শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৭ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
কুড়িগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনে নতুন মুখ হিসেবে মেয়র পদে মাঠে নেমেছেন মোঃ আব্দুল আলীম ৫০০ টাকায় সাংবাদিক তৈরির কারখানা “দৈনিক বাংলার সংবাদ” নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান ইরাকের বিরুদ্ধে কুয়েত সীমান্ত চৌকিতে ড্রোন হামলার অভিযোগ পিরোজপুরে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা নতুন আলোচনার জন্য পাকিস্তানের পথে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশকে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি ক্ষমতার জোরে জনরায় উপেক্ষা শুভ লক্ষণ নয়: মজিবুর রহমান মঞ্জু সৌদি আরবে অবৈধ হজযাত্রীদের আশ্রয় দিলে জরিমানা ১ লাখ রিয়াল রাসিক প্রশাসকের সাথে রেড ক্রিসেন্টের সেচ্ছাসেবকদের সাক্ষাৎ

৫০০ টাকায় সাংবাদিক তৈরির কারখানা “দৈনিক বাংলার সংবাদ” নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাংবাদিকতা একটি মহা দায়িত্বশীল ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা। এই পেশাকে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে কথিত একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এই চক্রের মূল হোতা ভুয়া সাংবাদিক মোঃ আবুল হাসেম। জানা যায়, “দৈনিক বাংলার সংবাদ”, “বাংলার টিভি”, “ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন কাউন্সিল”, “স্মার্ট বাজার লিমিটেড”, “স্মার্ট গ্রুপ” ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যান নামে ভুয়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুযায়ী, মাত্র ৫০০ টাকার বিনিময়ে ‘সাংবাদিক’ পরিচয়পত্র দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাব্বির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতারক আবুল হাসেম গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সরকারি নিয়মনীতি না মেনে পত্রিকা প্রিন্ট করায়, যা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী। তিনি আমাকে মিথ্যা প্ররোচনা দেখিয়ে “দৈনিক বাংলার সংবাদ”-এর সহকারী সম্পাদক পদে নিয়োগ দিয়ে এর বিনিময়ে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। “স্মার্ট বাজার”-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদবী দেওয়ার কথা বলে ৫০,০০০ টাকা এবং “ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন কাউন্সিল”-এর পরিচালক হিসেবে আরও ৫০,০০০ টাকা হাতিয়ে নেন। এগুলো ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কৌশলে ধাপে ধাপে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আমি সব জানতে পেরে টাকা ফেরত চাইলে তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “তুই আমাকে চিনিস? তোর বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা মামলা দেব, প্রশাসন আমার—আমি চাইলে তোকে মুহূর্তের মধ্যে গ্রেফতার করাতে পারি, এটা আমার বাঁ হাতের খেলা।”

সাব্বির হোসেন আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন তো দূরের কথা, কোনো প্রতিষ্ঠানেরই বৈধ কাগজপত্র নেই। নেই কোনো ট্রেড লাইসেন্স, এমনকি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আবেদনও করা হয়নি—যা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী। তিনি দেশ ও জাতির শত্রু। এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে, নাকের ডগায় বসে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে জানতে চাই—তার খুঁটির জোর কোথায়?

“দৈনিক বাংলার সংবাদ”, “বাংলার টিভি”, “ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন কাউন্সিল”, “স্মার্ট গ্রুপ”, “স্মার্ট বাজার লিমিটেড” নামের ভুয়া প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে কথিত সাংবাদিক মোঃ আবুল হাসেম দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। তিনি নিজেকে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দেন। আরও জানা যায়, তার কোনো শিক্ষা সনদ নেই, অথচ তিনি নিজেকে প্রকাশক ও সম্পাদক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।

শুধু তাই নয়, প্রতারক চক্রের মূল হোতা, ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মোঃ আবুল হাসেম নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদ হিসেবেও পরিচয় দেন। তিনি কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো বিএনপি, আবার কখনো স্মার্ট দল, কখনো মহাজোটের চেয়ারম্যান পরিচয় দেন। এছাড়াও তিনি দাবি করেন, তার মামা-খালু রয়েছে উচ্চপর্যায়ে। এক কথায়, তার ভুয়া পরিচয়ের কোনো অভাব নেই (অন্যের মুখের ফেস ব্যবহার করাই তার মূল প্রতারণা)। এসব মিথ্যা পরিচয়ে তিনি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমার কথায় প্রধানমন্ত্রী ভয় পায়, আমি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিউজ করি।”

তিনি মিথ্যা আশ্বাসের প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়াও মানুষের পাওনা টাকা আদায়, জমি দখল ও আইনি সহায়তার নামে কাজ করে দেওয়ার কথা বলে মোটা অংকের অর্থ নিচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি চাকরি বাণিজ্য ও বিভিন্ন তদবির বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এসবের সত্যতা তার অফিস তল্লাশি করলে পাওয়া যাবে বলে দাবি করা হয়েছে, যেখানে তদবিরের কাগজপত্র এবং এর বিনিময়ে নেওয়া অর্থের প্রমাণ মিলতে পারে।

বিশেষ সূত্রে জানা যায়, চায়ের দোকানদার, রিকশাচালক, বাইকারসহ নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষদের লক্ষ্য করে বলা হচ্ছে—মাত্র ৫০০ টাকা দিলেই সাংবাদিক পরিচয়পত্র পাওয়া যাবে, এবং এই পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখলে প্রশাসন কোনো বাধা দেবে না। এমন প্রলোভনে অনেকে অর্থ প্রদান করে আইডি কার্ড সংগ্রহ করেছেন বলেও জানা গেছে।

কিন্তু বাস্তবে এসব পরিচয়পত্রের কোনো সরকারি স্বীকৃতি বা আইনগত ভিত্তি নেই। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো নিবন্ধন নেই বলে জানা গেছে। ফলে এসব আইডি কার্ড সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সাংবাদিকতা কোনো ব্যবসার পণ্য নয়। এটি একটি দায়িত্বশীল পেশা। একজন সৎ সাংবাদিক সমাজের দর্পণ, যেখানে যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ এবং আইনগত স্বীকৃতি থাকা আবশ্যক। অথচ এ ধরনের ভুয়া কার্যক্রমের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

অন্যদিকে, এভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে প্রতারণার মাধ্যমে একটি চক্র গড়ে তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সচেতন নাগরিক ও স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সাংবাদিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে প্রতারণার এই চক্র বন্ধ করা না গেলে সমাজে বিভ্রান্তি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com