ঢাকা ০৯:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুস্থ মানুষের কেন হার্ট অ্যাটাক হয়, আপনি কি ঝুঁকিতে, গোপন লক্ষণ জানালেন চিকিৎসক আইসিসির মাসসেরার দৌড়ে তামিম এসএসসির ফলে রাজশাহী বোর্ডে শীর্ষে বগুড়া জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক, কারামুক্তিতে আর নেই আইনি বাধা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা থেকে জামায়াতের নেতা,আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে ৩৭ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে ‘দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন’ দেখাচ্ছে: ইরান লক্ষ্মীপুরে ৭ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান লক্ষ্মীপুরে ৭ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান বিদেশে শিক্ষার ফি পরিশোধে আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহারের অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন চালু

ভাঙ্গুড়ার মাগুড়া মাদ্রাসায় ১৯ জনই অকৃতকার্য

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধিঃ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় এবারের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে মাগুড়া দাখিল মাদ্রাসায়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৯ জন শিক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেনি। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, পাঠদান ও সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় মাগুড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে মোট ১৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

অন্যদিকে একই উপজেলার লতিফা-আয়শা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাত্র একজন উত্তীর্ণ হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের পাসের হারও বেশ হতাশাজনক।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মাগুড়া দাখিল মাদ্রাসাটি ২০০১ সালে এমপিওভুক্ত হয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, শিক্ষকরা পাঠদানে আগ্রহী না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমছে। ফলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থী সংকট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে পরীক্ষার ফলাফলও ক্রমেই নিম্নমুখী হচ্ছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। মাদ্রাসার সুপার মো. জাকির হোসেন বলেন, “ভাই, রেজাল্ট খারাপ। আমরা ভালো নাই। গ্রাম এলাকার প্রতিষ্ঠান, ছেলে-মেয়েরা পড়তে যায় না।”

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীদের শূন্য পাসের ফলাফল শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের পাঠদান, ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়েও নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছবি ক্যাপশন: মাগুড়া দাখিল মাদ্রাসা।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সুস্থ মানুষের কেন হার্ট অ্যাটাক হয়, আপনি কি ঝুঁকিতে, গোপন লক্ষণ জানালেন চিকিৎসক

ভাঙ্গুড়ার মাগুড়া মাদ্রাসায় ১৯ জনই অকৃতকার্য

আপডেট টাইম : ০৭:২৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধিঃ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় এবারের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে মাগুড়া দাখিল মাদ্রাসায়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৯ জন শিক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেনি। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, পাঠদান ও সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় মাগুড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে মোট ১৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

অন্যদিকে একই উপজেলার লতিফা-আয়শা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাত্র একজন উত্তীর্ণ হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের পাসের হারও বেশ হতাশাজনক।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মাগুড়া দাখিল মাদ্রাসাটি ২০০১ সালে এমপিওভুক্ত হয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, শিক্ষকরা পাঠদানে আগ্রহী না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমছে। ফলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থী সংকট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে পরীক্ষার ফলাফলও ক্রমেই নিম্নমুখী হচ্ছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। মাদ্রাসার সুপার মো. জাকির হোসেন বলেন, “ভাই, রেজাল্ট খারাপ। আমরা ভালো নাই। গ্রাম এলাকার প্রতিষ্ঠান, ছেলে-মেয়েরা পড়তে যায় না।”

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীদের শূন্য পাসের ফলাফল শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের পাঠদান, ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়েও নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছবি ক্যাপশন: মাগুড়া দাখিল মাদ্রাসা।


প্রিন্ট