কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের মাহিগঞ্জ এলাকায় স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে রুবেল মিয়া (২৭) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত রুবেল মিয়া ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলের ছেলে।
গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রুবেল মিয়ার সঙ্গে তার স্ত্রী জেসমিন বেগমের দাম্পত্য কলহ চলছিল। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রুবেল মিয়া স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়িতে যান।
অভিযোগ উঠেছে, সেখানে যাওয়ার পর স্ত্রী জেসমিন বেগম, তার বড় ভাই মিজানুর রহমানসহ আরও কয়েকজন মিলে রুবেল মিয়ার হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারপিট করেন। ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ভূরুঙ্গামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্ত্রী জেসমিন বেগম, তার বড় ভাই মিজানুর রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) নিহতের পরিবার ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলা নম্বর-২৫।
নিহতের বাবা আব্দুল জলিল বলেন, “আমার ছেলেকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযুক্ত স্ত্রী জেসমিন বেগমের পরিবারের সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে রুবেলের মৃত্যুর খবরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।