নিষেধাজ্ঞার ২ মাস পর লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন ৫২হাজার জেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে শুরু হয় মাছ শিকার। তবে শুক্রবার সকাল থেকে ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁক-ডাকে জমজমাট হয়ে উঠেছে মাছ ঘাটগুলোতে। তবে কাঙ্গিত মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা বলে বলে জানান জেলেরা। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৭/১৮শ’ টাকায়। এছাড়া প্রকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১৫শ’ টাকা পর্যন্ত। মজু চৌধুরী হাট ঘাট,মতিরহাট, লুধুয়া, চেয়ারম্যান ঘাট ও চর আলেকজান্ডারসহ কয়েকটি ঘাট থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জেলেরা জানান, দীর্ঘদিন পর মাছ শিকারে নামছেন। রাত-দিন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। তবে তুলনামূলক জালে ইলিশ ধরা পড়ছে কম। যেভাবে পাওয়ার কথা, কিন্তু সেভাবে পাওয়া যাচ্ছেনা। দীর্ঘদিন পর নদীতে মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছি। আশা করি সামনে মাছ পাবো। পাশাপাশি এবারের অভিযান সফল হওয়ায় ইলিশের উৎপাদন বাড়বে।
মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, এই জেলায় ৫২ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এসব জেলে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল ২ মাস লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১শ’ কিলোমিটার পর্যন্ত নদীতে সকল ধরনের জাল ফেলা ও মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এই সময় সব রকমের ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরন ও মজুতকরন নিষিদ্ধ ছিল। ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবার পর নদীতে নামছে জেলেরা।
এবারের অভিযান সফল দাবী করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসাইন বাসস’কে বলছেন, ২ মাস পর পুরোদমে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। এখন ইলিশ কিছুটা কম পেলেও সামনে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাবে। জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে নামছে। বৃষ্টি হচ্ছে, নদীতে পানি বাড়ছে। মাছও বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।