স্টাফ রিপোর্টারঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় এক বাড়িওয়ালীর কাছ থেকে দীর্ঘদিন ভাড়া বকেয়া রেখে এবং ঋণের টাকা পরিশোধ না করেই তিন ভাড়াটিয়া পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় পাওনা টাকা চাওয়ায় ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের
হুমকি দেয় এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি । অভিযোগকারী মোছাঃ লাকী বেগম),থানা.কালিয়াকৈর, জেলা—গাজীপুর। তিনি পেশায় একজন মুদি দোকানদার এবং দীর্ঘদিন ধরে নিজ এলাকায় বসবাস করে আসছেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় দেড় বছর আগে আকাশ মিয়া (২৬), তার স্ত্রী মোছাঃ কুলসুম বেগম (২৪) এবং ভাই মোঃ লিমন (২৪) তার বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন তাদের গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার ধুনট থানার পারলাটাবাড়ী এলাকায়। শুরুতে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন অজুহাতে ভাড়া পরিশোধ করা থেকে বিরত থাকেন।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা বাড়িওয়ালী লাকী বেগমকে জিম্মাদার হিসেবে দেখিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রায় ৬০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। কিন্তু সেই ঋণের টাকাও পরিশোধ না করে তারা সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। ভাড়া ও ঋণের টাকা চাইলে বিভিন্ন সময় তারা নানা ধরনের তালবাহানা করতে থাকে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্তরা হঠাৎ করে বাসা ছেড়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যান। পরবর্তীতে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা ফোনে বাড়িওয়ালীকে বিভিন্ন ভয় ভীতি প্রদর্শন করেন এবং মারধরের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী প্রথমে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন এবং অভিযুক্তদের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো সমাধান না পাওয়ায় তিনি পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী লাকী বেগমের দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার পাওনা ভাড়া ও ঋণের টাকা আদায় এবং তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা এলাকায় নতুন নয় ভাড়াটিয়া নিয়ে বাড়িওয়ালীদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই এ বিষয়ে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস আই মোঃ হারুন মিয়া জানিয়েছেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।