বিশেষ প্রতিনিধি:
বগুড়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে এক কলেজছাত্রীকে রিকশা থেকে নামিয়ে জোরপূর্ক তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একদল সন্ত্রাসী কিশোর গাং পরিচালনাকারী যুবক রেজাওয়ানুল হাসান রাতুলের বিরুদ্ধে। অপহরণের চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় ওই কলেজছাত্রীকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি রেজওয়ানুল হাসান রাতুল (২০)সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ অক্টোবর দুপুর দেড়টার দিকে বগুড়া শহরের কালীমন্দির এলাকায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই কলেজছাত্রী কোচিংয়ে যাওয়ার সময় রিকশাযোগে কালীমন্দির এলাকা অতিক্রম করছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবক তার রিকশার গতিরোধ করে। পরে তাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগী চিৎকার করে সাহায্যের জন্য আকুতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে রিকশা থেকে নামিয়ে রাস্তায় ফেলে মারধর করে। এ সময় তিনি তাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে প্রধান আসামি রেজওয়ানুল হাসান রাতুল ধারালো ছুরি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে কলেজছাত্রীর মাথা গুরুতরভাবে জখম হয় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে যান।
পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় রেজওয়ানুল হাসান রাতুলসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২ থেকে ৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অভিযান চালিয়ে রেজওয়ানুল হাসান রাতুলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে।
প্রকাশ্য দিবালোকে জনবহুল এলাকায় একজন কলেজছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা এবং বাধা দেওয়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 





















