নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই আন্দোলনের এক হত্যাচেষ্টা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এই আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আসামিকে গুলশান থানার মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের করা মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জুলাইয়ের হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে শুনানি নিয়ে আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
এর আগে, মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক মো. সুমন মিয়া এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি দিলীপ কুমার আগার ওয়ালা (৫৭) কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ পদপ্রার্থী। আসামি অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে মামলার ঘটনাস্থলে স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার, তাদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ ও ঘটনার সময় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামির ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।
এদিন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। পরে আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। পরদিন তাকে আদালতে তোলা হয়। এরপর তাকে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই দিন তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর বিভিন্ন হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় নিম্ন ও উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। তার কারামুক্তির এক বছর পর গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় বনানী থেকে মানিলন্ডারিংয়ের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল ২০ অক্টোবর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেষ দিন ৫ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আ. জব্বার। ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরবর্তীতে কিছুটা সুস্থতা অনুভব করায় ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ আ. জব্বার বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখসহ ১০০/১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। এ মামলায় আগরওয়ালা ৩১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 


















