে ২৪ ঘণ্টায় ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড তরুণদের উদ্যোক্তা হতে অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশালে ২৪ ঘণ্টায় ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড রাজশাহীতে পরিবেশবান্ধব গ্রিন বিল্ডিংয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি : আইরিন খান সুনামগঞ্জের নতুনপাড়াস্থ শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির প্রাঙ্গণে চিত্রাংঙ্গন ও কুইজ প্রতিযোগিতা,ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চামড়া শিল্প পুনরুজ্জীবনে সমন্বিত সংস্কার পরিকল্পনা সরকারের : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের চামড়া শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনতে ট্যানারি খাতে সংস্কার, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।

আজ রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘অ্যাডভান্সিং বাংলাদেশ’স লেদার সেক্টর: চ্যালেঞ্জেস, অপরচুনিটিজ অ্যান্ড রিফর্ম’ শীর্ষক নীতি সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তবে স্থানান্তর প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে চামড়া শিল্প ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বিনিয়োগ করেও বর্তমানে যারা নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী বা সক্ষম নন, তাদের জন্য ‘গ্রেসফুল এক্সিট’-এর সুযোগ তৈরি করা হবে। এতে নতুন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য এ খাতে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভবিষ্যতে ট্যানারি ব্যবসায় শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জন বাধ্যতামূলক করা হবে।

তিনি বলেন, কাঁচা চামড়া রপ্তানির পরিবর্তে দেশে প্রক্রিয়াজাত করে জুতা, ব্যাগসহ উচ্চমূল্যের চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ লেদার’ ব্র্যান্ড গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

চামড়া শিল্পের অন্যতম প্রধান সমস্যা সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নতুন বিশ্বমানের সিইটিপি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান সিইটিপি সংস্কারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

বড় ট্যানারিগুলোতে নিজস্ব ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট ট্যানারিগুলো কেন্দ্রীয় সিইটিপি ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে শতভাগ পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ট্যানারির কঠিন বর্জ্য থেকে ট্যালো, হাড়ের গুঁড়া ও অন্যান্য ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরির জন্য কয়েকটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সাভারের ট্যানারি শিল্প এলাকাকে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে স্পেন ও ইতালির বড় চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২৭ সালের মধ্যে সাভারে চামড়া ও অন্যান্য শিল্পের জন্য দক্ষতা ও ডিজাইন উন্নয়ন কেন্দ্র চালুর লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, বিনিয়োগ সুবিধা, ইটিপি স্থাপন এবং বন্ডসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের মাধ্যমে দেশের চামড়া শিল্পকে আবারও বৈশ্বিক বাজারে শক্ত অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে। আলোচনায় আরও অংশ নেন ফ্ল্যাক্সা (এফএলএক্সএ)-এর সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হানসহ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, ট্যানারি ও পাদুকা উদ্যোক্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীরা।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নারী কর্মীদের সুরক্ষায় ১৩ দেশের ২২ ল’ ফার্মের সঙ্গে চুক্তি

চামড়া শিল্প পুনরুজ্জীবনে সমন্বিত সংস্কার পরিকল্পনা সরকারের : বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৫:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের চামড়া শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনতে ট্যানারি খাতে সংস্কার, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।

আজ রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘অ্যাডভান্সিং বাংলাদেশ’স লেদার সেক্টর: চ্যালেঞ্জেস, অপরচুনিটিজ অ্যান্ড রিফর্ম’ শীর্ষক নীতি সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তবে স্থানান্তর প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে চামড়া শিল্প ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বিনিয়োগ করেও বর্তমানে যারা নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী বা সক্ষম নন, তাদের জন্য ‘গ্রেসফুল এক্সিট’-এর সুযোগ তৈরি করা হবে। এতে নতুন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য এ খাতে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভবিষ্যতে ট্যানারি ব্যবসায় শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জন বাধ্যতামূলক করা হবে।

তিনি বলেন, কাঁচা চামড়া রপ্তানির পরিবর্তে দেশে প্রক্রিয়াজাত করে জুতা, ব্যাগসহ উচ্চমূল্যের চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ লেদার’ ব্র্যান্ড গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

চামড়া শিল্পের অন্যতম প্রধান সমস্যা সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নতুন বিশ্বমানের সিইটিপি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান সিইটিপি সংস্কারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

বড় ট্যানারিগুলোতে নিজস্ব ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট ট্যানারিগুলো কেন্দ্রীয় সিইটিপি ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে শতভাগ পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ট্যানারির কঠিন বর্জ্য থেকে ট্যালো, হাড়ের গুঁড়া ও অন্যান্য ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরির জন্য কয়েকটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সাভারের ট্যানারি শিল্প এলাকাকে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে স্পেন ও ইতালির বড় চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২৭ সালের মধ্যে সাভারে চামড়া ও অন্যান্য শিল্পের জন্য দক্ষতা ও ডিজাইন উন্নয়ন কেন্দ্র চালুর লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, বিনিয়োগ সুবিধা, ইটিপি স্থাপন এবং বন্ডসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের মাধ্যমে দেশের চামড়া শিল্পকে আবারও বৈশ্বিক বাজারে শক্ত অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে। আলোচনায় আরও অংশ নেন ফ্ল্যাক্সা (এফএলএক্সএ)-এর সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হানসহ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, ট্যানারি ও পাদুকা উদ্যোক্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীরা।


প্রিন্ট