দেশের পাটখাতকে আরো শক্তিশালী, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করে গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী নীতি সহায়তা প্রদান করছে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।
তিনি বলেন, পাটকলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন এবং বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
আজ সংসদে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
মন্ত্রী পাটখাতের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা এবং সরকারের চলমান উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, পাট ও পাটজাত পণ্য অতীতের জৌলুস হারিয়েছে— এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বরং বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি গুরুত্ব বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক ও বায়োডিগ্রেডেবল তন্তু হিসেবে পাটের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিশ্বের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই সুযোগ কাজে লাগাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। দেশের পাটকলগুলো তাদের বিদ্যমান সক্ষমতা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পূরণে সচেষ্ট রয়েছে।
অভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট পণ্যের মোড়কীকরণে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশীয় বাজারে পাটের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পাটখাতের উন্নয়নে সরকার সংশ্লিষ্ট শিল্পমালিকদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ ও পরামর্শ সভা আয়োজন করা হচ্ছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ করা হচ্ছে।
এছাড়া, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাজার ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাটখাতকে আধুনিকায়ন ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘পাট আইন, ২০১৭’ এবং ‘জাতীয় পাটনীতি, ২০১৮’ হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ, উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে পাটখাতের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পাটশিল্পকে আরো শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাটশিল্প আবারো দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পখাত হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরো বৃদ্ধি পাবে।