ঢাকা ১১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবারের পূজায় কেউ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেনি : পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট প্রস্তুত, চালু হলেই মিলবে নিরবচ্ছিন্ন সেবা আইপিএল প্রশ্নে মুখ খুললেন ধোনি, নিজেকে বললেন ‘পুরোনো ভিন্টেজ গাড়ি’ বিক্ষোভ ঠেকাতে মিলান শহরে সেনা মোতায়েন করছে ইতালি সংবিধান সংস্কারের নামে অপচেষ্টা করছে সরকার: গোলাম পরওয়ার মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনের সিদ্ধান্ত চিকিৎসাধীন ভূমিমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি স্পেন-যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন শামা ওবায়েদ জাপানের জেরার কাছ থেকে এলএনজি কেনার প্রস্তাব আলোচনা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নৌমন্ত্রী

ফাইল ছবি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিবিএর আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিকীকরণের প্রক্রিয়া ক্রমেই গতিলাভের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। সংকীর্ণ দলাদলি, উপদলীয় কোন্দল এবং হানাহানিযুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এমনিতেই দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে। অনেক ঘটনা-দুর্ঘটনা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তি মানুষের মধ্যে থাকা প্রয়োজন।

শ্রমিকনেতা হিসেবে শাজাহান খানের ভূমিকার কারণে আজ তা হুমকিগ্রস্ত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। জাসদের রাজনীতিতেও তিনি শ্রমিকনেতা ছিলেন। তাই তিনি নিজেই সাক্ষ্য দেবেন, অতীতে কখনোই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিবিএ নেতাদের কোনো সমাবেশে এভাবে রীতিমতো কাগজে-কলমে ‘বিরোধী দলকে শায়েস্তা’ করতে যুক্ত করা হয়নি।

এটা পরিহাসজনক যে নৌপরিবহনমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে যা বলেছেন, তা কার্যত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধেই যাচ্ছে। তিনি যেন ভুলে গেছেন তাঁর দলই সরকারে এবং যেকোনো নাশকতা, তা যে যখনই করুক না কেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ। আর তার বিচার করা সরকারের স্বাভাবিক কর্তব্য। আমরা অবশ্যই অভিযোগ অনুযায়ী বিএনপি-জামায়াতের দ্বারা সংঘটিত ২০১৩-১৪ সালের অগ্নিসংযোগ ও হত্যার তদন্ত এবং বিচার আশা করি। আর সরকারকে যদি এ জন্য একান্ত চাপ দিতেই হয়, তাহলে সে জন্য আওয়ামী লীগের অন্য বহু অঙ্গসংগঠন রয়েছে। তাদের শক্তি-সামর্থ্য এতটা কমে যায়নি যে এখন স্বায়ত্তশাসিত এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মচারীদের এ কাজে ব্যবহার করতে হবে।

তাই এই আশঙ্কা অমূলক নয় যে আগামী সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতির সঙ্গে এর যোগসূত্র থাকতে পারে। তার থেকেও ভয়াবহ যে দিকটি লক্ষণীয় তা হলো, ব্যাংক খাতে অবলোপনসহ খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আর সে জন্য রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারি খাতের ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগকে চিহ্নিত করা হয়। এমন একটি বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে নৌমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ব্যাংকিং-সংশ্লিষ্ট লোকজন প্রমাদ গুনছেন।

বিষয়টিকে বিচ্ছিন্নভাবে একজন উচ্চাভিলাষী মন্ত্রীর খেয়াল-খুশি হিসেবে দেখার সুযোগ কম। এবার যা ঘটল, তার দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও পরিচালনা পর্ষদকেও নিতে হবে। কারণ, সিবিএর কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতাদের যাতায়াত খরচ বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল থেকে বহন করা হয়েছে এবং সম্মেলনে যোগদান উপলক্ষে কর্মক্ষেত্রে তাদের ‘অব্যাহতি’ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জযোগ্য কি না, তা-ও প্রশ্নের বাইরে নয়।

আমরা মনে করি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, স্বায়ত্তশাসন ও তার মর্যাদার প্রতি  শ্রম অধিকার–বহির্ভূত যেকোনো পদক্ষেপকে প্রতিরোধ করা উচিত।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ৭০০ মিলিয়ন ডলার

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নৌমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১০:১২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিবিএর আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিকীকরণের প্রক্রিয়া ক্রমেই গতিলাভের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। সংকীর্ণ দলাদলি, উপদলীয় কোন্দল এবং হানাহানিযুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এমনিতেই দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে। অনেক ঘটনা-দুর্ঘটনা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তি মানুষের মধ্যে থাকা প্রয়োজন।

শ্রমিকনেতা হিসেবে শাজাহান খানের ভূমিকার কারণে আজ তা হুমকিগ্রস্ত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। জাসদের রাজনীতিতেও তিনি শ্রমিকনেতা ছিলেন। তাই তিনি নিজেই সাক্ষ্য দেবেন, অতীতে কখনোই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিবিএ নেতাদের কোনো সমাবেশে এভাবে রীতিমতো কাগজে-কলমে ‘বিরোধী দলকে শায়েস্তা’ করতে যুক্ত করা হয়নি।

এটা পরিহাসজনক যে নৌপরিবহনমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে যা বলেছেন, তা কার্যত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধেই যাচ্ছে। তিনি যেন ভুলে গেছেন তাঁর দলই সরকারে এবং যেকোনো নাশকতা, তা যে যখনই করুক না কেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ। আর তার বিচার করা সরকারের স্বাভাবিক কর্তব্য। আমরা অবশ্যই অভিযোগ অনুযায়ী বিএনপি-জামায়াতের দ্বারা সংঘটিত ২০১৩-১৪ সালের অগ্নিসংযোগ ও হত্যার তদন্ত এবং বিচার আশা করি। আর সরকারকে যদি এ জন্য একান্ত চাপ দিতেই হয়, তাহলে সে জন্য আওয়ামী লীগের অন্য বহু অঙ্গসংগঠন রয়েছে। তাদের শক্তি-সামর্থ্য এতটা কমে যায়নি যে এখন স্বায়ত্তশাসিত এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মচারীদের এ কাজে ব্যবহার করতে হবে।

তাই এই আশঙ্কা অমূলক নয় যে আগামী সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতির সঙ্গে এর যোগসূত্র থাকতে পারে। তার থেকেও ভয়াবহ যে দিকটি লক্ষণীয় তা হলো, ব্যাংক খাতে অবলোপনসহ খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আর সে জন্য রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারি খাতের ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগকে চিহ্নিত করা হয়। এমন একটি বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে নৌমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ব্যাংকিং-সংশ্লিষ্ট লোকজন প্রমাদ গুনছেন।

বিষয়টিকে বিচ্ছিন্নভাবে একজন উচ্চাভিলাষী মন্ত্রীর খেয়াল-খুশি হিসেবে দেখার সুযোগ কম। এবার যা ঘটল, তার দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও পরিচালনা পর্ষদকেও নিতে হবে। কারণ, সিবিএর কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতাদের যাতায়াত খরচ বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল থেকে বহন করা হয়েছে এবং সম্মেলনে যোগদান উপলক্ষে কর্মক্ষেত্রে তাদের ‘অব্যাহতি’ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জযোগ্য কি না, তা-ও প্রশ্নের বাইরে নয়।

আমরা মনে করি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, স্বায়ত্তশাসন ও তার মর্যাদার প্রতি  শ্রম অধিকার–বহির্ভূত যেকোনো পদক্ষেপকে প্রতিরোধ করা উচিত।


প্রিন্ট