বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে ছাড়াাই দেশে ফেরা আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলকে সোমবার তীব্র শীত ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজারো সমর্থক উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।
চার বছর আগে ২০২২ বিশ্বকাপে দলের শিরোপা জয়ের পর কোটি মানুষের উদযাপনের মতো প্রত্যাবর্তন না হলেও, এবারও শহরের রাস্তাজুড়ে ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাসের দৃশ্য। খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানাতে সমর্থকেরা নাচে-গানে-আতসবাজির ঝলকানিতে উদযাপনের কমতি রাখেননি।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিযয়েশন (এএফএ) আগেই জানিয়েছিল, দলের কয়েকজন সদস্য একই ফ্লাইটে ফিরবেন না। স্থানীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত ছবিতে কিংবদন্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও বিমান থেকে নামতে দেখা যায়নি।
কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং দলের বাকি সদস্যদের বিমান থেকে নামার পর লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিল একটি সামরিক ব্যান্ড।
এরপর তারা বাসে ওঠেন এবং পথজুডড়ে উন্মাতাল সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন।
টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও আর্জেন্টাইনদেও মন ঠিকই জয় করেছে প্রিয় তারকারা। গৃহিণী মার্গা লেদেসমা বলেন, “আর্জেন্টাইনরা তবুও উদযাপন করবে।” ৩৬ বছর বয়সী এই সমর্থক মেসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এত বছর ধরে তিনি আমাদের যে আনন্দ দিয়েছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।” তিনি মেসিকে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা না ছাড়ার আহ্বান জানালেও স্বীকার করেন, ৩৯ বছর বয়সে সেটি কঠিন হতে পারে।
ফাইনালে আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়। ম্যাচটিতে বেশ কিছু ফাউল এবং আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের কারণে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে লেদেসমা বলেন, “আমার মনে হয় তারা আমাদের সমালোচনা করে, কারণ আমরা জানি কষ্ট কী জিনিস। আমরা উঠে দাঁড়াই, আবার পগে যাই, তারপরও এগিযয়ে চলি।”
অনেক সমর্থকের মতে, আর্জেন্টিনার সত্যিকারের বিজয় ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলে সেমিফাইনাল জয়। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে ম্যাচটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছিল।
অনেকের হাতে ছিল “ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার” লেখা পতাকা। ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা একই স্লোগানসংবলিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করলে লন্ডনে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ফিফা তদন্ত করছে।
টেক্সটাইল কারখানার কর্মী ৩৬ বছর বয়সী লিওনার্দো বারিয়েন্তোস বলেন, “এই দল আমাদের সবাইকে এক করেছে। এজন্য তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। রোদ-বৃষ্টি যাই হোক, আমরা সবসময় তাদের পাশে থাকব। আমি মেসিকে শুধু বলতে চাই, ধন্যবাদ। তিনি তার সর্বস্ব দিয়ে লড়েছেন।”
২৮ বছর বয়সী মারিয়া অর্টিজ তার দুই বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে দলকে স্বাগত জানাতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, “স্পেন জয়ের যোগ্য ছিল, তবে আমাদের দল পুরো দেশকে যা উপহার দিয়েছে, তাতেই আমি খুশি।”
মেসি সোমবার ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “এই কষ্টটা অনেক গভীর, আর এই ক্ষত সারতে অনেক সময় লাগবে।”
নিজের একটি ছবির সঙ্গে তিনি আরও লেখেন, “তবে আমি সব ভালো স্মৃতিও মনে রাখব। আজ আমরা কী অর্জন করেছি, তা উপলব্ধি করা কঠিন। কিন্তু এই দল টানা দুইটি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে।”
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ঘোষণা দিয়েছেন, দলের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতে একটি দিনকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হবে, যাতে বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্স উদযাপন করা যায়। তবে এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ফাইনালে হারের হতাশা থাকলেও, রোববার রাতে হাজারো আর্জেন্টাইন রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সের ঐতিহ্যবাহী ওবেলিস্ক চত্বরে জড়ো হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উদযাপন করেছেন।
তবে গভীর রাতে সেখানে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। পুলিশ সূত্র জানায়, এ ঘটনায় ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 
























