রিমন হোসেন, সৌদি আরবঃ
উন্নত জীবনের স্বপ্ন আর পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার আশায় সৌদি আরবে গত ৮ই জুন গিয়েছিলেন তানিয়া আক্তার নামের এক বাংলাদেশি নারী। কিন্তু প্রবাসের মাটি তাঁর জন্য আশীর্বাদের বদলে এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে। তানিয়াকে মিথ্যা আশ্বাস দানকারী অভিযুক্ত সোহেল মাতাব্বরের ঠিকানা ফরিদপুর ভাংগা কুটপাড়া বাজার। তার মাধ্যমে গৃহকর্মীর কাজে গিয়ে তিনি এখন সেখানে চরম অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া এই নারী আকুল আবেদন জানিয়েছেন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং এই প্রতারক দালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কোনো উপায় না পেয়ে এবং দালাল চক্রের মিথ্যা আশ্বাসে পড়ে তানিয়া আক্তার সৌদি আরবে পাড়ি জমান। কিন্তু দেশটিতে পৌঁছানোর পর থেকেই তাঁর ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
তানিয়াকে প্রতিদিন টানা ১৬ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। কোনো ধরনের বিশ্রাম বা ঠিকমতো খাবার দেওয়া হচ্ছে না।
সামান্য ভুলত্রুটি হলেই তাঁকে মারধর করা হয়। প্রতিনিয়ত হুমকি ও অবহেলার কারণে তিনি এখন চরম মানসিক ট্রমা ও বিষণ্নতায় ভুগছেন।
যে দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সি মিথ্যা লোভ দেখিয়ে ও ভুল বুঝিয়ে তাঁকে এই নরককুণ্ডে ঠেলে দিয়েছে, আইনের মাধ্যমে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সহ তানিয়া আক্তারের জীবন বিপন্ন করার দায়ে দায়ী চক্রের কাছ থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায় চাচ্ছে ভুক্তভোগী সৌদিআরব প্রবাসী তানিয়া আক্তার।
তানিয়া আক্তারকে রক্ষা করতে এবং মানবপাচার ও প্রতারণায় জড়িত দালালদের আইনের আওতায় আনতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (BMET) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 



















