ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুলনাকে সবুজ শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে : কেডিএ চেয়ারম্যান নাগরিক সেবা ও উন্নয়নে উত্তরায় ডিএনসিসির মতবিনিময় সভা চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’সহ গ্রে/ফতার ৫ আর্থিক কেলেঙ্কারি ও স্বাক্ষর জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে জবিরিইউ সভাপতি জাহাঙ্গীর বহিষ্কার তাহিরপুর শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের তেলীগাঁও গ্ৰামের খুলনা বিভাগের সভাপতি হিসেবে ধনঞ্জয় রায়কে খুলনা আর্ট একাডেমির পক্ষ থেকে অভিনন্দন সুনামগঞ্জে আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন ওসি রতন শেখ পিপিএম দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে ঢাকা ও কাঠমান্ডু আলোচনা অনুষ্ঠিত গাইবান্ধায় ৮৮ বস্তা মিশরী মসলাসহ দুইজন গ্রে/ফতার সুনামগঞ্জে মাদ্রাসা’র উন্নয়নে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দের ঘোষণা

প্রাইভেট স্কুলে অভিভাবকদের প্রতি অবহেলার অভিযোগ: সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি

এম.এ আরিফ চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার:

দেশের বিভিন্ন বেসরকারি (প্রাইভেট) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রতি অবহেলামূলক আচরণের অভিযোগ ক্রমেই আলোচনায় আসছে। মাসিক বেতন, সেশন ফি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বহন করেও অনেক অভিভাবক দাবি করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁদের ন্যূনতম সম্মান ও গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানে বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকলেও অভিভাবকদের সেখানে বসতে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সন্তানদের ভালো শিক্ষার আশায় তাঁরা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান। নিয়মিত মাসিক বেতনের পাশাপাশি শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সেশন ফি, ভর্তি নবায়ন ফি এবং বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানে গেলে তাঁদের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে এমন আচরণ করা হয়, যা তাঁদের কাছে অপমানজনক বলে মনে হয়।

অভিভাবকদের ভাষ্য, অনেক সময় সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। অথচ বিদ্যালয়ে খালি চেয়ার বা বসার স্থান থাকলেও সেখানে বসতে নিরুৎসাহিত করা হয় বা সরাসরি বসতে দেওয়া হয় না। এতে তাঁরা মানসিকভাবে বিব্রত ও ক্ষুব্ধ হন।

বিশেষ করে প্লে, নার্সারি ও কেজি শ্রেণির শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বয়সী অনেক শিশু প্রথম দিকে একা স্কুলে যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। তাই মা-বাবা বা অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। অনেক শিশু অভিভাবকের উপস্থিতি থেকে মানসিক সাহস পায় এবং ধীরে ধীরে বিদ্যালয়ের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখে।

অভিভাবকদের প্রশ্ন, যাঁদের অর্থে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়, তাঁদের যদি ন্যূনতম সম্মান ও বসার সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের প্রতি কতটা আন্তরিকতা ও যত্ন প্রদর্শন করা হচ্ছে—সে বিষয়েও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।

একজন অভিভাবক বলেন, “আমরা সন্তানদের ভালো ভবিষ্যতের জন্য কষ্ট করে অর্থ ব্যয় করি। কিন্তু যদি স্কুলে গিয়ে আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, সম্মানের সঙ্গে বসার সুযোগও না পাই, তাহলে এমন প্রতিষ্ঠানে সন্তানকে পড়ানো নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।”

এ ঘটনায় বিভিন্ন এলাকায় অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদান নয়, মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্মানবোধেরও চর্চার স্থান হওয়া উচিত। তাই অভিভাবকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ এবং তাঁদের জন্য ন্যূনতম বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়িত্ব।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষা একটি সেবামূলক কার্যক্রম। এখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবক—এই তিন পক্ষের সমন্বিত সম্পর্কই একটি সুস্থ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলে। অভিভাবকদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদান শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়, এটি একটি ইতিবাচক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিশুদের মানসিক বিকাশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সঙ্গে আন্তরিক ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখা প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হওয়া উচিত।

অভিভাবকদের প্রত্যাশা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং এমন পরিবেশ গড়ে তুলবে, যেখানে শিক্ষার্থীর পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবকরাও সম্মান, সৌজন্য ও মানবিক আচরণ পাবেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনাকে সবুজ শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে : কেডিএ চেয়ারম্যান

প্রাইভেট স্কুলে অভিভাবকদের প্রতি অবহেলার অভিযোগ: সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি

আপডেট টাইম : ০৪:৫৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

এম.এ আরিফ চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার:

দেশের বিভিন্ন বেসরকারি (প্রাইভেট) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রতি অবহেলামূলক আচরণের অভিযোগ ক্রমেই আলোচনায় আসছে। মাসিক বেতন, সেশন ফি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বহন করেও অনেক অভিভাবক দাবি করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁদের ন্যূনতম সম্মান ও গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানে বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকলেও অভিভাবকদের সেখানে বসতে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সন্তানদের ভালো শিক্ষার আশায় তাঁরা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান। নিয়মিত মাসিক বেতনের পাশাপাশি শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সেশন ফি, ভর্তি নবায়ন ফি এবং বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানে গেলে তাঁদের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে এমন আচরণ করা হয়, যা তাঁদের কাছে অপমানজনক বলে মনে হয়।

অভিভাবকদের ভাষ্য, অনেক সময় সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। অথচ বিদ্যালয়ে খালি চেয়ার বা বসার স্থান থাকলেও সেখানে বসতে নিরুৎসাহিত করা হয় বা সরাসরি বসতে দেওয়া হয় না। এতে তাঁরা মানসিকভাবে বিব্রত ও ক্ষুব্ধ হন।

বিশেষ করে প্লে, নার্সারি ও কেজি শ্রেণির শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বয়সী অনেক শিশু প্রথম দিকে একা স্কুলে যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। তাই মা-বাবা বা অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। অনেক শিশু অভিভাবকের উপস্থিতি থেকে মানসিক সাহস পায় এবং ধীরে ধীরে বিদ্যালয়ের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখে।

অভিভাবকদের প্রশ্ন, যাঁদের অর্থে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়, তাঁদের যদি ন্যূনতম সম্মান ও বসার সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের প্রতি কতটা আন্তরিকতা ও যত্ন প্রদর্শন করা হচ্ছে—সে বিষয়েও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।

একজন অভিভাবক বলেন, “আমরা সন্তানদের ভালো ভবিষ্যতের জন্য কষ্ট করে অর্থ ব্যয় করি। কিন্তু যদি স্কুলে গিয়ে আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, সম্মানের সঙ্গে বসার সুযোগও না পাই, তাহলে এমন প্রতিষ্ঠানে সন্তানকে পড়ানো নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।”

এ ঘটনায় বিভিন্ন এলাকায় অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদান নয়, মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্মানবোধেরও চর্চার স্থান হওয়া উচিত। তাই অভিভাবকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ এবং তাঁদের জন্য ন্যূনতম বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়িত্ব।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষা একটি সেবামূলক কার্যক্রম। এখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবক—এই তিন পক্ষের সমন্বিত সম্পর্কই একটি সুস্থ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলে। অভিভাবকদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদান শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়, এটি একটি ইতিবাচক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিশুদের মানসিক বিকাশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সঙ্গে আন্তরিক ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখা প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হওয়া উচিত।

অভিভাবকদের প্রত্যাশা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং এমন পরিবেশ গড়ে তুলবে, যেখানে শিক্ষার্থীর পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবকরাও সম্মান, সৌজন্য ও মানবিক আচরণ পাবেন।


প্রিন্ট