ঢাকা ১১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
একাকীত্ব কাটিয়ে উঠতে মেনে চলুন ১০টি অভ্যাস শ্যামল, মোজাম্মেল ও রূপার তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় ফের বাড়ল গোলাপি সাজে নতুন লুকে নজর কাড়লেন জয়া আহসান জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবারের পূজায় কেউ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেনি : পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট প্রস্তুত, চালু হলেই মিলবে নিরবচ্ছিন্ন সেবা আইপিএল প্রশ্নে মুখ খুললেন ধোনি, নিজেকে বললেন ‘পুরোনো ভিন্টেজ গাড়ি’ বিক্ষোভ ঠেকাতে মিলান শহরে সেনা মোতায়েন করছে ইতালি সংবিধান সংস্কারের নামে অপচেষ্টা করছে সরকার: গোলাম পরওয়ার মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনের সিদ্ধান্ত

জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ৭০০ মিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৩.৪২ বিলিয়ন ডলার। তবে দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্য নেই।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাপান থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ২.০৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। বিপরীতে রপ্তানি করেছে ১.৩৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এতে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭০০ মিলিয়ন ডলারে। এ ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়ানো এবং বিনিয়োগ আকর্ষণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে বাংলাদেশ জাপানে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এ সময়ে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলারের। এর মধ্যে জাপানের বাজারের অংশ ছিল ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।

সাম্প্রতিক এই অগ্রগতি জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে। তবে গত কয়েক অর্থবছরের পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ ওঠানামা করেছে এবং বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে জাপানের অংশ এখনো সীমিত।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ জাপানে ১১৫ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছিল। পরের অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৩-২৪ সালে, রপ্তানি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১০৯ কোটি ডলারে নেমে আসে। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আবার ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১১৯ কোটি ডলারে পৌঁছায়।

এরপর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১১৩ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। একই অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি ডলারে নেমে আসে। ফলে মোট রপ্তানিতে জাপানের অংশ কমে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ হয়।

অর্থাৎ, গত কয়েক বছরে জাপানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা থাকলেও মোট রপ্তানিতে দেশটির অংশ ৩ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের ৩ দশমিক ২৫ শতাংশের হিসাব এ ক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জাপানের পোশাক আমদানির বাজার

বাংলাদেশের রপ্তানির পাশাপাশি জাপানের সামগ্রিক পোশাক আমদানির পরিসংখ্যানও বাজারটির গুরুত্ব তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্রের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে জাপান ২ হাজার ৪৯৬ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছিল।

পরের এক বছরে দেশটির পোশাক আমদানি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ২ হাজার ৩১৪ কোটি ডলারে নেমে আসে। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩৯০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৪১৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।

সর্বশেষ হিসাবে, ২০২৬ সালের জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে জাপান ৪০৫ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে।

জাপানের পোশাক আমদানির এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, এক বছরের পতনের পর দেশটির আমদানি আবার বেড়েছে। এদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে জাপানের অংশ চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তবে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হলে সাম্প্রতিক এই অগ্রগতি পরবর্তী সময়েও বজায় থাকে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

একাকীত্ব কাটিয়ে উঠতে মেনে চলুন ১০টি অভ্যাস

জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ৭০০ মিলিয়ন ডলার

আপডেট টাইম : ১০:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৩.৪২ বিলিয়ন ডলার। তবে দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্য নেই।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাপান থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ২.০৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। বিপরীতে রপ্তানি করেছে ১.৩৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এতে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭০০ মিলিয়ন ডলারে। এ ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়ানো এবং বিনিয়োগ আকর্ষণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে বাংলাদেশ জাপানে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এ সময়ে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলারের। এর মধ্যে জাপানের বাজারের অংশ ছিল ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।

সাম্প্রতিক এই অগ্রগতি জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে। তবে গত কয়েক অর্থবছরের পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ ওঠানামা করেছে এবং বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে জাপানের অংশ এখনো সীমিত।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ জাপানে ১১৫ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছিল। পরের অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৩-২৪ সালে, রপ্তানি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১০৯ কোটি ডলারে নেমে আসে। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আবার ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১১৯ কোটি ডলারে পৌঁছায়।

এরপর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১১৩ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। একই অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি ডলারে নেমে আসে। ফলে মোট রপ্তানিতে জাপানের অংশ কমে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ হয়।

অর্থাৎ, গত কয়েক বছরে জাপানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা থাকলেও মোট রপ্তানিতে দেশটির অংশ ৩ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের ৩ দশমিক ২৫ শতাংশের হিসাব এ ক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জাপানের পোশাক আমদানির বাজার

বাংলাদেশের রপ্তানির পাশাপাশি জাপানের সামগ্রিক পোশাক আমদানির পরিসংখ্যানও বাজারটির গুরুত্ব তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্রের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে জাপান ২ হাজার ৪৯৬ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছিল।

পরের এক বছরে দেশটির পোশাক আমদানি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ২ হাজার ৩১৪ কোটি ডলারে নেমে আসে। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩৯০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৪১৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।

সর্বশেষ হিসাবে, ২০২৬ সালের জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে জাপান ৪০৫ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে।

জাপানের পোশাক আমদানির এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, এক বছরের পতনের পর দেশটির আমদানি আবার বেড়েছে। এদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে জাপানের অংশ চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তবে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হলে সাম্প্রতিক এই অগ্রগতি পরবর্তী সময়েও বজায় থাকে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।


প্রিন্ট