সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: কর্মব্যস্ত জীবনে দিনভর কাজ শেষে সন্ধ্যায় বা রাতে বাসায় ফিরে সবাই বিশ্রাম নেয়া শুরু করেন। কেউ কেউ বিশ্রাম নেয়ার সময় খাবার খাওয়ার কথা ভুলেই যান। তবে খাবার খাওয়া হোক আর না হোক, বিশ্রাম নেয়া শুরু করতে গিয়েও ঘুমিয়ে যান কেউ। আবার কেউ না খেয়েই সরাসরি বিছানায় শুয়ে পড়েন। সেই শুয়ে পড়াতেই রাত কাটিয়ে পরদিন সুন্দর একটি সকাল আশা করেন। খবর হিন্দুস্থান টাইমস বাংলা
স্বাভাবিকভাবেই রাতে একটি সুন্দর ও গভীর ঘুম সারা দিনের ক্লান্তি দূর করে শরীরকে চাঙা রাখতে সহায়তা করে।
কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়, অনেকেরই মধ্যরাতে বা ভোরবেলায় হঠাৎ গলা শুকিয়ে যায়। তীব্র তৃষ্ণা পেলে গলায় তখন অস্বস্তি বোধ হতে পারে। এমনকি ঘুম আর না-ও আসতে পারে। কিন্তু এ ধরনের সমস্যা কেন হয়?
ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাঝে মধ্যে অতিরিক্ত গরম বা এসি চলার জন্য বা দিনে কম পরিমাণ পানি পানের জন্য গলা শুকিয়ে পড়া স্বাভাবিক।
তবে এটি প্রতিদিন হতে থাকলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কারণ, ঘুমের মধ্যে তৃষ্ণা পাওয়া সাধারণ তৃষ্ণা নয়। শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো স্বাস্থ্যজনিত জটিলতা বা অন্তর্নিহিত রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মুখের ভেতর পর্যাপ্ত লালা তৈরি না হওয়া বা লালাগ্রন্থি শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যাকে বলা হয় ‘জেরোস্টোমিয়া’ বা ড্রাই মাউথ। লালা শুধু মুখ সক্রিয় রাখে না, বরং এটি মুখের ভেতর থেকে ক্ষতিকর সব ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে ভূমিকা রাখে এবং খাবার হজমে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
তাহলে রাতে গলা শুকিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে জেনে নেওয়া যাক-
মুখে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস ও নাক ডাকা
এমন অনেকেই আছেন, যারা স্বাভাবিকভাবে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার পরিবর্তে মুখ দিয়ে শ্বাস নিয়ে থাকেন। যা কারো কারো অভ্যাস। তবে নাকের হাড় বাঁকা, সাইনাসের সমস্যা বা অ্যালার্জিজনিত কারণে নাক বন্ধ হলে অজান্তেই মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়া হয়। আর ঘুমের সময় মুখ খোলা থাকলে মুখের আর্দ্রতা উড়ে যায় এবং গলা শুকিয়ে যায়।
স্লিপ অ্যাপনিয়া
খুবই বিবেচনামূলক একটি ঘুমের সমস্যা এই স্লিপ অ্যাপনিয়া। ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ থাকলে ঘুমের সময়ও শ্বাসনালি আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে রোগী হঠাৎ করে বিকট শব্দে বা তীব্র স্বরে নাক ডেকে ওঠেন বা হাঁসফাঁস শুরু হয় এবং পরে ঘুম থেকেও উঠে যায়। যাদের এ ধরনের সমস্যা রয়েছে তারা রাতে বারবার মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। ফলে তাদের গলা শুকিয়ে যায়।
অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
রক্তে শর্করার মাত্রা বা সুগার লেভেল অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলে কিডনি অতিরিক্ত চিনি প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে নিঃসরণ করার চেষ্টা করে। এ কারণে বারবার প্রস্রাব হয় এবং শরীর অল্প সময়ের মধ্যে ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য হয়। রাতে ডায়াবেটিস রোগীদের বারবার পানি তৃষ্ণা পাওয়া এবং গলা শুকিয়ে যাওয়া অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ।
পানিশূন্যতা
সারাদিন যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা না হয়, তাহলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তীব্র গরম, আর্দ্রতা বা ঘেমে যাওয়ার কারণে শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে রাতে লালাগ্রন্থিগুলো পর্যাপ্ত লালা তৈরি করতে পারে না। এ কারণেও রাতে গলা শুকিয়ে থাকে।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
উচ্চ রক্তচাপ, ডিপ্রেশন, উদ্বেগ, অ্যালার্জি কিংবা প্রেসারের জন্য যদি প্রতিদিন নিয়ম করে ওষুধ সেবন করা হয়, তাহলে এসব ওষুধের প্রভাব বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও রাতে মুখ ও গলা শুকাতে পারে।
এসিড রিফ্লাক্স
রাতে অতিরিক্ত তেল ও মশলাযুক্ত খাবার খেয়ে শুয়ে পড়া হলে পাকস্থলীর এসিড উল্টো দিকে প্রবাহিত হয়ে খাদ্যনালীয় বা গলায় এসে থাকে। এতে গলার টিস্যুতে প্রদাহ ও জ্বালাপোড়া শুরু হয়, যা রাতে গলা শুকিয়ে যাওয়া বা গলায় অস্বস্তি তৈরির কারণ।
প্রতিকারের উপায়
পর্যাপ্ত পানি পান : সারা দিনে অন্তত আড়াই থেকে ৩ লিটার পরিমাণ পানি পান করতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগ মুহূর্তে একসঙ্গে বেশি পানি পান না করে, অল্প অল্প করে পানি পান করতে হবে।
হিউমিডিফায়ার ব্যবহার : বাসা-বাড়িতে যদি এসি চলে বা অতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়া থাকে, তাহলে একটি হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন। এটি ব্যবহারে বাতাসে আর্দ্রতা বজায় থাকবে।
সোজা হয়ে ঘুমানো : চিত বা কাৎ হয়ে ঘুমের অভ্যাস থাকলে তা পরিবর্তন করুন। এতে নাক ডাকা ও মুখে শ্বাস নেয়ার সমস্যা কমে।
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন : রাতে চা-কফি বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন, অ্যালকোহল ও লবণাক্ত বা ঝাল জাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেই অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। এসব খাবারও গলা শুকানোর কারণ হতে পারে।
কখন ডাক্তার দেখাতে হবে
গলা শুকানোর সঙ্গে যদি ক্রমশ নাক ডাকা, সকালে ওঠে মাথা ব্যথা, সবসময় ক্লান্তিভাব বা তীব্র পেটের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে সময় নষ্ট না করে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 



















