রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
১৪ বছর পর নারী কাবাডিতে ব্রোঞ্জ জয় তিন দিনের জামাই মেলা থেকে ২ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা নওগাঁর বদলগাছীতে শ্মশান থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত স্মৃতিবিজড়িত স্থানে দর্শনার্থী হয়রানি, মারধরে হাতভেঙ্গে যায় তালার যুবকের! তালায় অপ্রতিরোধ্য মাটিখেকো গ্রপের প্রধান ইটভাটা মালিক মনু \ প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক রাবিপ্রবি’তে বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস পালিত বালু নদের কেওঢালা সেতু নির্মাণ কাজের উদ্বোধন সন্তানকে বুকে ধারনে মায়ের দৃঢ় অবস্থান। গুলির ঘটনা ইরান যুদ্ধ থেকে আমাকে বিরত রাখতে পারবে না: ট্রাম্প উচ্চশিক্ষাকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

তিন দিনের জামাই মেলা থেকে ২ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত

জেলার ১৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা থেকে তিন দিনে প্রায় দুই কোটি টাকার বাণিজ্য হবে বলে আশা করছেন মেলার আয়োজক ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, এই মেলাটি ‘জামাই মেলা’ হিসেবে পরিচিত হলেও মেলাকে কেন্দ্র করে সারা গ্রামে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। গ্রামবাসী তাদের শখের জিনিসের সাথে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও এই মেলা থেকে কিনে থাকেন।

জেলার সদর উপজেলার রসুলপুরে বাছিরন নেছা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রায় দেড়শো বছরের ঐতিহ্যবাহী তিন দিনব্যাপী জামাই মেলা গতকাল শুরু হয়েছে। এই মেলা আগামীকাল সোমবার শেষ হবে। রসুলপুরের এই জামাই মেলাটি বাংলাদেশের মধ্যে একটি ব্যতিক্রমধর্মী মেলা। মেলার তিন দিনে দুই কোটি টাকার বেশি বাণিজ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরেজমিন মেলায় গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন দোকানিরা। মেলায় বিভিন্ন ধরনের খেলনা, প্রসাধনী, কাঠের ফার্নিচার, খাবারের দোকান, মিষ্টির দোকানসহ ছোট-বড় দোকান বসেছে। বৈশাখের ভ্যাপসা গরমেও জামাই-বউ ছাড়াও মেলায় হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে। কেউ ঘুরছেন। আবার কেউ বিভিন্ন পণ্য কিনছেন। মেলায় আসতে পেরে খুশি দর্শনার্থীরা।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় দেড়শ বছর ধরে সনাতন পঞ্জিকা অনুসারে প্রতিবছর ১১, ১২ ও ১৩ বৈশাখ রসুলপুরে এই মেলা বসে। এই মেলাকে কেন্দ্র করে আশেপাশের অন্তত ৩০ গ্রামের জামাইরা শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসেন। তারাই মেলার মূল আকর্ষণ।

খাবারের দোকান, মিষ্টির দোকানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খেলনা এবং প্রসাধনীর দোকানও বসেছে মেলায়। প্রায় ৫ শতাধিক ব্যবসায়ী এসেছেন তাদের পণ্য নিয়ে। বড়দের পাশাপাশি ছোট ছেলেমেয়েরাও এই মেলায় এসেছে। মেলায় আসতে পেরে খুশি দর্শনার্থীরা।

মেলাকে কেন্দ্র করে আশেপাশের অন্তত ৩০ গ্রামের বিবাহিত মেয়েরা তাদের স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন। জামাইকে বরণ করে নেওয়ার জন্য শ্বশুর-শাশুড়িরাও বেশ আগে থেকেই নেন নানা প্রস্তুতি। ঐতিহ্য অনুযায়ী মেলার সময় শাশুড়িরা মেয়ের জামাইয়ের হাতে কিছু টাকা দেন। সেই টাকার সাথে জামাইরা তাদের টাকা দিয়ে মেলা থেকে শ্বশুরবাড়ির সবার জন্য বাজার করেন। একারণেই মেলাটি ‘জামাই মেলা’ হিসেবে পরিচিত।

মেলাটি জামাই ও বউসহ সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর জন্য এক আনন্দ-উৎসবে রূপ নেয়। এতে এই গ্রাম জুড়েও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতিবছর আমরা এই মেলার জন্য অপেক্ষা করি। এই মেলায় আমাদের উৎপাদিত পণ্য অন্যান্য মেলার তুলনায় বেশি বিক্রি হয়। এবছরও ভালো ব্যবসা হবে বলে আশা করছি।

মেলায় জিলাপি বিক্রেতা নুরু মিয়া জানান, দীর্ঘ ষোলো বছর যাবৎ জামাই মেলায় আমি জিলাপি তৈরি করে বিক্রি করছি। টাঙ্গাইলের অন্যান্য মেলার চেয়ে এ মেলায় ক্রেতা বেশি থাকায় বিক্রি আল্লাহর রহমতে ভালো হচ্ছে।

দর্শনার্থী জুয়েল রানা বলেন, মেলাটি জামাই মেলা নামে পরিচিত। মেলাটিকে কেন্দ্র করে এই এলাকার জামাইরা একত্রিত হয়। এমন মেলায় আসতে পেয়ে খুবই আনন্দিত।

জামাই মেলায় বেড়াতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী বীথি আক্তার বাসসকে বলেন, প্রায় দেড়শ বছর ধরে এই মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এলাকার মানুষের কাছে ঈদ বা পূজা-পার্বণের মতোই এই মেলা একটি উৎসব। মেলাটি বৈশাখী মেলা হিসেবে শুরু হলেও এখন এটি জামাই মেলা হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে।

স্থানীয় রসুলপুর গ্রামের রফিক মিয়া বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখনও দাদার কাছে এই মেলার কথা শুনেছি। এটি টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও বড় মেলা।

কালিহাতি থেকে আসা জামাই রুহুল আমীন বাসসকে বলেন, প্রতিবছরই আমরা শ্বশুরবাড়ি থেকে মেলায় আসার দাওয়াত পাই। এই মেলা আমাদের জামাইদের কাছে খুব আকর্ষণীয়। মেলাকে কেন্দ্র করে অনেক আত্মীয়র সঙ্গে দেখা হয়, তাদের সঙ্গে ভাব বিনিময় হয়। সব মিলিয়ে আমরা মেলার এই তিন দিন আনন্দে মেতে উঠি।

টাঙ্গাইল সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন বাসসকে বলেন, মেলায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় ভলানটিয়ারসহ পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

মেলা কমিটির আহ্বায়ক ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বাসসকে বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে মেলা শুরু হয়েছে।

মেলা সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন দোকানিরা। তারা খাবারের দোকান, মিষ্টিজাতীয় পণ্যের দোকানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খেলনা, প্রসাধনীর দোকানও দিয়েছেন। এ ছাড়াও মেলায় ফার্নিচারের দোকান বসেছে। তিন দিনে মেলায় দুই কোটি টাকার উপরে বাণিজ্য হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com